১
সালাত আদায়ের পদ্ধতি
লেখকঃ ড. সায়িদ ইবন আলী ইবন ওহাফ আল-কাহতানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২২
১৮. তাকবীর বলে সাজদাহ থেকে মাথা উঠাবে এবং স্থির হয়ে বসবে।
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, সালাতে ভুলকারীর হাদীসে আছে: “অতঃপর তুমি মাথা উঠিয়ে স্থির হয়ে বস”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৮৯, ৮০৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৯৬।] বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসবে, ডান পা খাড়া রাখবে এবং আঙ্গুলগুলো কিবলার দিকে রাখবে। কারণ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদীসে আছে: “তিনি বাম পা বিছিয়ে রাখতেন ও ডান পা খাড়া রাখতেন”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৯৮।] উভয় হাত রানের উপর রাখবে। কারণ, আব্দুল্লাহ ইবন জুবায়ের তার পিতা থেকে মারফূ‘ সনদে বর্ণনা করেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বসতেন তখন তিনি দো‘আ করতেন এবং ডান হাত ডান রানের উপর ও বাম হাত বাম রানের রাখতেন”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৩-৫৭৯।] অথবা উভয় হাত হাটুর উপর রাখবে। কারণ, আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে বসতেন, তখন তিনি তার দু’হাত হাটুর উপরে রাখতেন”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৪-৫৮০।] অথবা ডান হাত ডান রানের উপর, বাম হাত বাম রানের উপর এবং বাম কব্জি দ্বারা হাটু পাকড়াও করে রাখবে। যেমন, আব্দুল্লাহ ইবন জুবায়ের থেকে বর্ণিত হাদীসে আছে।
মুদ্দাকথা হাত রাখার তিনটি পদ্ধতি জানা গেল:
এক. ডান হাত ডান রানের উপর ও বাম হাত বাম রানের উপর।
দুই. ডান হাত ডান হাটুর ওপর ও বাম হাত বাম হাটুর ওপর।
তিন. ডান কব্জি ডান রানের উপর ও বাম কব্জি বাম রানের উপর এবং বাম কব্জি দ্বারা হাটু আঁকড়ে ধরবে। [আমাদের শাইখ ইবন বায রহ. বলেছেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি দু’হাত রানের উপর রেখেছেন, হাটুর উপর রেখেছেন এবং রানের উপর রেখে আঙুলগুলো হাটুর উপর রেখেছেন”। (৩/৮/১৪১৯ হি.) শনিবার, ফজরের সালাতে বড় মসজিদে এ ব্যাখ্যা শ্রবণ করি।]
উভয় হাতের কব্জি রাখার পদ্ধতি: মুসল্লি তার বাম হাত বিছিয়ে রাখবে। যেমন, ইবন উমার থেকে বর্ণিত হাদীসে আছে: “তার বাম হাত ছিল হাটুর উপর বিছানো”। [নাসাঈ, হাদীস নং ১২৬৯; সহীহ সুনান নাসাঈ: (১/২৭২)।] আর উভয় বাহু রানের উপর রাখবে। কারণ, ওয়ায়েল ইবন হুজরের হাদীসে আছে: “তিনি তার দু’বাহু রানের উপর রেখেছেন”। [নাসাঈ, হাদীস নং ১২৬৪), সহীহ সুনান নাসাঈ, হাদীস নং ১/২৭০)] আর ডান হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলি ও অনামিকা দ্বারা মুষ্ঠি বানাবে এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমা আঙ্গুলি দ্বারা হালকা বানাবে। অতঃপর ডান হাতের কব্জি ডান রানের উপর রাখবে। ওয়ায়েল ইবন হুজরের হাদীসে আছে: “অতঃপর কিবলা মুখী হয়ে উভয় হাত কান পর্যন্ত উঠান এবং ডান হাত দিয়ে বাম হাত পাকড়াও করেন। যখন তিনি রুকু করার ইচ্ছা করেন, অনুরূপ করেন এবং উভয় হাত হাটুর উপর রাখেন, যখন তিনি রুকু থেকে নিজ মাথা উঠান অনুরূপ হাত তোলেন। যখন তিনি সাজদাহ করেন, তখনও তিনি অনুরূপ করেন। অতঃপর বাম পা বিছিয়ে বসেন এবং তার বাম হাত বাম রানের উপর রাখেন। আর ডান হাতের কব্জি রাখেন ডান রানের উপর। দুই আঙ্গুল দ্বারা হালকা বানান। আমি তাকে বলতে দেখলাম: “এরূপ”, ‘বিশর’ (বর্ণনাকারী) বৃদ্ধা ও মধ্যমা আঙ্গুলি দ্বারা হালকা বানিয়ে ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করলেন”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ৭২৬), নাসাঈ, হাদীস নং ১২৬৫), আহমদ: (৪/৩১৮), ইবন হিব্বান: (৪৮৫), ইবন খুযাইমা: (১/৩৫৪), সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং ১/১৪০) প্রমূখগণ।] ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম এটাই গ্রহণ করেছেন যে, মুসল্লি দুই সাজদাহ’র মাঝখানে অনুরূপ করবে”। [আল্লামা ইবন উসাইমিন রহ. বলেছেন: “সহীহ, দুর্বল কিংবা হাসান পর্যায়ের একটি হাদীসও নেই, যার দ্বারা প্রমাণ হয় যে, ডান হাত ডান রানের উপর বিছানো থাকবে। বরং বর্ণিত আছে যে, মুষ্টি বানাবে: কনিষ্ঠা ও অনামিকা দ্বারা মুষ্ঠি বানাবে এবং বৃদ্ধা ও মধ্যমা আঙুল দ্বারা হালকা বানাবে..., যখন সালাতে বসবে, (মুসলিম, হাদীস নং ৫৮০) কোনো বর্ণনা আছে যখন তাশাহহুদে বসবে। (মুসলিম, হাদীস নং ৫৮০)। উভয় হাদীসই সহীহ মুসলিমে বিদ্যমান। এর দ্বারা বুঝা যায়, সকল বসাতেই অনুরূপ হালকা বানাবে। সংক্ষিপ্ত। শারহুল মুমতি: (৩/১৭৮)]
মুদ্দাকথা হাত রাখার তিনটি পদ্ধতি জানা গেল:
এক. ডান হাত ডান রানের উপর ও বাম হাত বাম রানের উপর।
দুই. ডান হাত ডান হাটুর ওপর ও বাম হাত বাম হাটুর ওপর।
তিন. ডান কব্জি ডান রানের উপর ও বাম কব্জি বাম রানের উপর এবং বাম কব্জি দ্বারা হাটু আঁকড়ে ধরবে। [আমাদের শাইখ ইবন বায রহ. বলেছেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি দু’হাত রানের উপর রেখেছেন, হাটুর উপর রেখেছেন এবং রানের উপর রেখে আঙুলগুলো হাটুর উপর রেখেছেন”। (৩/৮/১৪১৯ হি.) শনিবার, ফজরের সালাতে বড় মসজিদে এ ব্যাখ্যা শ্রবণ করি।]
উভয় হাতের কব্জি রাখার পদ্ধতি: মুসল্লি তার বাম হাত বিছিয়ে রাখবে। যেমন, ইবন উমার থেকে বর্ণিত হাদীসে আছে: “তার বাম হাত ছিল হাটুর উপর বিছানো”। [নাসাঈ, হাদীস নং ১২৬৯; সহীহ সুনান নাসাঈ: (১/২৭২)।] আর উভয় বাহু রানের উপর রাখবে। কারণ, ওয়ায়েল ইবন হুজরের হাদীসে আছে: “তিনি তার দু’বাহু রানের উপর রেখেছেন”। [নাসাঈ, হাদীস নং ১২৬৪), সহীহ সুনান নাসাঈ, হাদীস নং ১/২৭০)] আর ডান হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলি ও অনামিকা দ্বারা মুষ্ঠি বানাবে এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমা আঙ্গুলি দ্বারা হালকা বানাবে। অতঃপর ডান হাতের কব্জি ডান রানের উপর রাখবে। ওয়ায়েল ইবন হুজরের হাদীসে আছে: “অতঃপর কিবলা মুখী হয়ে উভয় হাত কান পর্যন্ত উঠান এবং ডান হাত দিয়ে বাম হাত পাকড়াও করেন। যখন তিনি রুকু করার ইচ্ছা করেন, অনুরূপ করেন এবং উভয় হাত হাটুর উপর রাখেন, যখন তিনি রুকু থেকে নিজ মাথা উঠান অনুরূপ হাত তোলেন। যখন তিনি সাজদাহ করেন, তখনও তিনি অনুরূপ করেন। অতঃপর বাম পা বিছিয়ে বসেন এবং তার বাম হাত বাম রানের উপর রাখেন। আর ডান হাতের কব্জি রাখেন ডান রানের উপর। দুই আঙ্গুল দ্বারা হালকা বানান। আমি তাকে বলতে দেখলাম: “এরূপ”, ‘বিশর’ (বর্ণনাকারী) বৃদ্ধা ও মধ্যমা আঙ্গুলি দ্বারা হালকা বানিয়ে ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করলেন”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ৭২৬), নাসাঈ, হাদীস নং ১২৬৫), আহমদ: (৪/৩১৮), ইবন হিব্বান: (৪৮৫), ইবন খুযাইমা: (১/৩৫৪), সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং ১/১৪০) প্রমূখগণ।] ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম এটাই গ্রহণ করেছেন যে, মুসল্লি দুই সাজদাহ’র মাঝখানে অনুরূপ করবে”। [আল্লামা ইবন উসাইমিন রহ. বলেছেন: “সহীহ, দুর্বল কিংবা হাসান পর্যায়ের একটি হাদীসও নেই, যার দ্বারা প্রমাণ হয় যে, ডান হাত ডান রানের উপর বিছানো থাকবে। বরং বর্ণিত আছে যে, মুষ্টি বানাবে: কনিষ্ঠা ও অনামিকা দ্বারা মুষ্ঠি বানাবে এবং বৃদ্ধা ও মধ্যমা আঙুল দ্বারা হালকা বানাবে..., যখন সালাতে বসবে, (মুসলিম, হাদীস নং ৫৮০) কোনো বর্ণনা আছে যখন তাশাহহুদে বসবে। (মুসলিম, হাদীস নং ৫৮০)। উভয় হাদীসই সহীহ মুসলিমে বিদ্যমান। এর দ্বারা বুঝা যায়, সকল বসাতেই অনুরূপ হালকা বানাবে। সংক্ষিপ্ত। শারহুল মুমতি: (৩/১৭৮)]