hadith book logo

মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী

৩৯. কিতাবুল ওয়াকালা (অন্যের স্থলাভিষিক্ত হয়ে কাজ করা)

مختصر صحيح البخاري

৩৯/১ পরিচ্ছেদঃ

এক শরীক অন্য শরীকের উকীল হওয়া

১০৬৪
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ النَّبِيَّ (ﷺ) أَعْطَاهُ غَنَمًا يَقْسِمُهَا عَلَى صَحَابَتِهِ، فَبَقِيَ عَتُودٌ، فَذَكَرَهُ لِلنَّبِيِّ (ﷺ) فَقَالَ: (ضَحٌ بِهِ أَنْتَ).
উকবা বিন আমের (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) তাঁকে কিছু ছাগল দিলেন। যাতে তিনি তা তাঁর সাহাবীদের মধ্যে বন্টন করে দেন। বণ্টনের পর একটি ছাগলের বাচ্চা রয়ে গেল। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তা জানালেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি নিজেই উহা কোরবানী করে ফেল। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৪১)
৩৯/২ পরিচ্ছেদঃ

রাখাল অথবা প্রতিনিধি যখন দেখবে যে, কোন বকরী মারা যাচ্ছে অথবা দেখবে যে কোন জিনিষ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তখন ঐ বকরীটা যবেহ করে দিবে এবং নষ্টপ্রায় জিনিষটি ঠিক রাখার ব্যবস্থা করবে

১০৬৫
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ الله عَنْهُ : أَنَّهُ كَانَتْ لَهُمْ غَنَمٌ تَرْعَى بِسَلْعِ، فَأَبْصَرَتْ جَارِيَةٌ لَنَا بِشَاةٍ مِنْ غَنَمِنَا مَوْتًا ، فَكَسَرَتْ حَجَرًا فَذَبَحَتْهَا به فَقَالَ لَهُمْ : لاَ تَأْكُلُوا حَتَّى أَسْأَلَ النَّبِيَّ (ﷺ) عَنْ ذلِكَ، أَوْ أُرْسِلَ إِلَى النَّبِيِّ (ﷺ) مَنْ يَسْأَلُهُ، وَأَنَّهُ سَأَلَ النَّبِيَّ (ﷺ) عَنْ ذَاكَ، أَوْ أَرْسَلَ، فَأَمَرَهُ بِأَكْلِهَا .
কা'ব বিন মালেকথেকে বর্ণিতঃ
তার কতগুলো বকরী ছিল যা ‘সালআ’ নামক পাহাড়ে চরে বেড়াত। আমাদের জনৈক দাসী লক্ষ করল যে, একটি ছাগল মারা যাচ্ছে। তখন সে একটি পাথর ভেঙে তা দিয়ে বকরীটি যবেহ করে ফেলল। কা'ব তার পরিবারের লোকদেরকে বললেনঃ তোমরা এটি খেওনা যে পর্যন্ত না আমি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করি অথবা জিজ্ঞেস করার জন্য কাউকে পাঠাই। অতঃপর তিনি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করলেন অথবা অন্য কাউকে পাঠালেন। তিনি তা খাওয়ার জন্য অনুমতি দিয়েছিলেন। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৪২)
৩৯/৩ পরিচ্ছেদঃ

ঋণ পরিশোধ করার জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করা

১০৬৬
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ (ﷺ) يَتَقَاضَاهُ فَأَغْلَظَ ، فَهَم بِهِ أَصْحَابُهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ) : (دَعُوهُ، فَإِنَّ لِصَاحِبِ الْحَقِّ مَقَالًا). ثُمَّ قَالَ : أَعْطُوهُ سِنَا مِثْلَ سِنْهِ) . قَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ لا نَجِدُ إِلا أَمْثَلَ مِنْ سِنْهِ، فَقَالَ: (أَعْطُوهُ، فَإِنَّ مِنْ خَيْرِكُمْ أَحْسَنُكُمْ قَضَاء) .
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে তাগাদা দিতে এসে কঠোর ভাষায় কথা বলতে লাগল। সাহাবীগণ তাকে মারতে উদ্যত হলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তাকে ছেড়ে দাও। কেননা পাওনাদারের জন্য কড়া কথা বলার অধিকার আছে। অতঃপর নবী (ﷺ) বললেনঃ তার উটের সমবয়সী একটি উট দিয়ে দাও। সাহাবীগণ বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! তার উটের সমবয়সী উট পাওয়া যাচ্ছেনা বরং তার চেয়ে উত্তম উট পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বললেনঃ ওটাই দিয়ে দাও। কেননা তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি উত্তম যে ঋণ পরিশোধের বেলায় উত্তম। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৪৩)
৩৯/৪ পরিচ্ছেদঃ

কোন প্রতিনিধি কিংবা গোত্রের সুপারিশকারীকে কিছু দেয়া জায়েয

১০৬৭
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَن الْمِسْوَرِ بْن مَحْرَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ (ﷺ) قَامَ حِينَ جاءَهُ وَفَدُ هَوَازِنَ مُسْلِمِينَ، فَسَأَلُوهُ أَنْ يَرُدَّ إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ وَسَبْيَهُمْ، فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللهِ (ﷺ): (أَحَبُّ الحَدِيثِ إِلَيَّ أَصْدَقُهُ ، فَأَخْتَارُوا إِحْدَى الطَّائِفَتَيْنِ : إِمَّا السَّبْيَ وَإِمَّا المَالَ، وَقَدْ كُنْتُ أَسْتَأْنَيْتُ بِكُم . وَقَدْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ) أَنْتَظَرَهُمْ بِضْعَ عَشْرَةَ لَيْلَةٌ حِينَ قَفَلَ مِنَ الطَّائِفِ، فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ غَيْرُ رَادٌ إِلَيْهِمْ إِلا إحْدَى الطَّائِفَتَيْنِ، قَالُوا : فَإِنَّا نَخْتارُ سَبْيَنَا، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ) فِي المُسْلِمِينَ، فَأَثْنَى عَلَى اللَّهِ تَعَالَى بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ، ثُمَّ قَالَ : (أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّ إِخْوَانَكُمْ هؤُلَاءِ قَدْ جَاؤُونَا تَائِبِينَ، وَإِنِّي قَدْ رَأَيْتُ أَنْ أَرُدَّ إِلَيْهِمْ سَبْيَهُمْ، فَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أن يُطِيِّبَ بِذلِكَ فَلْيَفْعَلْ، وَمَنْ أَحَبَ مِنْكُمْ أَنْ يَكُونَ عَلَى حَظِّهِ حَتَّى نُعْطِيَهُ إِيَّاهُ مِنْ أَوَّلِ مَا يُفِيُّ اللَّهُ عَلَيْنَا فَلْيَفْعَلْ . فَقَالَ النَّاسُ : قَدْ طَيَّبْنَا ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ لَهُمْ ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ (ﷺ): (إِنَّا لَاَ نَدْرِي مَنْ أَذِنَ مِنْكُمْ فِي ذَلِكَ مِمَّنْ لَمْ يَأْذَنْ ، فَارْجِعُوا حَتَّى يَرْفَعَ إِلَيْنَا عُرَفَاؤُكُمْ أَمْرَكُمْ فَرَجَعَ النَّاسُ، فَكَلَّمَهُمْ عُرَفَاؤُهُمْ، ثُمَّ رَجَعُوا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ فَأَخْبَرُوهُ : أَنَّهُمْ قَدْ طَيِّبُوا وَأَذِنُوا .
মিসওয়ার বিন মাখরামা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ হাওয়াযেন গোত্রের প্রতিনিধি দল মুসলিম হয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আগমণ করে তাদের ধন- সম্পদ ও বন্দী ফেরত চাইলে তিনি বললেনঃ আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় কথা হচ্ছে সত্য কথা তোমরা দু'টোর মধ্যে যে কোন একটি বেছে নাও। হয় বন্দী ফেরত নাও অথবা সম্পদ ফেরত নাও। আর আমি তোমাদের অপেক্ষায় ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তায়েফ থেকে প্রত্যাবর্তন করে দশ দিনেরও বেশী সময় তাদের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। তারা যখন পরিষ্কার বুঝতে পারল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু'টোর মধ্যে মাত্র একটি ফেরত দিবেন তখন তারা বললঃ আমরা আমাদের বন্দীদেরকেই গ্রহণ করছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন মুসলিমদের মাঝে দাঁড়িয়ে আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করার পর বললেনঃ অতঃপর তোমাদের এ ভাইয়েরা তাওবা করে আমার নিকট এসেছে এবং আমার মতামত এই যে, আমি বন্দীদের ফেরত দেই। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ফেরত দিতে চায় সে যেন ফেরত দেয়। আর যে ব্যক্তি বিনিময় চায় তাকে আমরা ঐ গণীমতের মাল হতে তা দেব যা সর্বপ্রথমে আল্লাহ আমাদেরকে দান করবেন (এ শর্তে সে ফেরত দিক)। লোকেরা বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা নিজ খুশীতেই তাদেরকে ফেরত দিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কে অনুমতি দিল আর কে অনুমতি দিলনা তা আমরা বুঝতে পারছিনা। তাই তোমরা চলে যাও। তোমাদের সরদারগণ তোমাদের মতামত আমাদের কাছে পেশ করুক। লোকেরা ফিরে গিয়ে তাদের নেতাদের সাথে কথা বলল। অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট ফেরত এসে তাকে জানাল যে, লোকেরা সন্তুষ্ট চিত্তেই অনুমতি দিয়েছে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৪৪)
৩৯/৫ পরিচ্ছেদঃ

কেউ যদি কোন প্রতিনিধি নিয়োগ করে এবং ঐ প্রতিনিধি কোন কিছু ছেড়ে দেয় অতঃপর প্রতিনিধি নিয়োগকারী তা অনুমোদন করে, তবে এটা জায়েয

১০৬৮
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : وَكَّلَنِي رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ) بِحِفْظُ زَكَاةِ رَمَضَانَ، فَأَتَانِي آتٍ، فَجَعَلَ يَحْنُو مِنَ الطَّعَامِ، فَأَخَذْتُهُ وَقُلْتُ : لأَرْفَعَنَّكَ إِلَى رَسُولِ اللهِ ، قَالَ : إِنِّي مُحْتَاجٌ وَعَلَيَّ عِيَالٌ وَلي حَاجَةٌ شَدِيدَةٌ، قَالَ: فَخَلَّيْتُ عَنْهُ، فَأَصْبَحْتُ فَقَالَ النَّبِيُّ (ﷺ): (يَا أَبَا هُرَيْرَةَ مَا فَعَلَ أَسِيرُكَ الْبَارِحَةَ؟). قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ ، شَكَا حَاجَةٌ شَدِيدَةٌ، وَعِيَالًا، فَرَحِمْتُهُ فَخَلَّيْتُ سَبِيلَهُ، قَالَ: (أَمَا إِنَّهُ قَدْ كَذَّبَكَ، وَسَيَعُودُ). فَعَرَفْتُ أَنَّهُ سَيَعُودُ ، لِقَوْلِ رَسُولِ اللهِ (ﷺ): (إِنَّهُ سَيَعُودُ). فَرَصَدْتُهُ، فَجَاءَ يَحْنُو مِنَ الطَّعَامِ، فَأَخَذْتُهُ فَقُلْتُ : لأَرْفَعَنَّكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ (ﷺ) قَالَ: دَعْنِي فَإِنِّي مُحْتَاجٌ وَعَلَيَّ عِيَالٌ، لا أَعُودُ، فَرَحِمْتُهُ فَخَلَّيْتُ سَبِيلَهُ، فَأَصْبَحْتُ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ) : (يَا أَبَا هُرَيْرَةَ مَا فَعَلَ أَسِيرُكَ؟). قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ شَكَا حَاجَةٌ شَدِيدَةٌ وَعِيَالًا، فَرَحِمْتُهُ فَخَلَّيْتُ سَبِيلَهُ، قَالَ: (أَمَا إِنَّهُ كَذَبَكَ، وَسَيَعُودُ). فَرَصَدْتُهُ الثَّالِثَةَ، فَجَعَلَ يَحْنُو مِنَ الطَّعَامِ، فَأَخَذْتُهُ فَقُلْتُ : لأَرْفَعَنَّكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ، وَهُذَا آخِرُ ثَلَاثِ مَرَّاتٍ أَنَّكَ تَزْعُمُ لاَ أُعَلِّمْكَ تَعُودُ، ثُمَّ تَعُودُ. قَالَ: دَعْنِي كَلِمَاتٍ يَنْفَعُكَ اللهُ بِهَا، قُلْتُ مَا هُنَّ؟ قَالَ : إِذَا أَوَيْتَ إِلَى فِرَاشِكَ، فَأَقْرَأْ آيَةَ الكُرْسِيّ : اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الحَيُّ الْقَيُّومُ حَتَّى تَخْتِمَ الآيَةَ، فَإِنَّكَ لَنْ يَزَالَ عَلَيْكَ مِنَ اللَّهِ حَافِظٌ، وَلَا يَقْرَبَكَ شَيْطَانٌ حَتَّى تُصْبِحَ، فَخَلَّيْتُ سَبِيلَهُ، فَأَصْبَحْتُ ، فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ): (مَا فَعَلَ أَسِيرُكَ البَارِحَةَ؟). قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، زَعَمَ أَنَّهُ يُعَلِّمُنِي كَلِمَاتٍ يَنْفَعُنِي اللَّهُ بِهَا فَخَلَّيْتُ سَبِيلَهُ، قَالَ: (مَا هِيَ؟). قُلْتُ : قَالَ لِي : إِذَا أَوَيْتَ إِلَى فِرَاشِكَ، فَاقْرَأْ آيَةَ الْكُرْسِيِّ مِنْ أَوَّلِهَا حَتَّى تَخْتِمَ : الله لا إلَهَ إِلَّا هُوَ الحَيُّ الْقَيُّومُ . وَقَالَ لِي : لَنْ يَزَالَ عَلَيْكَ مِنَ اللَّهِ حافِظُ، وَلَا يَقْرَبُكَ شَيْطَانٌ حَتَّى تُصْبِحَ - وَكَانُوا أَحْرَصَ شَيْءٍ عَلَى الْخَيْرِ – فَقَالَ النَّبِيُّ (ﷺ) : (أَمَا إِنَّهُ قَدْ صَدَقَكَ وَهُوَ كَذُوبٌ، تَعْلَمُ مَنْ تُخَاطِبُ مِنْذُ ثَلَاثِ لَيَالٍ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ). قُلْتُ: لَا ، قَالَ: ذَاكَ شَيْطَانٌ).
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ একবার নবী (ﷺ) আমাকে রামাযানের যাকাত পাহারা দেয়ার দায়িত্ব অর্পন করেছিলেন। এক আগন্তুক আমার নিকট এসে অঞ্জলি ভর্তি করে খাদ্য দ্রব্য তুলে নিতে লাগল। আমি তাকে গ্রেফতার করে ফেললাম এবং বললামঃ আল্লাহর শপথ! আমি তোমাকে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট নিয়ে যাব। সে বললঃ আমাকে ছেড়ে দাও। আমি অভাবগ্রস্ত, আমার উপর পরিবার-পরিজনের ভরণ- পোষণের দায়িত্ব ন্যস্ত এবং আমার প্রয়োজন খুবই তীব্র। আবু হুরায়রা বলেনঃ তার প্রতি আমার দয়া হল। তাই আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। সকালে নবী (ﷺ) বললেনঃ হে আবু হুরায়রা! তোমার গত রাতের বন্দীর খবর কি? তিনি বলেনঃ আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! সে তীব্র অভাবের ও পরিবারের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করার কারণে তার প্রতি আমার দয়া হল। তাই আমি তাকে ছেড়ে দিয়েছি।

নবী (ﷺ) বললেনঃ সে তোমার সাথে মিথ্যা বলেছে এবং সে আবার আসবে। রাসূল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কথা “সে আবার আসবে” এ থেকে আমি বুঝতে পারলাম যে, সে পুনরায় আসবে। আমি তার অপেক্ষায় ওঁৎ পেতে থাকলাম। দ্বিতীয় দিনও সে এসে অঞ্জলি ভর্তি করে খাদ্য দ্রব্য তুলে নিতে লাগল। আমি তাকে আবার গ্রেফতার করে ফেললাম এবং বললামঃ আল্লাহর শপথ! আমি তোমাকে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট নিয়ে যাব। সে বললঃ আমাকে ছেড়ে দাও। আমি অভাবগ্রস্ত। আমার উপর পরিবারের ভরণ-পোষণের ভার ন্যস্ত। আমি আর আসবনা। আবু হুরায়রা বলেনঃ তার প্রতি আমার দয়া হল। তাই আমি তাকে ছেড়ে দিলাম৷ সকালে নবী (ﷺ) বললেনঃ হে আবু হুরায়রা! তোমার গত রাতের বন্দীর খবর কী? তিনি বলেনঃ আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! সে তীব্র অভাবের ও পরিবারের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করার কারণে তার প্রতি আমার দয়া হল। তাই আমি তাকে ছেড়ে দিয়েছি।

নবী (ﷺ) বললেনঃ সে তোমার সাথে মিথ্যা বলেছে এবং সে আবার আসবে। তৃতীয়বারও আমি তার আগমণের অপেক্ষায় ওঁৎ পেতে থাকলাম। এবারও সে এসে অঞ্জলি ভর্তি করে খাদ্য দ্রব্য তুলে নিতে লাগল। আমি তাকে গ্রেফতার করে ফেললাম এবং বললামঃ আমি তোমাকে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট নিয়ে যাব। এ নিয়ে তিনবার হল। প্রত্যেকবারই তুমি বল যে আর আসবে না। কিন্তু তুমি আবার আস। সে বললঃ আমাকে ছেড়ে দাও। আমি তোমাকে এমন কিছু বাক্য শিক্ষা দেব, যার দ্বারা আল্লাহ তোমার উপকার করবেন। আবু হুরায়রা বলেনঃ আমি বললামঃ সেগুলো কি? সে বললঃ যখন তুমি শয্যা গ্রহণ করবে তখন আয়াতুল কুরসী তথা সূরা বাকারা ২৫৫ নং আয়াত প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করবে। (তুমি যখন তা পাঠ করবে) তখন সারা রাত আল্লাহর পক্ষ হতে তোমার জন্য একজন রক্ষক থাকবেন। সকাল পর্যন্ত শয়তান তোমার নিকটেই আসবেনা। আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। সকালে নবী (ﷺ) বললেনঃ হে আবু হুরায়রা! তোমার গত রাতের বন্দীর খবর কি? আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেনঃ আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! সে বলেছে যে, আমি তোমাকে এমন কতিপয় বাক্য শিক্ষা দিবো যার দ্বারা আল্লাহ আমার উপকার করবেন। তাই আমি তাকে ছেড়ে দিয়েছি।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সেটি কী? আমি বললামঃ সে আমাকে বললঃ যখন তুমি শয্যা গ্রহণ করবে তখন আয়াতুল কুরসী তথা সূরা বাকারা ২৫৫ নং আয়াত প্ৰথম থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করবে। (তুমি যখন তা পাঠ করবে) তখন থেকে সারা রাত আল্লাহর পক্ষ হতে তোমার জন্য একজন রক্ষক থাকবেন। সকাল পর্যন্ত শয়তান তোমার নিকটেই আসবে না। আর সাহাবীগণ ছিলেন কল্যাণ অর্জনের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী। নবী (ﷺ) তখন বললেনঃ সে সত্য বলেছে অথচ সে মিথ্যুক। তুমি কি জান তিন রাত্রি যাবৎ তুমি কার সাথে কথা বলছিলে? আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেনঃ আমি বললামঃ না। তিনি বললেনঃ সে হল শয়তান (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৪৫)