মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
৩৩. কিতাবুল ই'তেকাফ
مختصر صحيح البخاري
৩৩/১ পরিচ্ছেদঃ
রামাযানের শেষ দশ দিনে ইতেকাফ করা। সকল মসজিদেই ইতেকাফ করা জায়েয
৯৭৮
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، زَوْجِ النَّبِيِّ (ﷺ): أَنَّ النَّبِيَّ (ﷺ) كَانَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللهُ ، ثُمَّ أَعْتَكَفَ أَزْوَاجُهُ مِنْ بَعْدِهِ .
নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত রামাযানের শেষ ১০ দিনে ইতেকাফ করতেন। তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রীগণও ইতেকাফ করেছেন। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৯৫৬)
৩৩/২ পরিচ্ছেদঃ
ই'তেকাফরত ব্যক্তি বিনা প্রয়োজনে বাড়ীতে প্রবেশ করবেনা
৯৭৯
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীوَعَنْهَا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ : وَإِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ) لَيُدْخِلُ عَلَيَّ رأسَهُ، وَهُوَ فِي المَسْجِدِ، فَأَرَجُله، وَكَانَ لا يَدْخُلُ الْبَيْتَ إِلا لِحَاجَةٍ إِذَا كَانَ مُعْتَكِفًا .
আয়েশা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে (ইতেকাফ রত) অবস্থায় আমার দিকে মাথা ঝুকিয়ে দিতেন। আমি তাঁর মাথা আঁচড়িয়ে দিতাম। তিনি ইতেকাফে থাকা অবস্থায় বিনা প্রয়োজনে ঘরে যেতেন না। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৯৫৭)
৩৩/৩ পরিচ্ছেদঃ
রাতে ইতেকাফ করা
৯৮০
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : أَنَّهُ سَأَلَ النَّبِيَّ (ﷺ) قَالَ: كُنْتُ نَذَرْتُ فِي الجَاهِلِيَّةِ أَنْ أَعْتَكِفَ لَيْلَةٌ فِي المَسْجِدِ الحَرَامِ؟ قَالَ: (فَأَوْفِ بِنَشْرِكَ).
উমার (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি নবী (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করলেনঃ জাহেলী যুগে আমি মানত করেছিলাম যে, মসজিদে হারামে এক রাত্রি ই'তেকাফ করবো। নবী (ﷺ) তখন বললেনঃ তুমি তোমার মানত পূর্ণ করো। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৯৫৮)
৩৩/৪ পরিচ্ছেদঃ
মসজিদে তাঁবু স্থাপন করা
৯৮১
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا : أَنَّ النَّبِيَّ (ﷺ) أَرَادَ أَنْ يَعْتَكِفَ، فَلَمَّا انْصَرَفَ إِلَى المَكَانِ الَّذِي أَرَادَ أَنْ يَعْتَكِفَ فِيهِ، إِذَا أَخْبِيَّةٌ : حَبَاءُ عَائِشَةَ، وَخِبَاءُ حَفْصَةَ، وَخِبَاءُ زَيْنَبَ، فَقَالَ: (الْبِرِّ تَقُولُونَ بِهِنَّ). ثُمَّ انْصَرَفَ فَلَمْ يَعْتَكِفْ، حَتَّى اعْتَكَفَ عَشْرًا مِنْ شَوَّالٍ .
আয়েশা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) ই'তেকাফ করতে ইচ্ছা করলেন। তিনি যে স্থানে ই'তেকাফ করতে চেয়ে ছিলেন সেখানে গিয়ে দেখেন কয়েকটি তাঁবু রয়েছে। আয়েশার একটি তাঁবু, হাফসার একটি তাঁবু এবং যয়নবের একটি তাঁবু। এগুলো দেখে নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা কি মনে কর এতে কল্যাণ রয়েছে? তখন নবী (ﷺ) ফেরত আসলেন, ই'তেকাফ করেন নি। পরে শাওয়াল মাসে দশ দিন ই'তেকাফ করলেন। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৯৫৯)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ ঘন ঘন তাবু দেখে তিনি অপছন্দ করে উক্ত সিদ্ধান্ত নেন। কারণ তাতে মসজিদের পরিবেশ কিংবা ইতেকাফের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছিল। এ হাদীছ থেকে অপেক্ষাকৃত গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি জানা যায় তা হচ্ছে পুরুষ, মহিলা নির্বিশেষে সবার জন্য ইতেকাফের স্থান হচ্ছে মসজিদ। কেননা যদি তাই না হত, তবে মসজিদে জায়গার সংকট থাকা সত্ত্বেও এবং এহেন একাধিক তাঁবুকে নবী (ﷺ) কর্তৃক অপছন্দ করা সত্ত্বেও নবী পত্নীগণ মসজিদের সাথে অবস্থিত বাসা ছেড়ে মসজিদে এতেকাফ করতেন না।
৩৩/৫ পরিচ্ছেদঃ
ইতেকাফরত ব্যক্তি প্রয়োজনে মসজিদের দরজায় আসতে পারেন
৯৮২
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ صَفِيَّةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا زَوْجٍ أَنَّهَا جَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ (ﷺ) تَزُورُهُ فِي اعْتِكَافِهِ فِي المَسْجِدِ، فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ، فَتَحَدَّثَتْ عِنْدَه سَاعَةً، ثُمَّ قَامَتْ تَنْقَلِبُ، فَقَامَ نَّبِيُّ (ﷺ) مَعَهَا يَقْلِبُهَا، حَتَّى إِذَا بَلَغَتْ بَابَ المَسْجِدِ عِنْدَ بَابِ أُمِّ سَلَمَةَ، مَرَّ رَجُلانِ مِنَ الْأَنْصَارِ، فَسَلَّمَا عَلَى رَسُولِ اللهِ ، فَقَالَ لَهُمَا النَّبِيُّ (ﷺ): (عَلَى رِسْلِكُمَا ، إِنَّمَا هِيَ صَفِيَّةُ بِنْتُ حُيَيٍّ). فَقَالا : سُبْحَانَ اللهِ يَا رَسُولَ اللهِ، وَكَبُرَ عَلَيْهِمَا ، فَقَالَ النَّبِيُّ (ﷺ): (إِنَّ الشَّيْطَانَ يَبْلُغُ مِنَ الإِنْسَانِ مَبْلَغَ الدَّم، وَإِنِّي خَشِيتُ أَنْ يَقْذِفَ فِي قُلُوبِكُمَا شَيْئًا) .
সাফিয়া (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য মসজিদে গমণ করলেন। নবী (ﷺ) তখন রামাযানের শেষ দশ দিনে ই'তেকাফ অবস্থায় ছিলেন। সাফিয়া তথায় তাঁর সাথে সামান্য সময় কথা-বার্তা বললেন। অতঃপর ফেরত যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। তাকে এগিয়ে দেয়ার জন্য নবী (ﷺ)উঠে দাঁড়ালেন। যখন তিনি উম্মে সালামার দরজার নিকটস্থ মসজিদের দরজার নিকট পৌঁছলেন তখন দু'জন আনসারী লোক নবী (ﷺ) কে সালাম দিলেন। নবী (ﷺ) তাদেরকে বললেনঃ তোমরা থাম। এই মহিলা হল হুয়াইয়ের কন্যা সাফিয়া। তারা বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! হে আল্লাহর রাসূল! (আমরা কি আপনার প্রতি খারাপ ধারণা করতে পারি?)। ব্যাপারটি তাদের নিকট খুব বড় বলে মনে হল। নবী (ﷺ) তখন বললেনঃ শয়তান মানুষের শিরায় পৌঁছতে সক্ষম। আমার আশঙ্কা হল তোমাদের অন্তরে শয়তান কোন কুধারণা ঢেলে দেয় না কি। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৯৬০)