hadith book logo

আদর্শ মানব মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

লেখকঃ এ এক এম নাজির আহমদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮

প্রকাশ্য আহবান

কেটে গেলো তিনটি বছর। নবীর নেতৃত্বে গড়ে উঠলো একটি ছোট সংগঠন। এবার আল্লাহ নির্দেশ দিলেন-

যেই বিষয়ে তুমি আদিষ্ট হয়েছো তা প্রকাশ্যে উচ্চ কন্ঠে ঘোষণা কর। (সূরা আল-হিজর:৯৪)

মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার নিকটবর্তী সাফা পাহাড়ে উঠে জোরে আওয়াজ দিলেন ইয়া সাবা-হাহ।

কোন বিপদ দেখলে উঁচু স্থানে উঠে আরবগণ এই সাংকেতিক কথা উচ্চারণ করতো। সংকেত বাণী শুনে লোকেরা দৌড়ে আসতো। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখে এই সংকেত বাণী শুনেও তারা ছুটে এলো। সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,

শোন, আমি তোমাদেরকে এক আল্লাহর ইবাদাত করার আহ্বান জানাচ্ছি এবং মূর্তি পূজার পরিণাম থেকে তোমাদেরকে বাঁচাতে চাচ্ছি। তোমরা যদি আমার কথা না মান, তাহলে তোমাদেরকে এক কঠিন শাস্তি সম্পর্কেও সতর্ক করে দিচ্ছি।

এ কথাগুলো শুনে মুশরিক কুরাইশরা অসন্তুষ্ট হয়। গোসসা প্রকাশ করতে করতে তারা সেই স্থান ত্যাগ করে। এই প্রকাশ্য আহবান শুনার পর মক্কায় দারুন চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। মুখে মুখে এই কথা আলোচিত হতে থাকে। এরি মধ্যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আবদুল মুত্তালিব খান্দানকে এক ভোজ সভায় দাওয়াত দেন। আবু তালিব, হামজা, আব্বাস প্রমুখ সেই ভোজ সভায় আসেন। খাওয়া শেষে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে বলেন,

আমি এমন কিছু নিয়ে এসেছি যা দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য যথেষ্ট। এই বিরাট বোঝা বহনে কে কে আমাদের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছেন? সবাই নিশ্চুপ। কারো মুখে কোন কথা নেই। বালক আলী ইবনু আবি তালিব রাসূলের সেই প্রশ্নের জবাব দিলেন, আমি আপনার সহযোগিতা করতে থাকবো।

কেটে গেলো আরো কিছু দিন। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গেলেন কাবার নিকটে। ঘোষণা করলেন-আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। মুশরিকেরা নবীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হারস ইবনু আবী হালাহ রা. তাঁর সাহায্য এগিয়ে আসেন। মুশরিকদের তলোয়ারের আঘাতে তিনি শহীদ হন। আল্লাহর অনুগ্রহে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিরাপদে রইলেন।