১
দ্বাদশ-ইমামী শী‘আ ধর্মের মূলনীতিসমূহের সুস্পষ্ট রূপরেখা
লেখকঃ মুহিব্বুদ্দীন আল-খতিব • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৯
নুসাইরিয়া ফির্কার উদ্ভব
অতঃপর তাদের শয়তানদের মধ্য থেকে বনী নুমাইর গোত্রের দাসদের মধ্য থেকে মুহাম্মদ ইবন নাসির নামক এক শয়তান তাদের জন্য এক অভিনব দর্শন আবিষ্কার করল যে, হাসান আল-‘আসকারী’র এক সন্তান রয়েছে, যে তার পিতার ভূগর্ভস্থ কক্ষে [তার পিতার ঘরের মধ্যে যদি ভূগর্ভস্থ কক্ষ থাকে, তবে তারা তো সে কক্ষ থেকে অনেক দূরে এবং তাদের জন্য সেখানে প্রবেশের কোন অধিকার নেই; কারণ, তার নিয়ন্ত্রণ হাসান আল-‘আসকারী’র ভাই জাফরের হাতে। আর তিনি অকপটে স্বীকৃতি দিচ্ছেন যে, হাসান আল-‘আসকারী’র কোন সন্তান নেই; কল্পিত ভূগর্ভস্থ কক্ষের মধ্যেও ছিল না, তার বাইরেও ছিল না। আর যদি বলা হয় যে, সে ভূগর্ভস্থ অনেক কক্ষে লুকায়িত আছে তবে সেটা থেকে তারা কিভাবে তাকে খুঁজে বের করবে!?] লুকায়িত; যাতে সে এবং তার সঙ্গী-সাথীরা সাধারণ শী‘আগণকে ধোঁকা দিতে সক্ষম হয়; আরও ধোঁকা দিতে সক্ষম হয় তাদের ধনীদেরকে বিদ্যমান (ভূগর্ভস্থ কক্ষে লুকায়িত) ইমামের নামে তাদের নিকট থেকে যাকাত আদায়করণ দ্বারা! আর তারা তাদের মিথ্যা দাবির সাথে সর্বদা সম্পর্ক রাখল এই বলে যে, তারা নিজেরাও ইমামীয়া’র অন্তর্ভুক্ত। আর সে (মুহাম্মদ ইবন নাসির) পরিকল্পনা করল যে, সে হবে তার সম্প্রদায় ও কথিত ইমামের মধ্যে কল্পিত ভূগর্ভস্থ কক্ষের ‘দরজা’ ( الباب ) এবং যাকাতের নামে আদায়কৃত সকল সম্পদের মালিক; কিন্তু এই ষড়যন্ত্রের সকল কুচক্রীমহল তার শয়তান বন্ধুরা তার বিরোধিতা করল এবং তারা সিদ্ধান্ত নিল যে, ‘দরজা’ ( الباب ) হবে একজন তেল বা ঘি বিক্রেতা, হাসান আল-‘আসকারী ও তার পিতার ঘরের দরজায় যার একটি দোকান রয়েছে; এবং তারা যার নিকট থেকে তাদের আবাসিক প্রয়োজন মিটাত। সুতরাং যখন তাদের মধ্যে এই মতবিরোধ দেখা দিল, তখন তাদের নিকট থেকে এই ষড়যন্ত্রের আবিষ্কারক পৃথক হয়ে তার নিজের নামে ‘নুসাইরীয়া’ [বর্তমানে সিরিয়ায় সংখ্যালঘু নুসাইরিয়া সম্প্রদায় রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। [সম্পাদক]] মতবাদ প্রতিষ্ঠা করে।