১
কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব
লেখকঃ শাইখ: আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায রহ., শাইখ: মুহাম্মাদ বিন সালেহ বিন উসাইমীন রহ., শাইখ: আব্দুর রায্যাক আফীফি রহ., শাইখ: আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জাবরীন রহ., শাইখ: সালেহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৫
কিয়ামতের দিন বান্দার আমলের হিসাব
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: مَنْ نُوقِشَ الْحِسَابَ عُذِّبَ “হিসাবে যাকে জেরা করা হবে, তাকেই আযাব দেয়া হবে।” হাদীসে কুদসীতে বলা হয়েছে سَتَرْتُهَا عَلَيْكَ فِي الدُّنْيَا “দুনিয়াতে আমি তোমার গুনাহকে গোপন রেখেছিলাম...।”
প্রশ্ন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: مَنْ نُوقِشَ الْحِسَابَ عُذِّبَ “হিসাবে যাকে জেরা করা হবে, তাকেই আযাব দেওয়া হবে।” [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৩৩৬] ইমাম বুখারী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন। এ হাদীস এবং অপর হাদীস - إِنَّ اللَّهَ يُدْنِي الْمُؤْمِنَ فَيَضَعُ عَلَيْهِ كَنَفَهُ وَيَسْتُرُهُ فَيَقُولُ أَتَعْرِفُ ذَنْبَ كَذَا أَتَعْرِفُ ذَنْبَ كَذَا فَيَقُولُ نَعَمْ أَيْ رَبِّ حَتَّى إِذَا قَرَّرَهُ بِذُنُوبِهِ وَرَأَى فِي نَفْسِهِ أَنَّهُ هَلَكَ قَالَ سَتَرْتُهَا عَلَيْكَ فِي الدُّنْيَا وَأَنَا أَغْفِرُهَا لَكَ الْيَوْمَ فَيُعْطَى كِتَابَ حَسَنَاتِهِ “আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনের কাছাকাছি আসবে এবং তার উপর স্বীয় পর্দা রাখবে এবং তাকে গোপন করবে। এবং বলবে তুমি কি অমুক গুনাহ সম্পর্কে জান? তুমি কি অমুক গুনাহ সম্পর্কে জান? তখন সে উত্তরে বলবে হে আমার রব হ্যাঁ। এভাবে যখন সে তার সমস্ত গুনাহ স্বীকার করবে এবং সে মনে মনে চিন্তা করবে যে, আমি ধ্বংস হয়ে গেলাম। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবে দুনিয়াতে আমি তোমার গুনাহগুলো গোপন রেখেছিলাম আজকের দিন আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম। তারপর তাকে তার নেক আমলের আমল নামা দেবে।” [বর্ণনায় সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৪৪১] —যাতে মু’মিনদের সাথে জেরা করা হয়, কীভাবে বিরোধ নিরসন করব?
উত্তর: উভয় হাদীসের মধ্যে কোন বিরোধ বা অসামঞ্জস্যতা নেই। কারণ, জেরার অর্থ হলো হিসাব গ্রহণ করা। আল্লাহ তা‘আলা তাকে যত নি‘আমত দিয়েছেন তা চাওয়া। কারণ, যে হিসাবের মধ্যে জেরা থাকে তার অর্থ হলো তুমি যেমনি-ভাবে নিয়েছে তেমনিভাবে পরিশোধ করবে। কিন্তু কিয়ামতের মু’মিনদের থেকে আল্লাহর হিসাব এ পর্যায়ের বা এ ধরনের হবে না। বরং তা হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার বান্দাদের প্রাত অনুগ্রহ ও দয়া। যখন বান্দা তার অপরাধ স্বীকার করবে তখন আল্লাহ বলবে— سَتَرْتُهَا عَلَيْكَ فِي الدُّنْيَا وَأَنَا أَغْفِرُهَا لَكَ الْيَوْمَ “দুনিয়াতে আমি তোমার জন্য গোপন করেছিলাম আর আজকের দিন আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম”। এবং জেরা শব্দটি দ্বারা এ কথাই প্রমাণ করে। কারণ, কোন কিছু নিয়ে জেরা করার অর্থ গ্রহণ করা ও ফেরত দেওয়া এবং কোন বস্তুর সূক্ষ্ম বিষয়ে অনুসন্ধান করা। আল্লাহর ক্ষেত্রে মু’মিন বান্দাদের সাথে এ ধরনের হিসাব কখনোই হবে না। বরং মু‘মিনদের জন্য আল্লাহর হিসাব হবে দয়া, ইহসান ও অনুগ্রহের ভিত্তিতে। জেরা করা, দেওয়া-নেওয়া ও ইনসাফের ভিত্তিতে নয়। আল্লাহ তা‘আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ মুহাম্মদ বিন উসাইমীন রহ.
প্রশ্ন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: مَنْ نُوقِشَ الْحِسَابَ عُذِّبَ “হিসাবে যাকে জেরা করা হবে, তাকেই আযাব দেওয়া হবে।” [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৩৩৬] ইমাম বুখারী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন। এ হাদীস এবং অপর হাদীস - إِنَّ اللَّهَ يُدْنِي الْمُؤْمِنَ فَيَضَعُ عَلَيْهِ كَنَفَهُ وَيَسْتُرُهُ فَيَقُولُ أَتَعْرِفُ ذَنْبَ كَذَا أَتَعْرِفُ ذَنْبَ كَذَا فَيَقُولُ نَعَمْ أَيْ رَبِّ حَتَّى إِذَا قَرَّرَهُ بِذُنُوبِهِ وَرَأَى فِي نَفْسِهِ أَنَّهُ هَلَكَ قَالَ سَتَرْتُهَا عَلَيْكَ فِي الدُّنْيَا وَأَنَا أَغْفِرُهَا لَكَ الْيَوْمَ فَيُعْطَى كِتَابَ حَسَنَاتِهِ “আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনের কাছাকাছি আসবে এবং তার উপর স্বীয় পর্দা রাখবে এবং তাকে গোপন করবে। এবং বলবে তুমি কি অমুক গুনাহ সম্পর্কে জান? তুমি কি অমুক গুনাহ সম্পর্কে জান? তখন সে উত্তরে বলবে হে আমার রব হ্যাঁ। এভাবে যখন সে তার সমস্ত গুনাহ স্বীকার করবে এবং সে মনে মনে চিন্তা করবে যে, আমি ধ্বংস হয়ে গেলাম। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবে দুনিয়াতে আমি তোমার গুনাহগুলো গোপন রেখেছিলাম আজকের দিন আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম। তারপর তাকে তার নেক আমলের আমল নামা দেবে।” [বর্ণনায় সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৪৪১] —যাতে মু’মিনদের সাথে জেরা করা হয়, কীভাবে বিরোধ নিরসন করব?
উত্তর: উভয় হাদীসের মধ্যে কোন বিরোধ বা অসামঞ্জস্যতা নেই। কারণ, জেরার অর্থ হলো হিসাব গ্রহণ করা। আল্লাহ তা‘আলা তাকে যত নি‘আমত দিয়েছেন তা চাওয়া। কারণ, যে হিসাবের মধ্যে জেরা থাকে তার অর্থ হলো তুমি যেমনি-ভাবে নিয়েছে তেমনিভাবে পরিশোধ করবে। কিন্তু কিয়ামতের মু’মিনদের থেকে আল্লাহর হিসাব এ পর্যায়ের বা এ ধরনের হবে না। বরং তা হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার বান্দাদের প্রাত অনুগ্রহ ও দয়া। যখন বান্দা তার অপরাধ স্বীকার করবে তখন আল্লাহ বলবে— سَتَرْتُهَا عَلَيْكَ فِي الدُّنْيَا وَأَنَا أَغْفِرُهَا لَكَ الْيَوْمَ “দুনিয়াতে আমি তোমার জন্য গোপন করেছিলাম আর আজকের দিন আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম”। এবং জেরা শব্দটি দ্বারা এ কথাই প্রমাণ করে। কারণ, কোন কিছু নিয়ে জেরা করার অর্থ গ্রহণ করা ও ফেরত দেওয়া এবং কোন বস্তুর সূক্ষ্ম বিষয়ে অনুসন্ধান করা। আল্লাহর ক্ষেত্রে মু’মিন বান্দাদের সাথে এ ধরনের হিসাব কখনোই হবে না। বরং মু‘মিনদের জন্য আল্লাহর হিসাব হবে দয়া, ইহসান ও অনুগ্রহের ভিত্তিতে। জেরা করা, দেওয়া-নেওয়া ও ইনসাফের ভিত্তিতে নয়। আল্লাহ তা‘আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ মুহাম্মদ বিন উসাইমীন রহ.