১
সালাত আদায়ের পদ্ধতি
লেখকঃ ড. সায়িদ ইবন আলী ইবন ওহাফ আল-কাহতানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৬
৩২. সুনানে রাওয়াতিবগুলো পড়বে।
কারণ, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জোহরের পূর্বে চার রাকাত ও ফজরের পূর্বে দু’রাকাত কখনো ত্যাগ করতেন না”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৮২।] উম্মুল মুমিনীন উম্মে হাবিবা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শোনেছি: “যে ব্যক্তি দিন ও রাতে বার রাকাত সালাত পড়বে, এর পরিবর্তে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে ঘর নির্মাণ করবেন”। অপর বর্ণনায় আছে: “এমন কোনো মুসলিম বান্দা নেই যে প্রতি দিন বার রাকাত নফল সালাত আদায় করে, কিন্তু আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে ঘর নির্মাণ করবেন না, অথবা তার জন্য জান্নাতে ঘর নির্মাণ করা হবে না”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭২৮।] এর ব্যাখ্যায় ইমাম তিরমিযী বাড়িয়ে বলেন, “চার রাকাত জোহরের পূর্বে ও দু’রাকাত জোহরের পর, দু’রাকাত মাগরিবের পর, দু’রাকাত এশার পর ও দু’রাকাত ফজরের পূর্বে”। [তিরমিযী, হাদীস নং ৪১৫।]
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দশ রাকাত মুখাস্ত করেছি: দু’রাকাত জোহরের পূর্বে ও দু’রাকাত জোহরের পর, মাগরিবের পর দু’রাকাত তার ঘরে, এশার পর দু’রাকাত তার ঘরে এবং ফজরের পূর্বে দু’রাকাত”। অপর বর্ণনায় আছে: “জুমার পর দু’রাকাত তার ঘরে”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭২৯।]
অতএব, সুনানে রাওয়াতেব দশ রাকাত, যেমন ইবন উমার বলেছেন, অথবা বার রাকাত যেমন উম্মে হাবিবা ও আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন। আমাদের শাইখ আল্লামা ইবন বাযকে বলতে শোনেছি: “যারা ইবন উমারের হাদীস গ্রহণ করেছে, তারা বলে সুন্নত দশ রাকাত, আর যারা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদীস গ্রহণ করে, তারা বলে সুন্নত বারো রাকাত। ইমাম তিরমিযীর ব্যাখ্যা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদীসকে শক্তিশালী করে, আর উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদীস এসব সুন্নতের ফযীলত বর্ণনা করে। হয়তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো বার রাকাত পড়েছেন, যেমন আয়েশা ও উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমার হাদীসে আছে, কখনো দশ রাকাত পড়েছেন, যেমন ইবন উমার থেকে বর্ণিত হাদীসে আছে। যখন আগ্রহ ও স্পৃহা থাকে বারো রাকাত পড়বে, আর যখন ব্যস্ততা থাকে দশ রাকাত পড়বে। তবে সবগুলো সুন্নতে রাওয়াতেব, হ্যাঁ পূর্ণতা হচ্ছে আয়েশা ও উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমার হাদীস মোতাবেক বারো রাকাত পড়া”। [বুলুগুল মারামের (৩৭৪) নং হাদীসের ব্যাখ্যার সময় তার মুখে এ কথাগুলো আমি শ্রবণ করি।]
যদি কোনো মুসলিম জোহরের পূর্বে চার রাকাত ও জোহরের পর চার রাকাত পড়ার ইচ্ছা করে আল্লাহ তার ওপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেবেন। যেমন, উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শোনেছি, তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি জোহরের পূর্বে চার রাকাত ও জোহরের পর চার রাকাত নিয়মিত পড়বে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দেবেন”। [আহমদ: (৬/৩২৬), আবু দাউদ, হাদীস নং ১২৬৯; তিরমিযী, হাদীস নং ৪২৭; নাসাঈ, হাদীস নং ১৮১৪; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১১৬০; সহীহ সুনান ইবন মাজাহ: (১/১৯১)। আমি আল্লামা ইবন বাজ রহ. কে বুলুগুল মারামের (৩৮১) নং হাদীসের ব্যাখ্যায় বলতে শোনেছি: “এ হাদীসের সনদ খুব সুন্দর, তবে ইবন উমার ও আয়েশার হাদীসে যা রয়েছে, তার উপর রাসূলের নিয়মিত আমল ছিল”। আমি বলি: আমি তাকে জীবনের শেষ বয়সেও দেখেছি, তিনি বসে বসে জোহরের আগে চার রাকাত ও জোহরের পরে চার রাকাত পড়তেন, আল্লাহ তার ওপর রহম করুন।]
যদি কোনো মুসলিম আসরের পূর্বে চার রাকাত পড়ার ইচ্ছা করে, আল্লাহ তার ওপর রহম নাযিল করবেন। ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«رحم الله امرءًا صلى أربعًا قبل العصر»
“আল্লাহ সে ব্যক্তির ওপর রহম করুন, যে আসরের পূর্বে চার রাকাত সালাত আদায় করল”। [আহমাদ: (২/১১৭), আবু দাউদ, হাদীস নং ১২৭১; তিরমিযী, হাদীস নং ৪৩০; সহীহ ইবন খুজাইমা, হাদীস নং ১১৯৩), সহীহ সুনান আবু দাউদ: ১/২৩৭। আমি আল্লামা ইবন বায রহ.-কে বলতে বুলুগুল মারামের (৩৮২) নং হাদীসের ব্যাখ্যায় বলতে শোনেছি: “এ হাদীসের সনদ গ্রহণ করাতে কোনো সমস্যা নেই, এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, আসরের পূর্বে চার রাকাত পড়া বৈধ ও সুন্নত, তবে এটা সুন্নতে রাতেব নয়, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলো এটা নিয়মতি পড়েন নি। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের পূর্বে দু’রাকাত পড়তেন। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আসরের পূর্বে দু’রাকাত অথবা চার রাকাত পড়া মুসলিমদের জন্য মুস্তাহাব”।]
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দশ রাকাত মুখাস্ত করেছি: দু’রাকাত জোহরের পূর্বে ও দু’রাকাত জোহরের পর, মাগরিবের পর দু’রাকাত তার ঘরে, এশার পর দু’রাকাত তার ঘরে এবং ফজরের পূর্বে দু’রাকাত”। অপর বর্ণনায় আছে: “জুমার পর দু’রাকাত তার ঘরে”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭২৯।]
অতএব, সুনানে রাওয়াতেব দশ রাকাত, যেমন ইবন উমার বলেছেন, অথবা বার রাকাত যেমন উম্মে হাবিবা ও আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন। আমাদের শাইখ আল্লামা ইবন বাযকে বলতে শোনেছি: “যারা ইবন উমারের হাদীস গ্রহণ করেছে, তারা বলে সুন্নত দশ রাকাত, আর যারা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদীস গ্রহণ করে, তারা বলে সুন্নত বারো রাকাত। ইমাম তিরমিযীর ব্যাখ্যা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদীসকে শক্তিশালী করে, আর উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদীস এসব সুন্নতের ফযীলত বর্ণনা করে। হয়তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো বার রাকাত পড়েছেন, যেমন আয়েশা ও উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমার হাদীসে আছে, কখনো দশ রাকাত পড়েছেন, যেমন ইবন উমার থেকে বর্ণিত হাদীসে আছে। যখন আগ্রহ ও স্পৃহা থাকে বারো রাকাত পড়বে, আর যখন ব্যস্ততা থাকে দশ রাকাত পড়বে। তবে সবগুলো সুন্নতে রাওয়াতেব, হ্যাঁ পূর্ণতা হচ্ছে আয়েশা ও উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমার হাদীস মোতাবেক বারো রাকাত পড়া”। [বুলুগুল মারামের (৩৭৪) নং হাদীসের ব্যাখ্যার সময় তার মুখে এ কথাগুলো আমি শ্রবণ করি।]
যদি কোনো মুসলিম জোহরের পূর্বে চার রাকাত ও জোহরের পর চার রাকাত পড়ার ইচ্ছা করে আল্লাহ তার ওপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেবেন। যেমন, উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শোনেছি, তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি জোহরের পূর্বে চার রাকাত ও জোহরের পর চার রাকাত নিয়মিত পড়বে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দেবেন”। [আহমদ: (৬/৩২৬), আবু দাউদ, হাদীস নং ১২৬৯; তিরমিযী, হাদীস নং ৪২৭; নাসাঈ, হাদীস নং ১৮১৪; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১১৬০; সহীহ সুনান ইবন মাজাহ: (১/১৯১)। আমি আল্লামা ইবন বাজ রহ. কে বুলুগুল মারামের (৩৮১) নং হাদীসের ব্যাখ্যায় বলতে শোনেছি: “এ হাদীসের সনদ খুব সুন্দর, তবে ইবন উমার ও আয়েশার হাদীসে যা রয়েছে, তার উপর রাসূলের নিয়মিত আমল ছিল”। আমি বলি: আমি তাকে জীবনের শেষ বয়সেও দেখেছি, তিনি বসে বসে জোহরের আগে চার রাকাত ও জোহরের পরে চার রাকাত পড়তেন, আল্লাহ তার ওপর রহম করুন।]
যদি কোনো মুসলিম আসরের পূর্বে চার রাকাত পড়ার ইচ্ছা করে, আল্লাহ তার ওপর রহম নাযিল করবেন। ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«رحم الله امرءًا صلى أربعًا قبل العصر»
“আল্লাহ সে ব্যক্তির ওপর রহম করুন, যে আসরের পূর্বে চার রাকাত সালাত আদায় করল”। [আহমাদ: (২/১১৭), আবু দাউদ, হাদীস নং ১২৭১; তিরমিযী, হাদীস নং ৪৩০; সহীহ ইবন খুজাইমা, হাদীস নং ১১৯৩), সহীহ সুনান আবু দাউদ: ১/২৩৭। আমি আল্লামা ইবন বায রহ.-কে বলতে বুলুগুল মারামের (৩৮২) নং হাদীসের ব্যাখ্যায় বলতে শোনেছি: “এ হাদীসের সনদ গ্রহণ করাতে কোনো সমস্যা নেই, এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, আসরের পূর্বে চার রাকাত পড়া বৈধ ও সুন্নত, তবে এটা সুন্নতে রাতেব নয়, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলো এটা নিয়মতি পড়েন নি। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের পূর্বে দু’রাকাত পড়তেন। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আসরের পূর্বে দু’রাকাত অথবা চার রাকাত পড়া মুসলিমদের জন্য মুস্তাহাব”।]