hadith book logo

দ্বাদশ-ইমামী শী‘আ ধর্মের মূলনীতিসমূহের সুস্পষ্ট রূপরেখা

লেখকঃ মুহিব্বুদ্দীন আল-খতিব • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২১

মুসলিমদের বন্ধুত্ব ও সুসম্পর্ক

মুসলিমগণ বিশুদ্ধ ঈমানের অধিকারী প্রত্যেক মুমিনকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে থাকে। আর আলে বাইতের (নবী পরিবারের) সকল সৎলোক এই নিয়ামতের অন্তর্ভুক্ত, যারা কোন নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। আর মুমিনগণ যাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন, সেই তালিকার শীর্ষে যাঁরা আছেন, তারা হলেন সেই দশজন যাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতের সুসংবাদ দান করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ঐ দশজনকে জান্নাতের অধিবাসী বলে ঘোষণা করেছেন, শী‘আগণ কর্তৃক তাঁর (নবীর) এই ঘোষণার বিরোধিতা করাটাই তাদের কাফের হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে যথেষ্ট। অনুরূপভাবে মুসলিমগণ সকল সাহাবীকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন, যাদের কাঁধের উপর ভর করে ইসলাম ও ইসলামী বিশ্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামী দেশের মাটিতে যাদের রক্ত ঝরার কারণেই সেখানে আজ সত্য ও কল্যাণের বৃক্ষ জন্মেছে। এমন শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিবর্গের নামেই শী‘আরা আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ও তাঁর সন্তানদের দোহাই দিয়ে মিথ্যাচার করে বলে যে, তাঁরা (সাহাবাগণ) তাঁদের (আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ও তাঁর সন্তানদের) শত্রু; অথচ তাঁরা আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু’র সাথে পরস্পরের প্রতি ভালবাসা ও সহযোগিতায় ভাই ভাই হয়ে জীবনযাপন করেছেন এবং পরস্পরের প্রতি ভালবাসা ও সহযোগিতায় ভাই ভাই হয়েই মৃত্যুবরণ করে করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কিতাবের সূরা ‘আল-ফাতহ’-এর মধ্যে তাঁদের ব্যাপারে কত চমৎকার গুণাবলীর প্রশংসা করেছেন। তিনি তাঁদের ব্যাপারে বলেছেন:

﴿أَشِدَّآءُ عَلَى ٱلۡكُفَّارِ رُحَمَآءُ بَيۡنَهُمۡۖ﴾ [ سورة الفتح : 29]

“তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল।”— (সূরা আল-ফাতহ: ২৯)

সূরা ‘আল-হাদীদে’ বলেছেন:

﴿وَلِلَّهِ مِيرَٰثُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۚ لَا يَسۡتَوِي مِنكُم مَّنۡ أَنفَقَ مِن قَبۡلِ ٱلۡفَتۡحِ وَقَٰتَلَۚ أُوْلَٰٓئِكَ أَعۡظَمُ دَرَجَةٗ مِّنَ ٱلَّذِينَ أَنفَقُواْ مِنۢ بَعۡدُ وَقَٰتَلُواْۚ وَكُلّٗا وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلۡحُسۡنَىٰۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ خَبِيرٞ﴾ [ سورة الحديد : 10]

“আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর মালিকানা তো আল্লাহরই। তোমাদের মধ্যে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে, তারা ও পরবর্তীরা সমান নয়। তারা মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ ওদের অপেক্ষা, যারা পরবর্তী কালে ব্যয় করেছে। তবে আল্লাহ উভয়ের কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তোমরা যা কর আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত।”— (সূরা আল-হাদীদ: ১০)

আর আল্লাহ্ তিনি কি তাঁর প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করবেন? সূরা ‘আলে ইমরান’-এর মধ্যে তিনি আরও বলেছেন:

﴿كُنتُمۡ خَيۡرَ أُمَّةٍ أُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ﴾ [ سورة ال عمران : 110]

“তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির (কল্যাণের) জন্য তোমাদের আভির্বাব হয়েছে। — (সূরা আলে ইমরান: ১১০)