১
আদর্শ মানব মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
লেখকঃ এ এক এম নাজির আহমদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫২
হুদাইবিয়ার সন্ধি
হিজরী ষষ্ঠ সন।আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবা যিয়ারতের সিদ্ধান্ত নেন। চৌদ্দশত মুসলিম রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংগী হন। মুসলিমদের কোন সামরিক উদ্দেশ্যে ছিলো না। প্রত্যেকের সংগে ছিলো মাত্র একখানি কোষবদ্ধ তলোয়ার। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদাইবিয়া নামক স্থানে এসে পৌঁছেন। এদিকে কুরাইশদের যুদ্ধ প্রস্তুতির খবর তাঁর কাছে আসতে থাকে। বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে কুরাইশদেরকে বুঝানো হলো যে কাবা যিয়ারাত ছাড়া তাঁর আর কোন উদ্দেশ্যে নেই। কিন্তু কুরাইশরা মুসলিমদেরকে মক্কায় প্রবেশ করতে দিতে রাজী হলো না।আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান ইবনু আফফানকে রা. দূত রূপে কুরাইশদের নিকট পাঠান। কুরাইশরা তাঁকে আটক রাখে। এই দিকে উসমান রা. শহীদ হয়েছেন বলে মুসলিমদের নিকট খবর আসে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বাবলা গাছের নীচে বসে সকলের নিকট থেকে এই শপথ নেন, আমরা শেষ হয়ো যাবো, কিন্তু লড়াই থেকে পিছু হটবো না। এই শপথের নাম বাইয়াতে রিদওয়ান। মুসলিমদের এই শপথের কথা কথা কুরাইশদের নিকট পৌঁছালো। উসমান রা. নিরাপদে ফিরে এলেন। কুরাইশদের দূত সুহাইল ইবনু আমর এলো সন্ধির প্রস্তাব নিয়ে। দীর্ঘ বাদানুবাদের পর চুক্তির শর্তগুলো ঠিক হলো।
১। মুসলিমগণ এই বছর ফিরে যাবে।২। তারা আগামী বছর আসবে, তবে মাত্র তিন দিন থাকবে।৩। কোষবদ্ধ তলোয়ার নিয়ে আসবে, অন্য কোন অস্ত্র আনবে না।৪। মক্কায় যেই সব মুসলিম এখনো অবস্থান করছে তাদেরকে ফেরত নেবে না।৫। মক্কা থেকে কেউ মদীনায় গেলে তাকে ফেরৎ পাঠাতে হবে কিন্তু কোন মুসলিম মক্কায় চলে গেলে তাকে ফেরৎ পাঠানো হবে না। কোন মুসলিম মক্কায় চলে গেলে তাকে বাধা দেয়া যাবে না।৬। আরবের গ্রোত্রগুলো মুসলিম বা কুরাইশ যেই কোন পক্ষের সাথে সন্ধি করতে পারবে।৭। এই সন্ধি চুক্তি দশ বছর কাল বহাল থাকবে।
দৃশ্যত : চুক্তির শর্তগুলো মুসলিমদের স্বার্থবিরোধী। মুসলিমরা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর দেন। আর প্রজ্ঞাময় আল্লাহ একেই বলেছেন ফাতহুম মুবীন বা সুস্পষ্ট বিজয়। এই চুক্তির ফলে মুসলিমরা একটি শক্তি হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে। এই সন্ধির ফলে যুদ্ধাবস্থার অবসান হয়। পারষ্পরিক মেলামেশার সুযোগ সৃষ্টি হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের প্রশিক্ষণ দানের সুযোগ লাভ করেন। আভ্যন্তরীণ শৃংখলা বিধানের সুযোগ পান। আরবের বাইরে ইসলামের বাণী পৌঁছানোর সুযোগ লাভ করেন।শান্ত পরিবেশ মুসলিমরা ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে থাকেন এবং মাত্র দুই বছরের মধ্যে বিপুল সংখ্যক লোক ইসলাম গ্রহণ করেন। খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ ও আমর ইবনুল আসের মতো বেশ কিছু সেরা ব্যক্তিত্ব এই সময়ে ইসলাম গ্রহণ করেন।
১। মুসলিমগণ এই বছর ফিরে যাবে।২। তারা আগামী বছর আসবে, তবে মাত্র তিন দিন থাকবে।৩। কোষবদ্ধ তলোয়ার নিয়ে আসবে, অন্য কোন অস্ত্র আনবে না।৪। মক্কায় যেই সব মুসলিম এখনো অবস্থান করছে তাদেরকে ফেরত নেবে না।৫। মক্কা থেকে কেউ মদীনায় গেলে তাকে ফেরৎ পাঠাতে হবে কিন্তু কোন মুসলিম মক্কায় চলে গেলে তাকে ফেরৎ পাঠানো হবে না। কোন মুসলিম মক্কায় চলে গেলে তাকে বাধা দেয়া যাবে না।৬। আরবের গ্রোত্রগুলো মুসলিম বা কুরাইশ যেই কোন পক্ষের সাথে সন্ধি করতে পারবে।৭। এই সন্ধি চুক্তি দশ বছর কাল বহাল থাকবে।
দৃশ্যত : চুক্তির শর্তগুলো মুসলিমদের স্বার্থবিরোধী। মুসলিমরা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর দেন। আর প্রজ্ঞাময় আল্লাহ একেই বলেছেন ফাতহুম মুবীন বা সুস্পষ্ট বিজয়। এই চুক্তির ফলে মুসলিমরা একটি শক্তি হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে। এই সন্ধির ফলে যুদ্ধাবস্থার অবসান হয়। পারষ্পরিক মেলামেশার সুযোগ সৃষ্টি হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের প্রশিক্ষণ দানের সুযোগ লাভ করেন। আভ্যন্তরীণ শৃংখলা বিধানের সুযোগ পান। আরবের বাইরে ইসলামের বাণী পৌঁছানোর সুযোগ লাভ করেন।শান্ত পরিবেশ মুসলিমরা ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে থাকেন এবং মাত্র দুই বছরের মধ্যে বিপুল সংখ্যক লোক ইসলাম গ্রহণ করেন। খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ ও আমর ইবনুল আসের মতো বেশ কিছু সেরা ব্যক্তিত্ব এই সময়ে ইসলাম গ্রহণ করেন।