১
কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব
লেখকঃ শাইখ: আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায রহ., শাইখ: মুহাম্মাদ বিন সালেহ বিন উসাইমীন রহ., শাইখ: আব্দুর রায্যাক আফীফি রহ., শাইখ: আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জাবরীন রহ., শাইখ: সালেহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫০
গণক ও যাদু করের নিকট আসা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী— من أتى عرافا فسأله عن شيء لم تقبل له صلاة أربعين ليلة “চল্লিশ দিনের সালাত কবুল করা হবে না।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী— من أتى كاهنا أو عرافا فصدقه بما يقول فقد كفر بما أنزل على محمد صلى الله عليه و سلم “মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর যা নাযিল হয়েছে তা অস্বীকার করল।”
প্রশ্ন: من أتى عرافا فسأله عن شيء لم تقبل له صلاة أربعين ليلة “যে ব্যক্তি কোন গণকের নিকট এসে তাকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল, তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল করা হবে না।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৩০] অনুরূপ হাদীস— من أتى كاهنا أو عرافا فصدقه بما يقول فقد كفر بما أنزل على محمد صلى الله عليه و سلم “যে ব্যক্তি কোন জ্যোতিষী বা গণকের কাছে আসল, এবং তার কথায় বিশ্বাস করল, সে মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর যা নাযিল হয়েছে তার প্রতি কুফরী করল।” [মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ৯৫৩২] বিশ্বাস মানুষের সাথে স্থায়ী হয় নাকি ক্ষণস্থায়ী অর্থাৎ এখন জিজ্ঞাসা করল কিছুসময় মানল, পরে আর তা মানল না। নাকি স্থায়ী হওয়া অর্থ এই যে, তাকে কেউ জিজ্ঞাসা করল এবং সে তাকে পথ দেখালও এমন....?
উত্তর: প্রথম হাদীসের শব্দে ‘তাকে বিশ্বাস করল’ কথাটি নেই। তাতে রয়েছে— من أتى عرافا فسأله عن شيء لم تقبل له صلاة أربعين ليلة “যে ব্যক্তি কোন গণকের নিকট এসে তাকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল, তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল করা হবে না” এখানে বিশ্বাস করা নেই। আর দ্বিতীয় হাদীসে বিশ্বাস করা কথাটি রয়েছে। এ ব্যক্তি কাফের হওয়ার কারণ, তার অন্তরে এ বিশ্বাস জন্মে যে, গণক বা জ্যোতিষী সত্যবাদী, তার কথা গাইবী কথা ও ভবিষ্যতবাণী। আর এগুলো সবই অর্ন্তভুক্ত করে আল্লাহর বাণীর প্রতি কুফরী করাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, قل لا يعلم من في السموت و الأرض الغيب إلا الله “বলুন, আসমানসমূহ ও জমিনের গাইব আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না।” প্রথম অবস্থায় বিশ্বাস করাই যথেষ্ট। তার অর্থ এ নয় যে, বাস্তবের সাথে ঘটনা মিলে কিনা সে পর্যন্ত অপেক্ষ করতে হবে। যদি মিলে বিশ্বাস করবে আর যদি না মিলে বিশ্বাস করবে না। যদি কোন ব্যক্তি এরকম অপেক্ষা করে এবং বলে আমি দেখব যে, গণক যা বলেছে সত্য হয় কিনা? এ ব্যক্তি বাস্তবে তাকে বিশ্বাস করল না। তবে গণকের কাছে গমনের কারণে তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল হবে না। বিশ্বাস বলা হয়, তার কথার প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা ও তাকে সত্য বলে জানা এবং এ কথা বিশ্বাস করা যে, তার কথার বাস্তবায়ন হবেই। আর যদি এ কথা বলে, আমি দেখব লোকটি সত্যবাদী কিনা মিথ্যাবাদী— একে বিশ্বাস বলে না এবং লোকটি গণককে বিশ্বাস করছে এ কথা বলা যাবে না। অনুরূপভাবে কেউ যদি গণক ও জ্যোতিষীর কাছে তার মিথ্যুক হওয়া প্রমাণ করার জন্য আসে এবং কোন কিছু জিজ্ঞাসা করে তাতে কোন গুনাহ হবে না। কারণ, ইবন সাইয়্যাদ যে গাইব জানে বলে দাবি করছিল তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পূর্ণ গোপনীয় বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, «اخْسَأْ، فَلَنْ تَعْدُوَ قَدْرَكَ» ..“চুপ থাক, তুমি গণক ছাড়া আর কিছুই নয় এবং অহীর মাধ্যমে গাইবী বিষয় জানা পর্যন্ত কখনোই পৌছবে না।” [সহীহ বুখারী হাদীন নং ১৩৫৪] আল্লাহ তা‘আল্লাই তাওফীক দাতা
শাইখ মুহাম্মদ বিন উসাইমীন রহ.
প্রশ্ন: من أتى عرافا فسأله عن شيء لم تقبل له صلاة أربعين ليلة “যে ব্যক্তি কোন গণকের নিকট এসে তাকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল, তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল করা হবে না।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৩০] অনুরূপ হাদীস— من أتى كاهنا أو عرافا فصدقه بما يقول فقد كفر بما أنزل على محمد صلى الله عليه و سلم “যে ব্যক্তি কোন জ্যোতিষী বা গণকের কাছে আসল, এবং তার কথায় বিশ্বাস করল, সে মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর যা নাযিল হয়েছে তার প্রতি কুফরী করল।” [মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ৯৫৩২] বিশ্বাস মানুষের সাথে স্থায়ী হয় নাকি ক্ষণস্থায়ী অর্থাৎ এখন জিজ্ঞাসা করল কিছুসময় মানল, পরে আর তা মানল না। নাকি স্থায়ী হওয়া অর্থ এই যে, তাকে কেউ জিজ্ঞাসা করল এবং সে তাকে পথ দেখালও এমন....?
উত্তর: প্রথম হাদীসের শব্দে ‘তাকে বিশ্বাস করল’ কথাটি নেই। তাতে রয়েছে— من أتى عرافا فسأله عن شيء لم تقبل له صلاة أربعين ليلة “যে ব্যক্তি কোন গণকের নিকট এসে তাকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল, তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল করা হবে না” এখানে বিশ্বাস করা নেই। আর দ্বিতীয় হাদীসে বিশ্বাস করা কথাটি রয়েছে। এ ব্যক্তি কাফের হওয়ার কারণ, তার অন্তরে এ বিশ্বাস জন্মে যে, গণক বা জ্যোতিষী সত্যবাদী, তার কথা গাইবী কথা ও ভবিষ্যতবাণী। আর এগুলো সবই অর্ন্তভুক্ত করে আল্লাহর বাণীর প্রতি কুফরী করাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, قل لا يعلم من في السموت و الأرض الغيب إلا الله “বলুন, আসমানসমূহ ও জমিনের গাইব আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না।” প্রথম অবস্থায় বিশ্বাস করাই যথেষ্ট। তার অর্থ এ নয় যে, বাস্তবের সাথে ঘটনা মিলে কিনা সে পর্যন্ত অপেক্ষ করতে হবে। যদি মিলে বিশ্বাস করবে আর যদি না মিলে বিশ্বাস করবে না। যদি কোন ব্যক্তি এরকম অপেক্ষা করে এবং বলে আমি দেখব যে, গণক যা বলেছে সত্য হয় কিনা? এ ব্যক্তি বাস্তবে তাকে বিশ্বাস করল না। তবে গণকের কাছে গমনের কারণে তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল হবে না। বিশ্বাস বলা হয়, তার কথার প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা ও তাকে সত্য বলে জানা এবং এ কথা বিশ্বাস করা যে, তার কথার বাস্তবায়ন হবেই। আর যদি এ কথা বলে, আমি দেখব লোকটি সত্যবাদী কিনা মিথ্যাবাদী— একে বিশ্বাস বলে না এবং লোকটি গণককে বিশ্বাস করছে এ কথা বলা যাবে না। অনুরূপভাবে কেউ যদি গণক ও জ্যোতিষীর কাছে তার মিথ্যুক হওয়া প্রমাণ করার জন্য আসে এবং কোন কিছু জিজ্ঞাসা করে তাতে কোন গুনাহ হবে না। কারণ, ইবন সাইয়্যাদ যে গাইব জানে বলে দাবি করছিল তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পূর্ণ গোপনীয় বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, «اخْسَأْ، فَلَنْ تَعْدُوَ قَدْرَكَ» ..“চুপ থাক, তুমি গণক ছাড়া আর কিছুই নয় এবং অহীর মাধ্যমে গাইবী বিষয় জানা পর্যন্ত কখনোই পৌছবে না।” [সহীহ বুখারী হাদীন নং ১৩৫৪] আল্লাহ তা‘আল্লাই তাওফীক দাতা
শাইখ মুহাম্মদ বিন উসাইমীন রহ.