hadith book logo

কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব

লেখকঃ শাইখ: আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায রহ., শাইখ: মুহাম্মাদ বিন সালেহ বিন উসাইমীন রহ., শাইখ: আব্দুর রায্‌যাক আফীফি রহ., শাইখ: আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জাবরীন রহ., শাইখ: সালেহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫১

সাহাবীগণের মধ্যে সংঘটিত বিবাদ সম্পর্কে মুসলিমদের অবস্থানের ব্যাখ্যা

সাহাবীগণের মধ্যে সংঘটি হতাহত এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী— إِذَا الْتَقَى الْمُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا فَالْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ “যখন দুইজন মুসলিম একে অপরকে তরবারি দ্বারা হত্যা করে, হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি উভয়েই জাহান্নামে যাবে”—এর মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি।

প্রশ্ন: আমি একটি মাদরাসার ইতিহাসের শিক্ষক। মাধ্যমিকের প্রথম ক্লাসে আমি সিফ্ফীন ও জামাল দুই যুদ্ধের ইতিহাস পড়ানোর সময় ছাত্রদের থেকে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হই। তারা বলে কীভাবে সাহাবীগণ পরস্পর একে অপরকে হত্যা করল? তারা রাসূলের হাদীস— إِذَا الْتَقَى الْمُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا فَالْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ “যখন দুইজন মুসলিম একে অপরকে তরবারি দ্বারা হত্যা করে, হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি উভয়েই জাহান্নামে যাবে।” [বুখারী হাদীস নং 31] তুলে ধরে। এ অবস্থায় আমাদের অবস্থান কি হবে?।

উত্তর: সাহাবীগণের মধ্যে সংঘটিত হতাহতের বিষয়ে আমাদের অবস্থান আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতেরই অবস্থান। আর তা হলো আমরা এ বিষয়ে এ কথাই বলব যে, আল্লাহ তা‘আলা আমাদের তলোয়ারকে তা থেকে বিরত রেখেছেন আমারাও তাদের বিষয়ে মুখ খোল থেকে বিরত থাকব। এ বিষয়ে একজন কবি বলেন, ....................

সাহাবীগণ সবাই মুজতাহিদ। মুতাজাহিদ হলেই সব বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত সঠিক হবে এমন কোন কথা নেই। মানুষ অনেক সময় ইজতিহাদে ভুল করে। তাদের থেকে যে বিবাদ সংঘটিত হয়েছে নিঃসন্দেহে বলা যায় তা তাদের ইজতিহাদের ভুলের কারণেই সংঘটিত হয়েছে। তারা অবশ্যই ক্ষমা প্রাপ্ত। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, إِذَا حَكَمَ الْحَاكِمُ فَاجْتَهَدَ ثُمَّ أَصَابَ فَلَهُ أَجْرَانِ وَإِذَا حَكَمَ فَاجْتَهَدَ ثُمَّ أَخْطَأَ فَلَهُ أَجْرٌ “যখন কোন বিচারক সঠিক রায় প্রদানের জন্য চেষ্টা করে তারপর সে সঠিক রায় প্রদান করে তখন তার জন্য দ্বিগুণ সাওয়া মিলবে। আর যদি কোন বিচারক সঠিক ফায়সালা দেওয়ার উদ্দেশ্যে চেষ্টা করে কিন্তু রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে সে ভূলও করে তারপরও সে একগুণ সাওয়াব পাবে।” [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৩৫২]

ছাত্রদের থেকে যখন এ প্রশ্ন আসে যে এ ধরনের ঘটনা কীভাবে সাহাবীগণের থেকে সংঘটিত হয়? তখন তার উত্তর হলো—আমাদের ওপর ওয়াজিব হলো, আমরা আমাদের জবানকে এ থেকে বিরত রাখবো এবং কোন প্রশ্ন তুলবো না। আর আমরা এ কথা বলব, তারা প্রত্যেকেই মুজতাহিদ। যার ইজতিহাদ সঠিক ছিল তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সাওয়াব আর যার ইজতিহাদ সঠিক ছিল না সে এক গুণ সাওয়াব পাবে। আল্লাহ তা‘আলাই ভালো জানেন।

শাইখ মুহাম্মদ বিন উসাইমীন রহ.