hadith book logo

দ্বাদশ-ইমামী শী‘আ ধর্মের মূলনীতিসমূহের সুস্পষ্ট রূপরেখা

লেখকঃ মুহিব্বুদ্দীন আল-খতিব • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪

তাকিয়্যা (التقية)-এর মাসআলা

আমাদের ও তাদের মাঝে একনিষ্ঠতার সাথে যথাযথ আলাপ-আলোচনা ও মতবিনিময়ের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম ও প্রধান প্রতিবন্ধকতা হল তাদের তথাকথিত “তাকিয়্যা” ( التقية )। [‘তাকিয়্যা’ হচ্ছে মানুষের মনের বিপরীত অভিমত প্রকাশ করা (অর্থাৎ ভিতর এক রকম, আর বাহির অন্য রকম)। আর এই ব্যাপারে তারা অনেকগুলো হাদিসকে দলীল হিসেবে পেশ করে। তন্মধ্যে একটি হাদিস তারা আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু’র থেকে নকল করেন। তাতে তিনি তাদের ধারণামতে বলেন: “তাকিয়া হচ্ছে মুমিনের সর্বোত্তম আমল, তার দ্বারা সে নিজেকে ও তার ভাইদেরকে অপরাধীদের হাত থেকে রক্ষা করে।”—দ্র. তাফসীর আল-‘আসকারী تفسير العسكري ) ), পৃ.১৬২, জাফরী প্রকাশনা, ভারত।অপর একটি হাদিস তাদের ধারণামতে পঞ্চম ইমাম মুহাম্মদ আল-বাকের বর্ণনা করেছেন। তাতে তিনি বলেন: “তাকিয়া আমার এবং আমার বাপ-দাদার ধর্ম, সুতরাং যার তাকিয়া নেই, তার ঈমান নেই।”—দ্র. আল-উসুল মিন আল-কাফী ( الأصول من الكافي ), তাকিয়া অধ্যায়, ২য় খণ্ড, পৃ.২১৯আর তাদের মুহাদ্দিসকুল শিরোমণি মুহাম্মদ ইবন আলী ইবন হোসাইন ইবন বাবুইয়া আল-কুমী তার ‘আল-ই‘তিকাদাত’ ( الاعتقادات ) নামক পুস্তিকায় উল্লেখ করেন: “তাকিয়া ওয়াজিব; যে ব্যক্তি তা ছেড়ে দিল, সে ঐ ব্যক্তির মত, যে ব্যক্তি নামায ছেড়ে দিল।” এবং তিনি আরও বলেন: “তাকিয়া ওয়াজিব; দাঁড়ানো ব্যক্তির জন্য তা রেখে দিয়ে বের হওয়া বৈধ নয়; সুতরাং যে ব্যক্তি বের হওয়ার পূর্বে তাকিয়া ছেড়ে দিল, সে যেন আল্লাহ তা‘আলা ও ইমামিয়ার দীন থেকে খারিজ হয়ে গেল এবং আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও ইমামগণের বিরুদ্ধাচরণ করল।”—দ্র. ‘আল-ই‘তিকাদাত’ ( الاعتقادات ), তাকিয়া পরিচ্ছেদ, প্রকাশকাল: ইরান ১৩৭৪হি.] কারণ, তা এক ধরনের ধর্মীয় বিশ্বাস যা তাদের জন্য তাদের মনে যা আছে, তার বিপরীত কিছু আমাদের জন্য প্রকাশ করার বৈধতা দেয়। ফলে আপোষ-মীমাংসা ও ঐক্যের ব্যাপারে আমাদের মধ্যকার সরল মনের ব্যক্তির জন্য তারা আগ্রহভরে যা প্রকাশ করে, তাতে সে রীতিমত প্রতারিত হয়। আর তারা এধরনের সমঝোতা চায় না; তাতে তারা সন্তুষ্ট নয় এবং সে জন্য তারা কোন কাজও করে না। তবে তারা চায় এ ধরনের উদ্যোগ এক পক্ষের [আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত।] মাঝেই বিদ্যমান থাকুক, অপর পক্ষ [অপর পক্ষ মানে-শী‘আ পক্ষ।] তার অবস্থান থেকে এক চুল পরিমাণও না সরে একাকিত্বের মধ্যেই অটল থাকুক। যদি তাদের মধ্য থেকে কোন কোন অভিনেতা আমাদেরকে পরিতুষ্টকরণের জন্য তাকিয়্যার ভূমিকায় অভিনয়ে উপনিত হয় এইভাবে যে, তারা আমাদেরকে উপলক্ষ্য করে কিছু পরিকল্পনা করল, তবে শী‘আদের বিশেষ ও সাধারণ শ্রেণী বলে কথা নেই, বরং তাদের সবাই—প্রত্যেকেই ঐ অভিনতার কাজ-কর্ম থেকে পৃথক থাকবে এবং যারা তাদের নামে কথা বলছে, তাদের নামে কথা বলার অধিকার তারা দিবে না।