hadith book logo

আদর্শ মানব মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

লেখকঃ এ এক এম নাজির আহমদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৬

মুতার যুদ্ধ

হিজরী অষ্টম সনের জমাদিউল উলা মাস।

সিরিয়া সীমান্ত অশান্ত হয়ে উঠে। সিরিয়া তখন রোম সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রদেশ। সিরিয়া সীমান্তে তখন বেশ কয়েকটি খৃস্টান গোত্র বাস করতো। তাদের নিকট ইসলামের আহবান পৌঁছানোর জন্যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ষোলজন শিক্ষক-মুবাল্লিগ প্রেরণ করেন।খৃষ্টানগণ পনর জন মুসলিম মুবাল্লিগকে হত্যা করে।

দলের নায়ক কাব ইবনু উমার আল গিফারী কোন প্রকারে বেঁচে যান। এই দিকে বাসরায় নিযুক্ত রোমের গভর্ণর শেরজিল আল্লাহর রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দূত হারিস ইবনু উমাইরকে রা. হত্যা করে।

তাই সিরিয়ার দিকে সৈন্য পাঠানো অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

তিন হাজার মুসলিম সেনা অগ্রসর হয়।

শেরজিল ১ লাক্ষ সৈন্য নিয়ে সামনে এগুতে থাকে।রোম-সম্রাট তাঁর ভাই থিওডরের সেনাপতিত্বে আরো ১লাক্ষ সৈন্য পাঠায়। সম্মিলিত বাহিনী তিন হাজার মুসলিমের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

মুতা নামক স্থানে সংঘটিত হয় এই যুদ্ধ।

এই যুদ্ধে মুসলিম সেনাপতি যায়িদ ইবনু হারিসা রা. জাফর ইবনু আবি তালিব রা. ও আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা রা. পরপর শহীদ হন। পরে সনাপতির দায়িত্ব নেন খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.।

তিনি নতুন কৌশল অবলম্বন করে যুদ্ধ চালাতে থাকেন। শেষে সৈন্যদের নিয়ে রনাংগনের এক প্রান্তে পৌঁছে যান। রোমান বাহিনী অন্য প্রান্তে অবস্থান গ্রহণ করেন। এইভাবে যুদ্ধ থেমে যায়।

খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ সসৈন্য মদীনায় ফেরেন।

এই যুদ্ধ কালে অন্যতম রোমান সেনাপতি ফারওয়া ইবনু আমার আল জুজামী ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি রোমদের হাতে বন্দী হন। রোমান সম্রাট তাঁকে বলেন, ইসলাম ত্যাগ করে নিজের পদে বহাল হও, তা না হলে মৃত্যুর জন্য তৈরী হও।বলিষ্ঠ কন্ঠে তিনি জবাব দেন, আখিরাতের কামিয়াবী বরবাদ করে দুনিয়ার কোন পদ গ্রহণ করতে আমি প্রস্তুত নেই।এরপর তাঁকে শহীদ করা হয়। কিন্তু ইসলামের নৈতিক শক্তি ও দৃঢ়তা দেখে দুশমনরা অবাক হয়ে যায়।