hadith book logo

দ্বাদশ-ইমামী শী‘আ ধর্মের মূলনীতিসমূহের সুস্পষ্ট রূপরেখা

লেখকঃ মুহিব্বুদ্দীন আল-খতিব • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২০

দরজা ও ভূগর্ভস্থ কক্ষের কাহিনী

পক্ষান্তরে মুহাম্মাদ ইবন নুসাইর এর সঙ্গী-সাথীগণ তাদের কথিত দ্বাদশ ইমামকে প্রকাশ করার জন্য আরেকটি নতুন কৌশল পাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল; সে পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা চাইল তার জন্য একটি বিয়ের ব্যবস্থা করবে, যাতে তার ছেলে এবং নাতী হতে পারে, যারা ইমামীয়া সম্প্রদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করবে; আর তাদের মাধ্যমেই ইমামীয়া সম্প্রদায়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। কিন্তু যখন তাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল যে, এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করাটা অচিরেই তাকে আলীবংশীয় নেতৃবৃন্দ ও সকল আলীবংশীয়গণ এবং তাদের চাচাতো ভাই বনী আব্বাসের খলিফা ও তাদের নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার দিকে নিয়ে যাবে; তাই তারা বলল যে, তিনি ভূগর্ভস্থ কক্ষের মধ্যে বিদ্যমান আছেন এবং তার ছোট ও বড় দু’টি অন্তর্ধান রয়েছে ... ইত্যাদি ইত্যাদি; যে ধরনের কাহিনী কোন দিন কোথাও এমনকি গ্রিকদের পৌরাণিক কাহিনীসমূহেও শোনা যায় নি। এরপরও আল্লাহ তা‘আলা যাদেরকে স্বীয় নিয়ামত দ্বারা ধন্য করেছে, ঐসব মুসলিম ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে কি তারা আশা করে যে, তারা এসব মিথ্যা-বানোয়াট কাহিনীকে সত্য বলে মেনে নেবে, যাতে তাদের এবং শী‘আদের মাঝে একটা মিল-মিশ ও ঐক্য সাধন করা যায়?! অসম্ভব, অসম্ভব! যদি-না গোটা ইসলামী বিশ্ব তার অবস্থান পরিবর্তন করে মানসিক রোগ চিকিৎসার একটি “পাগলা গারদে” রূপান্তরিত না হয়ে যায়!! আর আকল বা বিবেকের মত নিয়ামত দান করার কারণে সকল প্রশংসা নিবেদিত আল্লাহ তা‘আলার জন্য; কেননা, তা-ই হল দায়িত্ব অর্পন করার মানদণ্ড। আর তা বিশুদ্ধ ঈমানের পরপরই সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও সম্মানজনক নিয়ামত।