hadith book logo

দ্বাদশ-ইমামী শী‘আ ধর্মের মূলনীতিসমূহের সুস্পষ্ট রূপরেখা

লেখকঃ মুহিব্বুদ্দীন আল-খতিব • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৫

ইমামদের মর্যাদা রাসূলের উপর

যখন তারা তাদের ইমামদের মর্যাদাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদার উপর সমুন্নত করার ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে; অথচ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ওহী আসত, পক্ষান্তরে বারো ইমামের কেউই তাদের নিজেদের জন্য ওহীর দাবি করেন নি; এমতাবস্থায় এত কিছুর পরেও আমাদের ও তাদের মাঝে কোন ধরনের ঐক্য বা সমন্বয়সম্ভব হবে, তা আমাদের বোধগম্য নয়?!

আর ইতিহাসের বিভিন্ন যুগ পর্যবেক্ষনে দেখা যায় যে, অধিকাংশ শী‘আ ইসলামী রাষ্ট্রের ব্যাপারে তাদের বিশেষ ও সাধারণ অবস্থান হচ্ছে এই যে, যখন কোন ইসলামী রাষ্ট্র শক্তিশালী ও মজবুত হয়, তখন তারা ‘তাকিয়্যা’র আকিদায় বিশ্বাসী হয়ে তাদের মৌখিক চাটুকারিতা দ্বারা তার তোষামোদ করেছে, যাতে তারা তার সুযোগ-সুবিধাগুলো শোষণ করে নিতে পারে এবং তার কেন্দ্রগুলো দখল করে নিতে পারে। অতঃপর যখন তা (ইসলামী রাষ্ট্র) দুর্বল হয়ে যাবে অথবা শত্রু কর্তৃক আক্রমনের শিকার হবে, তখন তারা আক্রমনকারীদের দলে শামিল হবে এবং উল্টো তার বিপক্ষে ভূমিকা পালন করবে। উমাইয়া খিলাফতের শেষের দিকে তাদের খলিফাদের বিরুদ্ধে যখন আব্বাসীয়রা বিদ্রোহ করল, তখন তাদের ভূমিকা এমনই ছিল। বরং তাদের বিরুদ্ধে আব্বাসীয়দের বিদ্রোহ ছিল অনেকটা শী‘আদের প্ররোচনা, উৎসাহ ও ষড়যন্ত্রের ফসল!

অতঃপর যখন আব্বাসীয় খিলাফতের অবস্থা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছিল হালাকু খান ও মূর্তিপূজক মোগলগণ কর্তৃক ইসলামী খিলাফত, গৌরবের প্রধান নগরী ও শিক্ষা-সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র দখলের মাধ্যমে, তখন আব্বাসীয় বংশের শাসকদের সাথেও তাদের এই ধরনের ন্যক্কারজনক ভূমিকা ছিল।

[হালাকু ও মূর্তিপূজক মোগলদের কাফেলায় নাসির আল-তুসী [খোমেনী তার ‘আল-হুকুমাতুল-ইসলামীয়া’ ( الحكومة الإسلامية ) নামক কিতাবের ১০৮ পৃষ্ঠায় খাজা নাসিরুদ্দীন আল-তুসী’র প্রশংসা করেছেন এবং যারা ইসলামের সুমহান খেদমতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, তাকে তাদের অন্যতম একজন বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। অনুরূপভাবে আল-খূওয়ানসারী তার ‘রওযাতুল জান্নাত’ ( روضات الجنات ) নামক কিতাবের ৫৭৯ পৃষ্ঠায় তার প্রশংসা করেছেন, যা ১৩৬৭ হিজরিতে তেহেরান থেকে প্রকাশিত।] ও ইবনুল ‘আলকামী]

অবশেষে শী‘আদের বিজ্ঞ আলেম নাসির আত-তুসী আব্বাসীয় খলিফা আল-মুসতা‘সিমের চাটুকারিতায় ৬৫৫ হিজরিতে তার পতন পর্যন্ত তাকে উৎসাহ দিয়ে এবং বাগদাদ নগরীতে ইসলামের আশু বিপদজনক পরিস্থিতি তুলে ধরে কবিতা রচনা করছিলেন। এমতাবস্থায় আগমন ঘটল অবিরাম রক্তপাতের সূচনাকারী হিসেবে হালাকু খানের! তার সাথে সে (নাসির আত-তুসী) মুসলিম নর-নারী এবং শিশু ও বৃদ্ধদের ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ পরিচালনায় ইন্ধন যোগাতে থাকে! আর ইসলামী জ্ঞানে সমৃদ্ধ কিতাবসমূহ দাজলা নদীতে ডুবিয়ে দিতে সম্মতি প্রদান করে; শেষ পর্যন্ত লিখিত কিতাবসমূহের কালিতে বহু দিন ও রাত ধরে দাজলা নদীতে কালো পানি প্রবাহিত হতে থাকে। যার কারণে ইতিহাস, সাহিত্য, ভাষা, কবিতা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শরীয়তের জ্ঞান এবং প্রথম সারির পূর্ববর্তী ইমামদের গ্রন্থসমূহসহ ইসলামী ঐতিহ্যপূর্ণ সাহিত্য সম্পদের এক বিরাট অংশ বিনষ্ট হয়ে গেছে; যা দীর্ঘকাল ধরে ঐ সময় পর্যন্ত স্বগৌরবে বিদ্যমান ছিল। ঐ সাংস্কৃতিক বিপর্যয় বা দুর্ঘটনার সময় সাহিত্য সম্পদের যে পরিমাণ ধ্বংস হয়েছে, ইতঃপূর্বের ইতিহাসে এমন দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যাবে না। [এখানে ইঙ্গিত দেয়া দরকার যে, হালাকু খানের নাতি সুলতান গাযান যখন ৬৭৭ হিজরিতে শামদেশ (বর্তমান সিরিয়া) দখল করার জন্য আগমন করে, তখন তার উযির ছিল নাসিরুলকুফর (কুফরের সাহায্যকারী) আল-তুসী’;যাকে নাসিরুদ্দিন(দীনের সাহায্যকারী) নামে শী‘আরা অভিহিত করে, তারই নাতি। সে দামেস্কে মান-ইজ্জত লুণ্ঠন, রক্তপাত ও জ্ঞানসমৃদ্ধ বই-পুস্তক চুরিসহ বহু অপকর্ম করেছে। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলা ইমাম মুজাহিদ শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাকে এই বর্বরতার বিরুদ্ধে জাতিকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য নিয়োজিত করলেন এবং আল্লাহ তাকে ৭০১ হিজরিতে ‘শকহব’ ( شقحب ) এর যুদ্ধে মুসলিমদের হাতে পরাস্ত করেন।]