hadith book logo

দ্বাদশ-ইমামী শী‘আ ধর্মের মূলনীতিসমূহের সুস্পষ্ট রূপরেখা

লেখকঃ মুহিব্বুদ্দীন আল-খতিব • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২২

খোলাফায়ে রাশেদীনের মধ্যে পরস্পর ভালবাসা ও সম্প্রীতি

[আলী রা.-এর সন্তানদের নাম : আবূ বকর, ওমর ও ওসমান]

আমীরুল মুমিনীন আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক তাঁর ভাই খোলাফায়ে রাশেদার বাকি তিন খলিফার প্রতি আন্তরিক মহব্বতের কারণে তিনি হাসান, হুসাইন ও হানাফিয়্যার সন্তানের পরবর্তী তাঁর সন্তানদের নাম তাঁদের নামে রেখেছিলেন।

সুতরাং আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু’ তাঁর সন্তানদের মধ্য থেকে একজনের নাম রেখেছেন ‘আবূ বকর’; আরেক জনের নাম রেখেছেন ‘ওমর’ এবং তৃতীয় জনের নাম রেখেছেন ‘ওসমান’। আর তিনি তাঁর বড় মেয়ে উম্মে কুলসুমকে ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু’র নিকট বিয়ে দিয়েছেন [মজার ব্যাপর হল, শী‘আদের কোন কোন কিতাবে ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু যে আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু’র কন্যকে বিয়ে করেছেন, সে কথার উল্লেখ নেই; বরং তারা উল্লেখ করে যে, তারা উম্মে কুলসুমের মত এক মহিলাকে তাঁর (ওমরের) স্ত্রী’র অন্তর্ভুক্ত করে...। আর এটা হল যেমন প্রবাদে বলা হয়: “তার চোখে দিতে চাইলো সুরমা, অতঃপর তাকে করে দিল কানা”!! তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, আবূ লুলু আল-মাজুসী কর্তৃক ওমর রা শাহাদাত বরণ করার পর তার চাচাত ভাই মুহাম্মদ ইবন জাফর কি আসল উম্মে কুলসুমকে বিয়ে করেছিলেন, নাকি নকল উম্মে কুলসুমকে বিয়ে করেছিলেন?! অনুরূপভাবে তিনি (মুহাম্মদ ইবন জাফর) যখন মারা গেলেন, তখন তার ভাই ‘আউন কি উম্মে কুলসুমকে বিয়ে করেছিলেন, নাকি তার মত অন্য কাউকে!?আর কুলাইনী যুরারা থেকে বর্ণিত একটি হাদিসের উল্লেখ করেছে। সে উম্মে কুলসুমের বিয়ের ব্যাপারে আবূ আবদিল্লাহ আ. থেকে বর্ণনা করে। সে বলল: “এই লজ্জাস্থানটি আমাদের নিকট থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে।”— এ প্রসঙ্গে দেখুন, ‘আল-কাফী ফিল-ফুরু‘’ ( الكافي في الفروع ), হা.১, পৃ. ১৪১, ভারতীয় প্রকাশনা।বরং আল-তুসী তার ‘তাহযীবুল-আহকাম’ ( تهذيب الأحكام ) নামক কিতাবের হা.২/৩৮০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন যে, উম্মে কুলসুম ও তাঁর ছেলে যায়েদ ইবন ওমর ইবনুল খাত্তাব উভয়ে একই সময় মারা গেছেন এবং তারা একে অপরের জন্য কোন উত্তরাধিকার রেখে যান নি...। সুতরাং কিভাবে বিয়ের ঘটনাকে অস্বীকার করবে এবং দুর্বল বর্ণনা পেশ করার মাধ্যমে ওমর ইবনুল খাত্তাবের জন্য উম্মে কুলসুমের সদৃশ কাউকে স্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করবে!!] এবং তাঁর (ওমর) শাহাদাতের পর তাঁকে বিয়ে করেছেন তাঁর চাচার ছেলে (চাচাত ভাই) মুহাম্মদ ইবন জা‘ফর ইবন আবি তালিব। অতঃপর তিনি তাঁকে (উম্মে কুলসুমকে) রেখে মারা গেলেন; অতঃপর তাঁকে বিয়ে করেন তার ভাই ‘আউন ইবন জাফর এবং তার নিকটেই উম্মে কুলসুম মারা করেন।

আর আবদুল্লাহ ইবন জাফর (যুল জানাহাইন) ইবন আবি তালিব তার এক ছেলের নাম রাখেন ‘আবূবকর’ এবং অপর এক ছেলের নাম রাখেন ‘মু‘আবিয়া’।

আর এই মু‘আবিয়া অর্থাৎ মু‘আবিয়া ইবন আবদুল্লাহ ইবন জাফর ইবন আবি তালিব তার এক ছেলের নাম রাখেন ‘ইয়াযিদ’। কারণ, তিনি ইয়াযিদকে উত্তম চরিত্রের মানুষ বলে জানতেন [এই ইজতিহাদের মধ্যে ত্রুটি রয়েছে; কারণ, মু‘আবিয়া ইবন আবদুল্লাহ ইবন জাফর ইবন আবি তালিব ইয়াযিদ ইবন মু‘আবিয়া ইবন আবি সুফিয়ানের নামেই তার ছেলের নাম রেখেছেন, এমন কোন প্রমাণ নেই। আর ইয়াযিদ নামটি আরবের মাঝে একটি প্রসিদ্ধ নাম। তাদের মধ্যে ইয়াযিদ ইবন মু‘আবিয়া’র চাচা ইয়াযিদ ইবন আবি সুফিয়ান ছিলেন বিজয়ী সেনাপতি, সম্মানিত সাহাবী।]; যেমনিভাবে এই বিষয়টিকে সমর্থন করেছেন মুহাম্মদ ইবন হানাফীয়া ইবন আলী ইবন আবি তালিব।