১
দ্বাদশ-ইমামী শী‘আ ধর্মের মূলনীতিসমূহের সুস্পষ্ট রূপরেখা
লেখকঃ মুহিব্বুদ্দীন আল-খতিব • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩
প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস বিকৃতি
এ কথার অর্থ হল, শায়েখাইন তথা আবূ বকর ও ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) নির্ভেজাল ঈমানের অধিকারী নন?! সুতরাং তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির আওতাধীন নন?! হে আল্লাহ, তুমি পবিত্র, এটা ডাহা মিথ্যা-অপবাদ; আল্লাহ তুমি আবু বকর ও উমর এর উপর সন্তুষ্ট হউন এবং তাঁদের উপর পর্যাপ্ত রহমত ও সন্তুষ্টির ব্যবস্থা করুন, আমীন।
আর ইতঃপূর্বে ‘আল-যাহরা’ ( الزهراء ) নামক কিতাবের লেখক আল-নাজাফী সাইয়্যেদেনা ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা’র ব্যাপারে যে (আপত্তিকর) কথা বলেছে, তার আলোচনা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। তার দুই হাত ধ্বংস হউক। সে বলেছে: তিনি এমন এক জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন, পুরুষ লোকের বীর্য ব্যতীত তার চিকিৎসা হতো না [আমরা এমন লোককে শুধু এটাই বলব, নিজের দোষকে আমার উপর চাপিয়ে দিয়ে সে সটকে পড়েছে।]?!
অতএব, এই দুই শী‘আ আলেম যারা আমাদের সমসাময়িক, আর যারা ইসলাম ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর কল্যাণ ও সংস্কারের আগ্রহ ও উদ্দীপনার দাবী দীর্ঘকাল ধরে দাবী করে আসছে, যদি সম্মানিত শায়েখাইন আবূ বকর ও ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা’র ব্যাপারে আধুনিক যুগে প্রকাশিত ও প্রচারিত তাদের গ্রন্থসমূহে আকিদার অবস্থা এই আকীদা পোষণ করে, যাঁরা ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে সাধারণভাবে সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিম অথবা কমপক্ষে ইসলামের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ মুসলিমের অন্তর্ভুক্ত; তখন আমাদের মত লোকজন মাযহাবসমূহের মধ্যে সমঝোতা ও সমন্বয়ের জন্য আপোষ-মীমাংসা এবং আলাপ-আলোচনা ও মতবিনিময়ের কী আশা পোষণ করতে পারে? নাকি তারা মুসলিম দুর্গের পঞ্চম বাহিনী [পঞ্চম বাহিনী বলতে বুঝায়, শত্রুদের অনুচর।]?
আর শী‘আরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবা এবং তাবেঈন ও তাদের পরবর্তী সকল মুসলিম শাসককে এই অপমানজনক স্তরে নামিয়ে দিয়েছে, অথচ তাঁরা হলেন ঐসব ব্যক্তিবর্গ যারা ইসলামের দুর্গ প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং এই ইসলামী বিশ্বের উদ্ভাবন করেছেন; তখন তারা তাদের ইমামদেরকে এমন অবস্থানে নিয়ে গেছেন, তাদের ইমামগণ স্বয়ং সেসব অবস্থান থেকে নিজেদেরকে বিমুক্ত ঘোষণা করে থাকে। আল-কুলাইনী তার ‘আল-কাফী’ নামক গ্রন্থ যা তাদের নিকট মানের দিক থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের ‘সহীহ বুখারী’-এর মত; তাতে তিনি দ্বাদশ ইমামদের অনেক গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য লিপিবদ্ধ করেছেন যা তাদেরকে মানুষের স্তর থেকে দেব-মূর্তির যুগের গ্রীক জাতির মা‘বুদ তথা দেবতার পর্যায়ে উপনীত করেছে। আমরা যদি ‘আল-কাফী’ ও তাদের প্রথম শ্রেণীর নির্ভরযোগ্য অপরাপর গ্রন্থসমূহ থেকে উদ্ধৃতিসমূহ নকল করতে চাই, তবে তাতে এক বিশালাকারের ভলিউম তৈরি হবে। এই জন্য আমরা ‘আল-কাফী’ কিতাব থেকে শুধু ভাষ্যবিশিষ্ট কতগুলো অধ্যায়ের শিরোনাম উল্লেখ করাকে যথেষ্ট মনে করছি। যেমন:
অধ্যায় ( باب ), ইমামগণ সকল জ্ঞানে জ্ঞানী, যে জ্ঞান ফেরেশতা ও নবী-রাসূলদের কাছে ছিল। [আল-কাফী, হা.১/২৫৫ কিতাব আল-হুজ্জাত।]
অধ্যায় ( باب ), ইমামগণ জানেন তারা কখন মৃত্যু বরণ করবেন এবং তারা তাদের ইচ্ছা অনুযায়ীই মৃত্যু বরণ করবেন। [আল-কাফী, হা.১/২৫৮ কিতাব আল-হুজ্জাত।]
অধ্যায় ( باب ), ইমামগণ যা হয়েছে এবং যা হবে সবই জানেন, তাদের নিকট কোন কিছুই গোপন নেই। [আল-কাফী, হা.১/২৬০ কিতাব আল-হুজ্জাত।]
অধ্যায় ( باب ), ইমামদের নিকট সকল কিতাব বিদ্যমান আছে; তারা বিভিন্ন ভাষায় এগুলো অনুধাবন করেন। [আল-কাফী, হা.১/২২৭ কিতাব আল-হুজ্জাত।]
অধ্যায় ( باب ), শুধু ইমামগণই সম্পূর্ণ কুরআন সংকলন করেছেন এবং তারাই শুধু পুরা কুরআনের জ্ঞান রাখেন। [আল-কাফী, হা.১/২২৮ কিতাব আল-হুজ্জাত।]
অধ্যায় ( باب ), ইমামদের নিকট নবীদের নিদর্শন (মু‘জিযা)সমূহ থেকে যা কিছু আছে। [আল-কাফী, হা.১/২৩১ কিতাব আল-হুজ্জাত।]
অধ্যায় ( باب ), ইমামদের নিকট কোন সমস্যা দেখা দিলে তারা দাঊদ ও দাঊদ পরিবারের বিধান দ্বারা বিচার-ফয়সালা করে?! এবং কোন দলীল-প্রমাণ চায় না। [আল-কাফী, হা.১/২৯৭ কিতাব আল-হুজ্জাত।]
অধ্যায় ( باب ), মানুষের হাতে কোন সঠিক কিছু নেই যতক্ষণ না তা ইমামদের নিকট থেকে আসবে এবং ইমামদের নিকট থেকে যা আসে নি, এমন প্রত্যেক বস্তুই বাতিল। [আল-কাফী, হা.১/৩৯৯ কিতাব আল-হুজ্জাত।]
অধ্যায় ( باب ), সমস্ত পৃথিবীই ইমামের। [আল-কাফী, হা.১/৪০৭ কিতাব আল-হুজ্জাত।]
আর ইতঃপূর্বে ‘আল-যাহরা’ ( الزهراء ) নামক কিতাবের লেখক আল-নাজাফী সাইয়্যেদেনা ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা’র ব্যাপারে যে (আপত্তিকর) কথা বলেছে, তার আলোচনা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। তার দুই হাত ধ্বংস হউক। সে বলেছে: তিনি এমন এক জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন, পুরুষ লোকের বীর্য ব্যতীত তার চিকিৎসা হতো না [আমরা এমন লোককে শুধু এটাই বলব, নিজের দোষকে আমার উপর চাপিয়ে দিয়ে সে সটকে পড়েছে।]?!
অতএব, এই দুই শী‘আ আলেম যারা আমাদের সমসাময়িক, আর যারা ইসলাম ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর কল্যাণ ও সংস্কারের আগ্রহ ও উদ্দীপনার দাবী দীর্ঘকাল ধরে দাবী করে আসছে, যদি সম্মানিত শায়েখাইন আবূ বকর ও ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা’র ব্যাপারে আধুনিক যুগে প্রকাশিত ও প্রচারিত তাদের গ্রন্থসমূহে আকিদার অবস্থা এই আকীদা পোষণ করে, যাঁরা ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে সাধারণভাবে সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিম অথবা কমপক্ষে ইসলামের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ মুসলিমের অন্তর্ভুক্ত; তখন আমাদের মত লোকজন মাযহাবসমূহের মধ্যে সমঝোতা ও সমন্বয়ের জন্য আপোষ-মীমাংসা এবং আলাপ-আলোচনা ও মতবিনিময়ের কী আশা পোষণ করতে পারে? নাকি তারা মুসলিম দুর্গের পঞ্চম বাহিনী [পঞ্চম বাহিনী বলতে বুঝায়, শত্রুদের অনুচর।]?
আর শী‘আরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবা এবং তাবেঈন ও তাদের পরবর্তী সকল মুসলিম শাসককে এই অপমানজনক স্তরে নামিয়ে দিয়েছে, অথচ তাঁরা হলেন ঐসব ব্যক্তিবর্গ যারা ইসলামের দুর্গ প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং এই ইসলামী বিশ্বের উদ্ভাবন করেছেন; তখন তারা তাদের ইমামদেরকে এমন অবস্থানে নিয়ে গেছেন, তাদের ইমামগণ স্বয়ং সেসব অবস্থান থেকে নিজেদেরকে বিমুক্ত ঘোষণা করে থাকে। আল-কুলাইনী তার ‘আল-কাফী’ নামক গ্রন্থ যা তাদের নিকট মানের দিক থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের ‘সহীহ বুখারী’-এর মত; তাতে তিনি দ্বাদশ ইমামদের অনেক গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য লিপিবদ্ধ করেছেন যা তাদেরকে মানুষের স্তর থেকে দেব-মূর্তির যুগের গ্রীক জাতির মা‘বুদ তথা দেবতার পর্যায়ে উপনীত করেছে। আমরা যদি ‘আল-কাফী’ ও তাদের প্রথম শ্রেণীর নির্ভরযোগ্য অপরাপর গ্রন্থসমূহ থেকে উদ্ধৃতিসমূহ নকল করতে চাই, তবে তাতে এক বিশালাকারের ভলিউম তৈরি হবে। এই জন্য আমরা ‘আল-কাফী’ কিতাব থেকে শুধু ভাষ্যবিশিষ্ট কতগুলো অধ্যায়ের শিরোনাম উল্লেখ করাকে যথেষ্ট মনে করছি। যেমন:
অধ্যায় ( باب ), ইমামগণ সকল জ্ঞানে জ্ঞানী, যে জ্ঞান ফেরেশতা ও নবী-রাসূলদের কাছে ছিল। [আল-কাফী, হা.১/২৫৫ কিতাব আল-হুজ্জাত।]
অধ্যায় ( باب ), ইমামগণ জানেন তারা কখন মৃত্যু বরণ করবেন এবং তারা তাদের ইচ্ছা অনুযায়ীই মৃত্যু বরণ করবেন। [আল-কাফী, হা.১/২৫৮ কিতাব আল-হুজ্জাত।]
অধ্যায় ( باب ), ইমামগণ যা হয়েছে এবং যা হবে সবই জানেন, তাদের নিকট কোন কিছুই গোপন নেই। [আল-কাফী, হা.১/২৬০ কিতাব আল-হুজ্জাত।]
অধ্যায় ( باب ), ইমামদের নিকট সকল কিতাব বিদ্যমান আছে; তারা বিভিন্ন ভাষায় এগুলো অনুধাবন করেন। [আল-কাফী, হা.১/২২৭ কিতাব আল-হুজ্জাত।]
অধ্যায় ( باب ), শুধু ইমামগণই সম্পূর্ণ কুরআন সংকলন করেছেন এবং তারাই শুধু পুরা কুরআনের জ্ঞান রাখেন। [আল-কাফী, হা.১/২২৮ কিতাব আল-হুজ্জাত।]
অধ্যায় ( باب ), ইমামদের নিকট নবীদের নিদর্শন (মু‘জিযা)সমূহ থেকে যা কিছু আছে। [আল-কাফী, হা.১/২৩১ কিতাব আল-হুজ্জাত।]
অধ্যায় ( باب ), ইমামদের নিকট কোন সমস্যা দেখা দিলে তারা দাঊদ ও দাঊদ পরিবারের বিধান দ্বারা বিচার-ফয়সালা করে?! এবং কোন দলীল-প্রমাণ চায় না। [আল-কাফী, হা.১/২৯৭ কিতাব আল-হুজ্জাত।]
অধ্যায় ( باب ), মানুষের হাতে কোন সঠিক কিছু নেই যতক্ষণ না তা ইমামদের নিকট থেকে আসবে এবং ইমামদের নিকট থেকে যা আসে নি, এমন প্রত্যেক বস্তুই বাতিল। [আল-কাফী, হা.১/৩৯৯ কিতাব আল-হুজ্জাত।]
অধ্যায় ( باب ), সমস্ত পৃথিবীই ইমামের। [আল-কাফী, হা.১/৪০৭ কিতাব আল-হুজ্জাত।]