hadith book logo

কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব

লেখকঃ শাইখ: আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায রহ., শাইখ: মুহাম্মাদ বিন সালেহ বিন উসাইমীন রহ., শাইখ: আব্দুর রায্‌যাক আফীফি রহ., শাইখ: আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জাবরীন রহ., শাইখ: সালেহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৭

আল্লাহ তা‘আলা আদম আলাইহিস সালামকে স্বীয় আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন।

প্রশ্ন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, فإن الله خلق آدم على صورته “আদম আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন।” এর অর্থ কি এই যে, আদম আলাইহিস সালামের যে সব গুণাগুণ রয়েছে তা আল্লাহর জন্যও হবে?

উত্তর: সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন - فإن الله خلق آدم على صورته “‍আদম আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন।” [মুসলিম হাদীস নং 2612] ইমাম আহমাদ ও এক জামা‌আত হাদীস বিশারদদের বর্ণনায় বর্ণিত, “রহমানের আকৃতিতে।” প্রথম হাদীসে সর্বনামটি আল্লাহর পরিবর্তে ব্যবহারিত। ইমাম আহমদ, ইসহাক ইবন রাহওয়াই ও পূর্বসূরী ইমামগণ বলেন, এ ক্ষেত্রে আমাদের সে পথ চলাই ওয়াজিব যে পথ আল্লাহর অন্যান্য সিফাতের ক্ষেত্রে আমরা চলে আসছি। কোন প্রকার সাদৃস্যতা, দৃষ্টান্ত ও অকার্যকরিতা স্থাপন করা ছাড়া আল্লাহর সাথে যা প্রযোজ্য তাই মানতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী এ কথা বাধ্য করে না যে, আল্লাহর আকৃতি আদম আলাইহিস সালামের আকৃতি হতে হবে। যেমন, আল্লাহর জন্য হাত, পা, আঙ্গুল, খুশি হওয়া, রাগ হওয়া ইত্যাদি গুনাগুণ তার জন্য সাব্যস্ত করা এ কথাকে বাধ্য করে না যে, আল্লাহ তা‌‘আলাও মানুষের মতো। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা তার নিজের সম্পর্কে তিনি নিজে বা তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গুণ সম্পর্কে যে সংবাদ দিয়েছেন সে সব গুনে তিনি তার শান অনুযায়ী মাখলুকের সাথে কোন প্রকার সাদৃস ছাড়া গুনান্বিত। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, . ﴿لَيۡسَ كَمِثۡلِهِۦ شَيۡءٞۖ وَهُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡبَصِيرُ ١١﴾ [ الشورى : ١١ ] “তাঁর মত কিছু নেই আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।” [সূরা আশ-শুরা, আয়াত: ৩৭] সুতরাং আমাদের দায়িত্ব হলো যেভাবে বর্ণিত হয়েছে তা মেনে নেয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে উদ্দেশ্য নিয়েছেন সে অনুযয়ী কোন প্রকার ধরণ, প্রকৃতি ও দৃষ্টান্ত ছাড়া গ্রহণ করা।

“আদম আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তা‘আলা তার স্বীয় আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন” এ হাদীসটির অর্থ-আল্লাহ ভালো জানেন- তিনি চেহারা, কান ও চোখ বিশিষ্ট। তিনি শোনেন, দেখেন, কথা বলেন এবং যা ইচ্ছা করেন। তবে এ অর্থ দ্বারা এ কথা মানাকে বাধ্য করে না যে, তার চেহারা মাখলুকের চেহারার মতো, তার কান মাখলুকের কানের মতো এবং চোখ মাখলুকের চোখের মতো...ইত্যাদি। অনুরূপভাবে আদম আলাইহিস সালামের আকৃতি আর আল্লাহর আকৃতি একই হবে তা মানাকেও এ হাদীস বাধ্য করে না। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নিকট আল্লাহর সিফাতের ক্ষেত্রে এটি একটি সামগ্রিক ও সার্বজনিন মূলনীতি যে- আল্লাহর সিফাত সম্বোলিত কুরআনের আয়াত ও হাদীসসমূহকে কোন প্রকার বিকৃতি, ধরণ বর্ণনা করা, দৃষ্টান্ত স্থাপন করা এবং বেকার মনে করা ছাড়া তার বাহ্যিক অর্থের ওপর প্রয়োগ করতে হবে। এমনকি তারা আল্লাহর নামসমূহ ও সিফাতসমূহকে কোন প্রকার দৃষ্টান্ত ছাড়াই সাব্যস্ত করে থাকেন এবং তারা আল্লাহকে মাখলুকের সাথে সাদৃস্য হওয়া থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র সাব্যস্ত করেন। মুআত্তালা ও সাদৃস্যবাদী বিদআতীরা এ ব্যাপারে ভিন্ন মত পোষণ করে।

সুতরাং, যদিও মাখলুক ও খালেক-আল্লাহ তা‘আলা উভয়েই ইলম, চোখ ও কান থাকা বিষয়ে একই এবং অভিন্ন। মনে রাখতে হবে, মাখলুকের কান, মাখলুকের চোখ এবং মাখলুকের ইলম আল্লাহ তা‘আলার চোখ, কান ও ইলমের মতো নয়। কিন্তু যে গুনাগুনটি নিতান্তই আল্লাহর বিশেষ বৈশিষ্ট্য, তার মাখলুকের কেউ তাতে আল্লাহর সাদৃস হতে পারে না। তার মতো কোন বস্তুই নেই। আল্লাহর গুনাগুন বা সিফাত অবশ্যই পরিপূর্ণ, স্থায়ী ও অক্ষয়। কোন ভাবেই তার কোন গুন বা সিফাতের মধ্যে কোন প্রকার অপূর্ণাঙ্গতা, দূর্বলতা বা খুঁত ও ক্ষয় পরিলক্ষিত হতে পারে না। প্রক্ষান্তরে মাখলুকের গুণাগুন অর্থাৎ শোনা, দেখা এবং জানা ইত্যাদি সব গুণই ত্রুটি যুক্ত, অসম্পূর্ণ ও ক্ষণস্থায়ী। আল্লাহ তা‘আলাই তাওফীক দাতা।

শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.