hadith book logo

সালাত আদায়ের পদ্ধতি

লেখকঃ ড. সায়িদ ইবন আলী ইবন ওহাফ আল-কাহতানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩

৯. সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত করা:

﴿ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ١ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ٢ مَٰلِكِ يَوۡمِ ٱلدِّينِ٣ إِيَّاكَ نَعۡبُدُ وَإِيَّاكَ نَسۡتَعِينُ٤ هۡدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ٥ صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنۡعَمۡتَ عَلَيۡهِمۡ٦ غَيۡرِ ٱلۡمَغۡضُوبِ عَلَيۡهِمۡ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ ٧﴾ [ الفاتحة :1-7 ]

কারণ, উবাদা ইবন সাবেদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب» .

“যে ফাতিহা পড়ল না, তার কোনো সালাত নেই”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৫৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৯৪।]

প্রত্যেক মুসল্লির সূরা ফাতিহা পড়া ওয়াজিব, জেহরী বা সিররী উভয় সালাতের মুক্তাদিগণ এ নিদের্শের অন্তর্ভুক্ত। কারণ, উবাদা থেকে বর্ণিত পূর্বের মারফূ হাদীসে রয়েছে:

«لعلكم تقرؤون خلف إمامكم ) قلنا : نعم، هذًّا يا رسول الله : ، قال : لا تفعلوا إلا بفاتحة الكتاب؛ فإنه لا صلاةَ لمن لم يقرأْ بها»

“হয়তো তোমরা ইমামের পিছনে তিলাওয়াত কর। আমরা বললাম: হ্যাঁ, দ্রুত পড়ি হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: إلا بفاتحة الكتاب؛ فإنه لا صلاةَ لمن لم يقرأْ بها ফাতিহা ব্যতীত অন্য কিছু পড় না। কারণ, যে ফাতিহা পড়বে না তার কোনো সালাত নেই”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ৮২৩; তিরমিযী, হাদীস নং ৩১১; আহমদ: (১/৩২২); ইবন হিব্বান: (৩/১৩৭)। হাফেয ইবন হাজার ‘তালখিসুল হাবির’ (১/২৩১) গ্রন্থে বলেন: “এ হাদীসটি আবু দাউদ, দারাকুতনী, তিরমিযী, ইবন হিব্বান, হাকেম ও বায়হাকী সহীহ বলেছেন”।]

মুহাম্মাদ ইবন আবি আয়েশা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«لعلكم تقرؤون والإمام يقرأ»؟

“খুব সম্ভব ইমামের তিলাওয়াত করার সময় তোমরাও তিলাওয়াত কর”। তারা বলল: আমরা এরূপ করি। তিনি বললেন:

«لا، إلا أن يقرأ أحدكم بفاتحة الكتاب»

“এরূপ কর না, তবে তোমাদের কেউ ফাতিহা পড়লে ভিন্ন কথা”। [আমহদ: (৫/৪১০), ইবন হাজার ‘তালখিুসুল হাবির’: (১/২৩১) গ্রন্থে বলেন: “এ হাদীসের সনদ হাসান”।]

তবে যে মসবুক ইমামকে রুকু অবস্থায় পায় তার থেকে ফাতিহা পড়ার আবশ্যকতা উঠে যাবে। কারণ আবু বকরার হাদীসে রয়েছে, তিনি যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌছেন, তখন তিনি রুকু অবস্থায় ছিলেন, আবু বকরা কাতারে শামিল না হয়েই রুকু করেন, এ ঘটনা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললে, তিনি বলেন, “আল্লাহ তোমার আগ্রহ বাড়িয়ে দিন, তবে এরূপ কখনো কর না”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৮৩।] এখানে লক্ষ্য করছি, সে যে রাকাতের রুকু পেয়েছে, সে রাকাতের কিরাত তাকে কাজা করার নির্দেশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেন নি, যদি কিরাতবিহীন সে রাকাত অশুদ্ধ হত, তবে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ তাকে পুনরায় তা আদায় করার নির্দেশ দিতেন।

মুক্তাদিরা যদি ভুলে যায় অথবা না জানে, তাহলে তাদের থেকে সূরা ফাতিহা পড়ার আবশ্যকতা রহিত হয়ে যাবে।