১
কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব
লেখকঃ শাইখ: আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায রহ., শাইখ: মুহাম্মাদ বিন সালেহ বিন উসাইমীন রহ., শাইখ: আব্দুর রায্যাক আফীফি রহ., শাইখ: আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জাবরীন রহ., শাইখ: সালেহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৪
সালাত ত্যাগকারীর বিধান
সালাত ত্যাগকারী কাফের হওয়া বিষয়ক হাদীসসমূহ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী— أقوام يدخلون الجنة و لم يسجدوا لله سجدة “এমন সম্প্রদায়ের লোকেরা জান্নাতে প্রবেশ করবে যারা আল্লাহর জন্য একটি সেজদাও কখনো করেনি।
প্রশ্ন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী— إنهم يدخلون الجنة و لم يسجدوا لله سجدة “এমন সম্প্রদায়ের লোকেরা জান্নাতে প্রবেশ করবে যারা আল্লাহর জন্য একটি সেজদাও কখনো করেনি” ঐ সব লোকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা সালাত ওয়াজিব হওয়া সম্পর্কে অজ্ঞ। যেমন, যদি কোন ব্যক্তি ইসলামী রাষ্ট্র থেকে দূরবর্তী স্থানে অথবা প্রত্যন্ত গ্রামে থাকে যেখানে সালাতের দাও‘আত পৌঁছেনি। অথবা বাণীটি ঐ সব লোকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা ইসলাম গ্রহণ করার পর সাথে সাথে মারা গেছেন- আল্লাহর জন্য একটি সেজদাও করতে পারেননি। এ কথাটি বলার কারণ, মূলত: হাদীসটি ঐ সব হাদীসের অর্ন্তভুক্ত যেগুলোকে মুতাসাবেহ বলা হয়। আর সালাত ত্যাগকারী হাদীস স্পষ্ট ও মুহকাম। কুরআন ও সুন্নাত দ্বারা দলীল দেয়ার ক্ষেত্রে একজন মু’মিনের ওপর ওয়াজিব হলো মুতাসাবেহকে মুহকামের ওপর প্রয়োগ করা। মুহকামকে বাদ দিয়ে মুতাশাবেহের অনুসরণ করা তাদের স্বভাব যাদের অন্তরে রয়েছে বক্রতা ও কপটতা। আল্লাহ আমাদের তা থেকে হেফাযত করুন। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿هُوَ ٱلَّذِيٓ أَنزَلَ عَلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ مِنۡهُ ءَايَٰتٞ مُّحۡكَمَٰتٌ هُنَّ أُمُّ ٱلۡكِتَٰبِ وَأُخَرُ مُتَشَٰبِهَٰتٞۖ فَأَمَّا ٱلَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمۡ زَيۡغٞ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَٰبَهَ مِنۡهُ ٱبۡتِغَآءَ ٱلۡفِتۡنَةِ وَٱبۡتِغَآءَ تَأۡوِيلِهِۦۖ وَمَا يَعۡلَمُ تَأۡوِيلَهُۥٓ إِلَّا ٱللَّهُۗ وَٱلرَّٰسِخُونَ فِي ٱلۡعِلۡمِ يَقُولُونَ ءَامَنَّا بِهِۦ كُلّٞ مِّنۡ عِندِ رَبِّنَاۗ وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّآ أُوْلُواْ ٱلۡأَلۡبَٰبِ ٧﴾ [ ال عمران : ٧ ] “তিনিই তোমার উপর কিতাব নাযিল করেছেন, তার মধ্যে আছে মুহকাম আয়াতসমূহ। সেগুলো কিতাবের মূল, আর অন্যগুলো মুতাশাবিহ্। ফলে যাদের অন্তরে রয়েছে সত্যবিমুখ প্রবণতা, তারা ফিতনার উদ্দেশ্যে এবং ভুল ব্যাখ্যার অনুসন্ধানে মুতাশাবিহ্ আয়াতগুলোর পেছনে লেগে থাকে। অথচ আল্লাহ ছাড়া কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না। আর যারা জ্ঞানে পরিপক্ক, তারা বলে, আমরা এগুলোর প্রতি ঈমান আনলাম, সবগুলো আমাদের রবের পক্ষ থেকে। আর বিবেক সম্পন্নরাই উপদেশ গ্রহণ করে।” [সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ৮] আব্দুল আসহাল গোত্রের আসীরমের ঘটনা কারো অজানা নয়। তিনি ওহুদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং শহীদ হন। তার স্বজাতি লোকেরা ময়দানের এক প্রান্তে সর্বশেষ শহীদদের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পান। তারা জিজ্ঞাসা করল, তুমি কেন তোমার স্বজাতির বিরুদ্ধে গেলে নাকি ইসলামের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করলে? বলল, না বরং আমি আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি ঈমান আনলাম। তখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বিষয়টি অবহিত করলে, তিনি বললেন, নিশ্চয় তিনি জান্নাতী। অথচ লোকটি আল্লাহর জন্য একটি সেজদাও করেননি। কিন্তু তার উত্তম পরিণতি দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা তার প্রতি দয়া করেছেন। আল্লাহর নিকট আমাদের ও তোমাদের জন্য উত্তম পরিণতি কামনা করি।
শাইখ মুহাম্মদ বিন উসাইমীন রহ.
প্রশ্ন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী— إنهم يدخلون الجنة و لم يسجدوا لله سجدة “এমন সম্প্রদায়ের লোকেরা জান্নাতে প্রবেশ করবে যারা আল্লাহর জন্য একটি সেজদাও কখনো করেনি” ঐ সব লোকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা সালাত ওয়াজিব হওয়া সম্পর্কে অজ্ঞ। যেমন, যদি কোন ব্যক্তি ইসলামী রাষ্ট্র থেকে দূরবর্তী স্থানে অথবা প্রত্যন্ত গ্রামে থাকে যেখানে সালাতের দাও‘আত পৌঁছেনি। অথবা বাণীটি ঐ সব লোকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা ইসলাম গ্রহণ করার পর সাথে সাথে মারা গেছেন- আল্লাহর জন্য একটি সেজদাও করতে পারেননি। এ কথাটি বলার কারণ, মূলত: হাদীসটি ঐ সব হাদীসের অর্ন্তভুক্ত যেগুলোকে মুতাসাবেহ বলা হয়। আর সালাত ত্যাগকারী হাদীস স্পষ্ট ও মুহকাম। কুরআন ও সুন্নাত দ্বারা দলীল দেয়ার ক্ষেত্রে একজন মু’মিনের ওপর ওয়াজিব হলো মুতাসাবেহকে মুহকামের ওপর প্রয়োগ করা। মুহকামকে বাদ দিয়ে মুতাশাবেহের অনুসরণ করা তাদের স্বভাব যাদের অন্তরে রয়েছে বক্রতা ও কপটতা। আল্লাহ আমাদের তা থেকে হেফাযত করুন। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿هُوَ ٱلَّذِيٓ أَنزَلَ عَلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ مِنۡهُ ءَايَٰتٞ مُّحۡكَمَٰتٌ هُنَّ أُمُّ ٱلۡكِتَٰبِ وَأُخَرُ مُتَشَٰبِهَٰتٞۖ فَأَمَّا ٱلَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمۡ زَيۡغٞ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَٰبَهَ مِنۡهُ ٱبۡتِغَآءَ ٱلۡفِتۡنَةِ وَٱبۡتِغَآءَ تَأۡوِيلِهِۦۖ وَمَا يَعۡلَمُ تَأۡوِيلَهُۥٓ إِلَّا ٱللَّهُۗ وَٱلرَّٰسِخُونَ فِي ٱلۡعِلۡمِ يَقُولُونَ ءَامَنَّا بِهِۦ كُلّٞ مِّنۡ عِندِ رَبِّنَاۗ وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّآ أُوْلُواْ ٱلۡأَلۡبَٰبِ ٧﴾ [ ال عمران : ٧ ] “তিনিই তোমার উপর কিতাব নাযিল করেছেন, তার মধ্যে আছে মুহকাম আয়াতসমূহ। সেগুলো কিতাবের মূল, আর অন্যগুলো মুতাশাবিহ্। ফলে যাদের অন্তরে রয়েছে সত্যবিমুখ প্রবণতা, তারা ফিতনার উদ্দেশ্যে এবং ভুল ব্যাখ্যার অনুসন্ধানে মুতাশাবিহ্ আয়াতগুলোর পেছনে লেগে থাকে। অথচ আল্লাহ ছাড়া কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না। আর যারা জ্ঞানে পরিপক্ক, তারা বলে, আমরা এগুলোর প্রতি ঈমান আনলাম, সবগুলো আমাদের রবের পক্ষ থেকে। আর বিবেক সম্পন্নরাই উপদেশ গ্রহণ করে।” [সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ৮] আব্দুল আসহাল গোত্রের আসীরমের ঘটনা কারো অজানা নয়। তিনি ওহুদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং শহীদ হন। তার স্বজাতি লোকেরা ময়দানের এক প্রান্তে সর্বশেষ শহীদদের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পান। তারা জিজ্ঞাসা করল, তুমি কেন তোমার স্বজাতির বিরুদ্ধে গেলে নাকি ইসলামের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করলে? বলল, না বরং আমি আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি ঈমান আনলাম। তখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বিষয়টি অবহিত করলে, তিনি বললেন, নিশ্চয় তিনি জান্নাতী। অথচ লোকটি আল্লাহর জন্য একটি সেজদাও করেননি। কিন্তু তার উত্তম পরিণতি দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা তার প্রতি দয়া করেছেন। আল্লাহর নিকট আমাদের ও তোমাদের জন্য উত্তম পরিণতি কামনা করি।
শাইখ মুহাম্মদ বিন উসাইমীন রহ.