hadith book logo

দ্বাদশ-ইমামী শী‘আ ধর্মের মূলনীতিসমূহের সুস্পষ্ট রূপরেখা

লেখকঃ মুহিব্বুদ্দীন আল-খতিব • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৩

কেন আমরা তাদের সাথে সম্পর্কচ্যুতি করব?

আমাদের ও শী‘আদের মধ্যে ঐক্য প্রচেষ্টার বিনিময়স্বরূপ যদি এখন আমাদেরকে তাদের ইচ্ছামত নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে সম্পর্কচ্যুতি করতে হয়; তবে তাদের প্রথম ইমাম আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু’র জন্য তাঁর সন্তানদের নাম আবূ বকর, ওমর ও ওসমান রাখাটা ভুল হত; তার জন্য আরও বড় ভুল হত তাঁর কন্যাকে ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু’র নিকট বিয়ে দেওয়াটা; আর মুহাম্মদ ইবন হানফীয়া কর্তৃক ইয়াযিদের পক্ষে সাক্ষ্যপ্রদানে মিথ্যাবাদী হতেন। যখন ইবন যুবায়েরের প্রচারক আবদুল্লাহ ইবন মুতি‘ তার নিকট আগমন করল এবং তাকে বলল যে, ইয়াযিদ মদ পান করে, নামায তরক করে এবং কিতাবের বিধান লঙ্ঘন করে; তখন মুহাম্মদ ইবন আলী ইবন আবি তালিব তাকে বললেন, (যার বর্ণনা ‘বেদায়া ওয়ান নেহায়া’ ( البداية و النهاية ) গ্রন্থের ৮ম খণ্ডের ২৩৩ পৃষ্ঠায় এসেছে:) “তোমরা যা বলেছ, আমি তার কাছ থেকে তেমন কিছু দেখিনি; আমি তার নিকট হাযির হয়েছি এবং তার নিকট অবস্থান করেছি; অতঃপর আমি তাকে দেখেছি নামাযে নিয়মিত, কল্যাণকর বিষয়ে চিন্তাশীল, ইলমে ফিকহ সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখেন এবং সুন্নাতের অনুসারী।”

ইবন মুতি‘ ও তার সঙ্গী-সাথীরা বলল: সে এসব কিছু তোমাকে দেখানোর জন্য করেছে।

তিনি বললেন: “আমার থেকে সে কী এমন ভয় বা আশা করল যে, আমাকে দেখানোর জন্য সে খুশু বা বিনয় প্রকাশ করবে? মদ পান করার ব্যাপারে তোমরা যা বর্ণনা করেছ, সে ব্যাপারে সে কি তোমাদেরকে জানিয়েছে? সে যদি তোমাদেরকে এই বিষয়ে জানিয়ে থাকে, তবে তোমরাও তার সহযোগী! আর সে যদি তোমাদেরকে না জানিয়ে থাকে, তবে তোমরা যে বিষয়ে জান না, সে বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়া তোমাদের জন্য বৈধ নয়।”

তারা বলল, আমরা তাকে না দেখলেও এ বিষয়টি সত্য।

তিনি তাদেরকে বললেন: সাক্ষ্যদাতাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা তা নিষেধ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন:

﴿إِلَّا مَن شَهِدَ بِٱلۡحَقِّ وَهُمۡ يَعۡلَمُونَ ٨٦﴾ [ سورة الزخرف : 86]

“তবে যারা সত্য উপলব্ধি করে তার সাক্ষ্য দেয়, তারা ব্যতীত।”—(সূরা আল-যুখরুফ: ৮৬); আর আমি তোমদের কোন কিছুর ব্যাপারেই ওয়াকিফহাল নই”... শেষ পর্যন্ত।

সুতরাং মুহাম্মদ ইবন আলী ইবন আবি তালিব ইয়াযীদের ব্যাপারে যে সাক্ষ্য দিলেন, তার অবস্থা যখন এই, তখন শী‘আরা আমাদের নিকট তার (ইয়াযীদের) পিতার [অর্থাৎ সাইয়্যেদুনা মু‘আবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু।] সাথে পিতার সাথে আমাদের যে সম্পর্ক চাচ্ছে তার বাস্তবতা কোথায়? অনুরূপভাবে শী‘আদের সাথে ঐক্যের দাবী অনুসারে ঐসব ব্যক্তিবর্গের সাথে আমাদের কী অবস্থা হবে, যারা তার (ইয়াযীদের) পিতা ও আল্লাহর সকল সৃষ্টির চেয়ে উত্তম? অর্থাৎ আবূ বকর, ওমর, ওসমান, তালহা, যুবায়ের, আমর ইবনুল ‘আস এবং সকল বিশেষজ্ঞ সাহাবীগণ যারা আমাদের জন্য আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতকে হেফাযত বা সংরক্ষণ করেছেন এবং আমাদের জন্য এই ইসলামী বিশ্বকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যাতে আমরা বসবাস করছি (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন)।

শী‘আরা তাদের পক্ষ থেকে ঐক্য বা তথা সমন্বয় সাধনের উদ্দেশ্য আমাদের নিকট যে বিনিময় চায়, তা খুবই চড়া; তাতে আমরা সবকিছু হারাব এবং তার বিনিময়স্বরূপ আমরা কিছুই গ্রহণ করতে পারব না। আর আহাম্মক তো সেই ব্যক্তি, যে এমন ব্যক্তির সাথে লেনদেন করে, যে তাকে ঠকাতে চায় জেনেও তার সাথে লেন-দেনে সম্মত হয়।

যে বন্ধুত্ব ও সম্পর্কচ্যুতির উপর শী‘আ মতাদর্শ প্রতিষ্ঠিত, যা নাসির আত-তুসী নির্ধারণ করেছে এবং যার সমর্থন করেছে নিয়ামত উল্যাহ আল-মূসাওয়ী ও আল-খুওয়ানসারী; তার আসল মানে হল ইসলাম ধর্মকে পরিবর্তন করা এবং যাঁদের কাঁধের উপর ভর করে ইসলামের প্রাসাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাঁদের সাথে শত্রুতা করা।

তারা এই ক্ষেত্রে মিথ্যা দাবি করে যে, তাদের দলই একমাত্র দল, যারা সার্বিক দিক বিবেচনায় সকলের চেয়ে ব্যতিক্রম।