১
কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব
লেখকঃ শাইখ: আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায রহ., শাইখ: মুহাম্মাদ বিন সালেহ বিন উসাইমীন রহ., শাইখ: আব্দুর রায্যাক আফীফি রহ., শাইখ: আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জাবরীন রহ., শাইখ: সালেহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫
নবীগণ শির্ক থেকে পবিত্র হওয়া সত্বেও শির্ক না করার নির্দেশ!
নবীগণের শির্ক থেকে পবিত্র হওয়া ও আল্লাহ তা‘আলার বাণী— ﴿وَلَا تَدۡعُ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَنفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَۖ ١٠٦﴾ [ يونس : ١٠٦ ] ‘‘আর আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুকে ডেকো না, যা তোমার উপকার করতে পারে না এবং তোমার ক্ষতিও করতে পারে না।” [সূরা ইউনুস, আয়াত: ১০৬]
প্রশ্ন: আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে এ কথা— ﴿وَلَا تَدۡعُ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَنفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَۖ ١٠٦﴾ [ يونس : ١٠٦ ] ‘‘আর আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুকে ডেকো না, যা তোমার উপকার করতে পারে না এবং তোমার ক্ষতিও করতে পারে না” [সূরা ইউনুস, আয়াত: ১০৬] কেন বলেছেন? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শির্ক থেকে সম্পূর্ণ নিষ্পাপ এবং তার থেকে শির্ক পাওয়া যাওয়া অসম্ভব?
উত্তর: আয়াতের বাহ্যিক বর্ণনা ভঙ্গি দ্বারা বুঝা যায় যে, এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেই সম্বোধন করা হয়েছে। কোন কোন আলেম বলেন, রাসূলকে সম্বোধন করা হয়েছে, এ কথা বলা সঠিক নয়। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শির্ক প্রকাশ পাওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব। আয়াতের শুরুতে قل শব্দটি উহ্য আছে। (তখন অর্থ হবে হে রাসূল! আপনি বলুন)। এ ব্যাখ্যাটি দুর্বল কারণ, এ দ্বারা আয়াতকে তার বর্ণনা ভঙ্গি থেকে দূরে সরানো হয়।
সঠিক উত্তর: সম্বোধনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য খাস। কিন্তু বিধানটি তার জন্য ও অন্যদের জন্য ব্যাপক। অথবা সম্বোধনটি যাদের সম্বোধন করা যায় তাদের সবার জন্য ব্যাপক। তাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের সম্বোধন রাসূলুল্লাহের প্রতি নির্দেশিত হওয়া এ কথাকে বাধ্য করে না যে, তার থেকে শির্ক পাওয়া যাওয়া সম্ভব। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿وَلَقَدۡ أُوحِيَ إِلَيۡكَ وَإِلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكَ لَئِنۡ أَشۡرَكۡتَ لَيَحۡبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ ٦٥﴾ [ الزمر : ٦٤ ] “আর অবশ্যই তোমার কাছে এবং তোমার পূর্ববর্তীদের কাছে ওহী পাঠানো হয়েছে যে, তুমি শির্ক করলে তোমার কর্ম নিষ্ফল হবেই।” [সূরা আয-যুমার আয়াত: ৬৪] ফলে সম্বোধনটি তার জন্য এবং সব নবী ও রাসূলদের জন্য যাদের থেকে শির্ক পাওয়া যাওয়া অসম্ভব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তার অবস্থান বিবেচনায় শির্ক পাওয়া যাওয়া কখনোই সম্ভব নয়। তারপরও তাকে নিষেধ করার হিকমত হলো, যাতে অন্যরা এ কথা দ্বারা উপদেশ গ্রহণ করে এবং সতর্ক হয়, যাদের থেকে শির্ক পাওয়া যাওয়া তার অবস্থান বিবেচনায় অসম্ভব তার জন্য যদি এত বড় কড়াকড়ি ও নিষেধাজ্ঞা হয়, তাহলে যারা তাদের মানের লোক নয়-নবী বা রাসূল নয়- তাদের জন্য কি ধরনের কড়াকড়ি হতে পারে?। ফলে তাদের সাবধান ও সতর্ক হওয়া তাদের তুলনায় আরো অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও শ্রেয়। আল্লাহ তা‘আলাই তাওফীক দেওয়ার মালিক এবং তিনিই অভিবাবক।
শাইখ মুহাম্মদ ইবন উসাইমীন রহ.
প্রশ্ন: আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে এ কথা— ﴿وَلَا تَدۡعُ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَنفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَۖ ١٠٦﴾ [ يونس : ١٠٦ ] ‘‘আর আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুকে ডেকো না, যা তোমার উপকার করতে পারে না এবং তোমার ক্ষতিও করতে পারে না” [সূরা ইউনুস, আয়াত: ১০৬] কেন বলেছেন? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শির্ক থেকে সম্পূর্ণ নিষ্পাপ এবং তার থেকে শির্ক পাওয়া যাওয়া অসম্ভব?
উত্তর: আয়াতের বাহ্যিক বর্ণনা ভঙ্গি দ্বারা বুঝা যায় যে, এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেই সম্বোধন করা হয়েছে। কোন কোন আলেম বলেন, রাসূলকে সম্বোধন করা হয়েছে, এ কথা বলা সঠিক নয়। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শির্ক প্রকাশ পাওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব। আয়াতের শুরুতে قل শব্দটি উহ্য আছে। (তখন অর্থ হবে হে রাসূল! আপনি বলুন)। এ ব্যাখ্যাটি দুর্বল কারণ, এ দ্বারা আয়াতকে তার বর্ণনা ভঙ্গি থেকে দূরে সরানো হয়।
সঠিক উত্তর: সম্বোধনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য খাস। কিন্তু বিধানটি তার জন্য ও অন্যদের জন্য ব্যাপক। অথবা সম্বোধনটি যাদের সম্বোধন করা যায় তাদের সবার জন্য ব্যাপক। তাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের সম্বোধন রাসূলুল্লাহের প্রতি নির্দেশিত হওয়া এ কথাকে বাধ্য করে না যে, তার থেকে শির্ক পাওয়া যাওয়া সম্ভব। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿وَلَقَدۡ أُوحِيَ إِلَيۡكَ وَإِلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكَ لَئِنۡ أَشۡرَكۡتَ لَيَحۡبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ ٦٥﴾ [ الزمر : ٦٤ ] “আর অবশ্যই তোমার কাছে এবং তোমার পূর্ববর্তীদের কাছে ওহী পাঠানো হয়েছে যে, তুমি শির্ক করলে তোমার কর্ম নিষ্ফল হবেই।” [সূরা আয-যুমার আয়াত: ৬৪] ফলে সম্বোধনটি তার জন্য এবং সব নবী ও রাসূলদের জন্য যাদের থেকে শির্ক পাওয়া যাওয়া অসম্ভব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তার অবস্থান বিবেচনায় শির্ক পাওয়া যাওয়া কখনোই সম্ভব নয়। তারপরও তাকে নিষেধ করার হিকমত হলো, যাতে অন্যরা এ কথা দ্বারা উপদেশ গ্রহণ করে এবং সতর্ক হয়, যাদের থেকে শির্ক পাওয়া যাওয়া তার অবস্থান বিবেচনায় অসম্ভব তার জন্য যদি এত বড় কড়াকড়ি ও নিষেধাজ্ঞা হয়, তাহলে যারা তাদের মানের লোক নয়-নবী বা রাসূল নয়- তাদের জন্য কি ধরনের কড়াকড়ি হতে পারে?। ফলে তাদের সাবধান ও সতর্ক হওয়া তাদের তুলনায় আরো অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও শ্রেয়। আল্লাহ তা‘আলাই তাওফীক দেওয়ার মালিক এবং তিনিই অভিবাবক।
শাইখ মুহাম্মদ ইবন উসাইমীন রহ.