১
সালাত আদায়ের পদ্ধতি
লেখকঃ ড. সায়িদ ইবন আলী ইবন ওহাফ আল-কাহতানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৮
২৪. যদি দুই রাকাত বিশিষ্ট সালাত হয়, যেমন ফজর, জুমু‘আ ও দুই ঈদের সালাত, তাহলে দ্বিতীয় রাকাতের দ্বিতীয় সাজদাহ থেকে ফারিগ হয়ে বসবে, ডান পা খাড়া রাখবে ও বাম পা বিছিয়ে দেবে।
কারণ, আবু হুমাইদের হাদীসে আছে: “যখন দু’রাকাতের মধ্যে বসবে, তখন বাম পায়ের উপর বসবে ও ডান পা খাড়া রাখবে”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৮২৮।] এখানে ও দুই সাজদাহ’র মাঝখানে বসার নিয়ম এক। [যাদুল মা‘য়াদ: (১/২৪২)।] অর্থাৎ বাম হাত বাম রানের উপর রাখবে অথবা বাম হাটুর উপর রাখবে, আর ডান হাত ডান রানের উপর রাখবে। ডান হাতের সব আঙ্গুলগুলো মুষ্টি বদ্ধ করে রাখবে শুধু শাহাদাত আঙ্গুলি ব্যতীত, তার মাধ্যমে তাওহিদের প্রতি ইশারা করবে। কারণ, আব্দুল্লাহ ইবন উমারের হাদীসে আছে: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে বসতেন, তখন তিনি ডান হাতের কব্জি ডান রানের উপর রাখতেন। সকল আঙ্গুল মুষ্টিবদ্ধ করে রাখতেন এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি সংলগ্ন আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন, আর বাম হাতের কব্জি বাম রানের উপর রাখতেন”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৬৬-৫৮০ ও ১১৪-৫৮০।] অথবা বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমা আঙ্গুল দ্বারা হালকা বানাবে এবং কনিষ্ঠা ও অনামিকা আঙ্গুল মুষ্টি বদ্ধ রেখে শাহাদাত আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করবে। কারণ ওয়ায়েল ইবন হুজরের হাদীসে আছে: “আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি তিনি বৃদ্ধা ও মধ্যমা আঙ্গুলি দ্বারা হালকা বানিয়েছেন এবং শাহাদাত আঙ্গুলি উপরে উঠিয়েছেন, এর দ্বারা তিনি তাশাহুদে দো‘আ করতেন”। [ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৯১২।] অথবা তিপ্পান্ন গণনার ন্যায় হাতের মুষ্টি বানাবে এবং শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করবে। কারণ, ইবন উমারের হাদীসে আছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাশাহহুদে বসতেন বাম হাত বাম রানের উপর ও ডান হাত ডান রানের উপর রাখতেন, তিপ্পান্ন গণনার ন্যায় হাতের মুষ্টি বানাতেন ও শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৫-৫৮০।]
এভাবে ডান হাতের তিনটি অবস্থা প্রকাশ পায়।
এক. সকল আঙ্গুল মুষ্টি বদ্ধ করে রেখে শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করা।
দুই. বৃদ্ধা ও মধ্যমা আঙ্গুলি দ্বারা হালকা বানানো এবং কনিষ্ঠা ও অনামিকা আঙ্গুলি মুষ্টিবদ্ধ করে শাহাদাত আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করা।
তিন. তিপ্পান্ন গণনার মতো হাত মুষ্টি বদ্ধ করা ও শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করা। এসব পদ্ধতিই বৈধ। বসার সময় শাহাদাত আঙ্গুলির ইশারার দিকে দৃষ্টি রাখবে। কারণ আব্দুল্লাহ ইবন জুবায়ের থেকে বর্ণিত হাদীসে আছে: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাশাহহুদে বসতেন বাম হাত বাম রানের উপর রাখতেন ও শাহাদাত আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করতেন। তার দৃষ্টি ইশারা অতিক্রম করত না”। [নাসাঈ, হাদীস নং ১২৭৫; সহীহ সুনান নাসাঈ: (১/২৭২)।] আব্দুল্লাহ ইবন উমারের হাদীসে আছে: “তিনি ডান হাত ডান রানের উপর রাখেন ও বৃদ্ধাঙ্গুলি সংলগ্ন আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করেন, তার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখেন। অতঃপর তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ করতে দেখেছি”। [নাসাঈ, হাদীস নং ১৬৬০; সহীহ সুনান নাসাঈ: (১/২৫০)।]
জিকির">দোয়ার সময় আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করা সুন্নত, কিবলার দিকে নাড়াবে ও তার দ্বারা দো‘আ করবে, তবে দো‘আ ও যিকিরের স্থান ব্যতীত কোথাও নাড়াবে না, বরং স্থির রাখবে”। দো‘আর সময় আঙ্গুলি নাড়ানোর দলিল ওয়ায়েল ইবন হুজরের হাদীস, তাতে আছে: “অতঃপর তিনি বসেন ও বাম পা বিছিয়ে রাখেন, তার বাম হাতের কব্জি বাম হাটুর উপর রাখেন এবং ডান হাতের কব্জি ডান রানের উপর রাখেন, অতঃপর দু’টি আঙ্গুল ধরে হালকা বানান, অতঃপর তার আঙ্গুলি উঠান, আমি তাকে তা নাড়াতে দেখেছি। [নাসাঈ, হাদীস নং ৮৯০; সহীহ সুনান নাসাঈ: (১/১৯৪)।] আব্দুল্লাহ ইবন জুবায়ের থেকে বর্ণিত হাদীস দ্বারা বুঝা যায়, তিনি সর্বদা আঙ্গুলি নাড়াতেন না। যেমন, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দো‘আর সময় তার আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করতেন কিন্তু তা নাড়াতেন না”। [নাসাঈ, হাদীস নং ১২৭০; আবু দাউদ, হাদীস নং ৯৮৯।] দুই হাদীসের মধ্যে কোনো বৈপরিত্ব নেই। কারণ, না নাড়ানোর অর্থ হচ্ছে সর্বদা নাড়াতেন না, আবার নাড়ানোর অর্থ হচ্ছে দো‘আর সময় নাড়াতেন। [বায়হাকী: (২/১৩২)।]
ইশারা হবে শুধু ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুলি দ্বারা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি দুই আঙ্গুলি দ্বারা দো‘আ করতে ছিল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন এক আঙ্গুলি দ্বারা দো‘আ কর। [তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫৫৭; সহীহ সুনান নাসাঈ: (১/২৭২)।] সাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার কাছ দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতিক্রম করেন, আমি তখন আমার আঙ্গুলিসমূহ দ্বারা দো‘আ করতে ছিলাম, তিনি বলেন এক আঙ্গুল দ্বারা, এক আঙ্গুল দ্বারা, তিনি শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করলেন। শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করার হিকমত হচ্ছে আল্লাহ এক, ইশারার সময় তাওহীদ ও তার ইখলাসের নিয়ত করবে, তাহলে কথা, কর্ম ও বিশ্বাসে তাওহিদের বর্হিঃপ্রকাশ ঘটবে। [নাইলুল আওতার: (২/৬৮)।] অতএব, প্রমাণিত হলো যে, শাহাদাত আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করবে এবং তার মাধ্যমেই দো‘আ করবে।
এভাবে ডান হাতের তিনটি অবস্থা প্রকাশ পায়।
এক. সকল আঙ্গুল মুষ্টি বদ্ধ করে রেখে শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করা।
দুই. বৃদ্ধা ও মধ্যমা আঙ্গুলি দ্বারা হালকা বানানো এবং কনিষ্ঠা ও অনামিকা আঙ্গুলি মুষ্টিবদ্ধ করে শাহাদাত আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করা।
তিন. তিপ্পান্ন গণনার মতো হাত মুষ্টি বদ্ধ করা ও শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করা। এসব পদ্ধতিই বৈধ। বসার সময় শাহাদাত আঙ্গুলির ইশারার দিকে দৃষ্টি রাখবে। কারণ আব্দুল্লাহ ইবন জুবায়ের থেকে বর্ণিত হাদীসে আছে: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাশাহহুদে বসতেন বাম হাত বাম রানের উপর রাখতেন ও শাহাদাত আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করতেন। তার দৃষ্টি ইশারা অতিক্রম করত না”। [নাসাঈ, হাদীস নং ১২৭৫; সহীহ সুনান নাসাঈ: (১/২৭২)।] আব্দুল্লাহ ইবন উমারের হাদীসে আছে: “তিনি ডান হাত ডান রানের উপর রাখেন ও বৃদ্ধাঙ্গুলি সংলগ্ন আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করেন, তার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখেন। অতঃপর তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ করতে দেখেছি”। [নাসাঈ, হাদীস নং ১৬৬০; সহীহ সুনান নাসাঈ: (১/২৫০)।]
জিকির">দোয়ার সময় আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করা সুন্নত, কিবলার দিকে নাড়াবে ও তার দ্বারা দো‘আ করবে, তবে দো‘আ ও যিকিরের স্থান ব্যতীত কোথাও নাড়াবে না, বরং স্থির রাখবে”। দো‘আর সময় আঙ্গুলি নাড়ানোর দলিল ওয়ায়েল ইবন হুজরের হাদীস, তাতে আছে: “অতঃপর তিনি বসেন ও বাম পা বিছিয়ে রাখেন, তার বাম হাতের কব্জি বাম হাটুর উপর রাখেন এবং ডান হাতের কব্জি ডান রানের উপর রাখেন, অতঃপর দু’টি আঙ্গুল ধরে হালকা বানান, অতঃপর তার আঙ্গুলি উঠান, আমি তাকে তা নাড়াতে দেখেছি। [নাসাঈ, হাদীস নং ৮৯০; সহীহ সুনান নাসাঈ: (১/১৯৪)।] আব্দুল্লাহ ইবন জুবায়ের থেকে বর্ণিত হাদীস দ্বারা বুঝা যায়, তিনি সর্বদা আঙ্গুলি নাড়াতেন না। যেমন, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দো‘আর সময় তার আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করতেন কিন্তু তা নাড়াতেন না”। [নাসাঈ, হাদীস নং ১২৭০; আবু দাউদ, হাদীস নং ৯৮৯।] দুই হাদীসের মধ্যে কোনো বৈপরিত্ব নেই। কারণ, না নাড়ানোর অর্থ হচ্ছে সর্বদা নাড়াতেন না, আবার নাড়ানোর অর্থ হচ্ছে দো‘আর সময় নাড়াতেন। [বায়হাকী: (২/১৩২)।]
ইশারা হবে শুধু ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুলি দ্বারা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি দুই আঙ্গুলি দ্বারা দো‘আ করতে ছিল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন এক আঙ্গুলি দ্বারা দো‘আ কর। [তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫৫৭; সহীহ সুনান নাসাঈ: (১/২৭২)।] সাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার কাছ দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতিক্রম করেন, আমি তখন আমার আঙ্গুলিসমূহ দ্বারা দো‘আ করতে ছিলাম, তিনি বলেন এক আঙ্গুল দ্বারা, এক আঙ্গুল দ্বারা, তিনি শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করলেন। শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করার হিকমত হচ্ছে আল্লাহ এক, ইশারার সময় তাওহীদ ও তার ইখলাসের নিয়ত করবে, তাহলে কথা, কর্ম ও বিশ্বাসে তাওহিদের বর্হিঃপ্রকাশ ঘটবে। [নাইলুল আওতার: (২/৬৮)।] অতএব, প্রমাণিত হলো যে, শাহাদাত আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করবে এবং তার মাধ্যমেই দো‘আ করবে।