মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
৫৫. নবীদের অবস্থার বিবরণ
مختصر صحيح البخاري
৫৫/১ পরিচ্ছেদঃ
আদম ও তাঁর বংশধর সৃষ্টির কাহিনী
১৩৯৯
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ) قَالَ : (خَلَقَ اللهُ آدَمَ وَطُولُهُ سِتُّونَ ذِرَاعًا، ثُمَّ قَالَ : اذْهَبْ فَسَلَّمْ عَلَى أُولئِكَ مِنَ المَلائِكَةِ ، فَاسْتَمِعْ ما يُحَبُّونَكَ، تَحِيَّتُكَ وَتَحِيَّةُ ذُرِّيَّتِكَ، فَقَالَ : السَّلامُ عَلَيْكُمْ، فَقَالُوا : السَّلامُ عَلَيْكَ وَرَحْمَةُ اللَّهِ، فَزَادُوهُ : وَرَحْمَةُ اللَّهِ ، فَكُلُّ مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ آدَمَ ، فَلَمْ يَزَلْ الخَلْقُ يَنْقُصُ حَتَّى الآنَ).
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ্ তাআলা যখন আদমকে সৃষ্টি করলেন তখন তাঁর দৈর্ঘ ছিল ষাট হাত। অতঃপর তাঁকে বললেনঃ তুমি যাও এবং ঐ সমস্ত ফেরেশতাদেরকে সালাম কর। তাঁরা তোমার সালামের জবাবে যা বলে তা শুন। সেটিই হবে তোমার এবং তোমার সন্তানদের সালামের রীতি। সুতরাং আদম (আঃ) তাদের নিকট গিয়ে বললেনঃ (السلام عليكم)। ফেরেশতাগণ জবাবে বললেনঃ আস্সালামু আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ। জবাবে তারা ‘রাহমাতুল্লাহ্’ বৃদ্ধি করল। যিনিই জান্নাতে প্রবেশ করবেন, তিনিই আদমের আকার বিশিষ্ট হবেন। আদমের পর থেকে বনী আদমের দৈর্ঘ্য কমতে কমতে বর্তমান অবস্থায় পৌঁছেছে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১৩৬৮)
১৪০০
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : بَلَغَ عَبْدَ اللهِ بْنَ سَلَام رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مَقْدَمُ رَسُولِ اللهِ (ﷺ) المَدِينَةَ، فَأَتَاهُ فَقَالَ : إِنِّي سَائِلُكَ عَنْ ثَلاثٍ لَا يَعْلَمُهُنَّ إِلا نَبِيُّ : مَا أَوَّلُ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ، وَمَا أَوَّلُ طَعَام يَأْكُلُهُ أَهْلُ الجَنَّةِ، وَمِنْ أَيِّ شَيْءٍ يَنْزِعُ الْوَلَدُ إِلَى أَبِيهِ، وَمِنْ أَيِّ شَيْءٍ يَنْزِعُ إِلَى أَخْوَالِهِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ) : خَبَّرَنِي بِهِنَّ آنِفًا جِبْرِيلُ). قالَ : فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ : ذَاكَ عَدُوُّ الْيَهُودِ مِنَ المَلائِكَةِ ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ (ﷺ): (أَمَّا أَوَّلُ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ فَنَارٌ تَحْشُرُ النَّاسَ مِنَ المَشْرِقِ إِلَى المَغْرِبِ، وَأَمَّا أَوَّلُ طَعَام يَأْكُلُهُ أَهْلُ الجَنَّةِ فَزِيَادَةُ كَبِدِ حُوتٍ، وَأَمَّا الشَّبَهُ في الْوَلَدِ : فَإِنَّ الرَّجُلَ إِذَا غَشِيَ المَرْأَةَ فَسَبَقَهَا مَاؤُهُ كانَ الشَّبَهُ لَهُ، وَإِذَا سَبَقَ مَاؤُها كانَ الشَّبَهُ لَهَا . قَالَ : أَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ اللهِ ، ثُمَّ قَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ، اليَهُودَ قَوْمٌ بُهت ، إِنْ عَلِمُوا بِإِسْلامِي قَبْلَ أَنْ تَسْأَلَهُمْ بَهَتُونِي عِنْدَكَ، فَجَاءَتِ الْيَهُودُ وَدَخَلَ عَبْدُ اللَّهِ الْبَيْتَ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ (ﷺ): (أَيُّ رَجُلٍ فِيكُمْ عَبْدُ اللَّهِ ابْنُ سَلام؟ قالُوا: أَعْلَمُنَا، وَابْنُ أَعْلَمِنَا، وَأَخْيَرُنَا، وَابْنُ أَخْيَرنا، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ (ﷺ): (أَفَرَأَيْتُمْ إِنْ أَسْلَمَ عَبْدُ الله؟ قالوا : أَعاذَهُ اللَّهُ مِنْ ذَلِكَ، فَخَرَجَ عَبْدُ اللَّهِ إِلَيْهِمْ فَقَالَ : أَشْهَدُ أَنْ لا إِلهَ إلا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، فَقَالُوا : شَرُّنَا ، وَابْنُ شَرْنَا ، وَوَقَعُوا فِيهِ .
আনাস (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ আব্দুল্লাহ্ ইবনে সালামের নিকট যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মদীনা আগমণের সংবাদ পৌছল তখন তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খেদমতে এসে বললেনঃ আমি আপনাকে এমন তিনটি বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করব, যা নবী ছাড়া অন্য কেউ অবগত নন। (১) কিয়ামতের সর্বপ্রথম আলামত কোনটি? (২) জান্নাতীদের প্রথম খাদ্য কি হবে? (৩) কি কারণে সন্তান পিতার সাদৃশ্য ও আকৃতি লাভ করে? আবার কি কারণে সন্তান কখনও মামাদের আকৃতি ধারণ করে?
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ জিবরীল এখনই এ বিষয়গুলো সম্পর্কে আমাকে অবিহিত করলেন। আনাস বলেনঃ আব্দুল্লাহ্ ইবনে সালাম বললেনঃ সে তো ফেরেশতাদের মধ্যে ইহুদীদের শত্রু। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জবাব দিলেনঃ কিয়ামতের সর্বপ্রথম আলামত হচ্ছে এমন একটি আংশ, যা মানুষকে পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে একত্রিত করবে। জান্নাতীদের প্রথম খাদ্য হচ্ছে মাছের কলিজার বর্ধিত অংশ। আর সন্তানের আকৃতির ব্যাপারে কথা হচ্ছে, পুরুষ যখন আপন স্ত্রীর সাথে সহবাস করে তখন পুরুষের বীর্য স্ত্রীর বীর্যের উপর জয়লাভ করলে শিশু তার পিতার আকৃতি লাভ করে।
আর যদি স্ত্রীর বীর্য জয়লাভ করে তবে সন্তান মায়ের আকৃতি ধারণ করে। আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম বলেনঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহর রাসূল। অতঃপর তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! ইহুদীরা মিথ্যুক জাতি। তাদেরকে জিজ্ঞেস করার পূর্বে যদি তারা আমার ইসলাম সম্পর্কে জেনে যায়, তাহলে তারা আপনার কাছে আমার কুৎসা গাইবে।
অতঃপর ইহুদীরা এসে গেল। আব্দুল্লাহ ঘরে ঢুকে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম কেমন লোক? তারা জবাব দিলঃ তিনি আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম জ্ঞানী এবং সর্বোত্তম জ্ঞানীর পুত্র। তিনি আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি এবং সর্বোত্তম জ্ঞানী ব্যক্তির পুত্র। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তিনি যদি ইসলাম গ্রহণ করেন তবে তোমাদের অভিমত কি হবে। তারা বললঃ আল্লাহ্ তাকে এ থেকে রক্ষা করুন। আব্দুল্লাহ হঠাৎ তাদের সামনে এসে গেলেন এবং ঘোষণা করলেনঃ
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً رَسُوْلُ اللَّهِ
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল। এই ঘোষণা শুনে তারা তৎক্ষণাৎ বলে উঠলঃ সে আমাদের মধ্যে সর্বাধিক নিকৃষ্ট ব্যক্তি এবং নিকৃষ্টতম ব্যক্তির পুত্র। অতঃপর তারা তাঁর গীবত ও কুৎসা রটনায় লিপ্ত হল। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১৩৬৯)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ জিবরীল এখনই এ বিষয়গুলো সম্পর্কে আমাকে অবিহিত করলেন। আনাস বলেনঃ আব্দুল্লাহ্ ইবনে সালাম বললেনঃ সে তো ফেরেশতাদের মধ্যে ইহুদীদের শত্রু। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জবাব দিলেনঃ কিয়ামতের সর্বপ্রথম আলামত হচ্ছে এমন একটি আংশ, যা মানুষকে পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে একত্রিত করবে। জান্নাতীদের প্রথম খাদ্য হচ্ছে মাছের কলিজার বর্ধিত অংশ। আর সন্তানের আকৃতির ব্যাপারে কথা হচ্ছে, পুরুষ যখন আপন স্ত্রীর সাথে সহবাস করে তখন পুরুষের বীর্য স্ত্রীর বীর্যের উপর জয়লাভ করলে শিশু তার পিতার আকৃতি লাভ করে।
আর যদি স্ত্রীর বীর্য জয়লাভ করে তবে সন্তান মায়ের আকৃতি ধারণ করে। আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম বলেনঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহর রাসূল। অতঃপর তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! ইহুদীরা মিথ্যুক জাতি। তাদেরকে জিজ্ঞেস করার পূর্বে যদি তারা আমার ইসলাম সম্পর্কে জেনে যায়, তাহলে তারা আপনার কাছে আমার কুৎসা গাইবে।
অতঃপর ইহুদীরা এসে গেল। আব্দুল্লাহ ঘরে ঢুকে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম কেমন লোক? তারা জবাব দিলঃ তিনি আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম জ্ঞানী এবং সর্বোত্তম জ্ঞানীর পুত্র। তিনি আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি এবং সর্বোত্তম জ্ঞানী ব্যক্তির পুত্র। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তিনি যদি ইসলাম গ্রহণ করেন তবে তোমাদের অভিমত কি হবে। তারা বললঃ আল্লাহ্ তাকে এ থেকে রক্ষা করুন। আব্দুল্লাহ হঠাৎ তাদের সামনে এসে গেলেন এবং ঘোষণা করলেনঃ
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً رَسُوْلُ اللَّهِ
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল। এই ঘোষণা শুনে তারা তৎক্ষণাৎ বলে উঠলঃ সে আমাদের মধ্যে সর্বাধিক নিকৃষ্ট ব্যক্তি এবং নিকৃষ্টতম ব্যক্তির পুত্র। অতঃপর তারা তাঁর গীবত ও কুৎসা রটনায় লিপ্ত হল। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১৩৬৯)
১৪০১
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীوعَنْهُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ) قال: (لَوْلاَ بَنُو إِسْرَائِيلَ لَمْ يَخْتَزِ اللَّحْمُ، وَلَوْلَا حَوَّاءُ لَمْ تَخُنْ أُنْثَى زَوْجَهَا ) .
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ বনী ইসরাঈল না হলে গোশত পচন ধরত না। আর হাওয়া না হলে কোন মহিলাই তার স্বামীর খেয়ানত করত না। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১৩৭০)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ এখানে মূলতঃ দোষারোপ হিসাবে নয়; বরং একটি ইতিবৃত্ত ও সূত্র হিসাবে কথাটি বলা হয়েছে। কেননা মা হাওয়া খেয়ানত করেন নি; বরং তিনি প্রথম মহিলা মাত্র, হাঁ নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণে তিনি আদম (আঃ)কে উদ্বুদ্ধ করেছেন মাত্র। আর বনী ইসরাঈলকে 'মান ও সালওয়া' নামক জান্নাতী খাবার জমা রাখতে নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা জমা করে রাখায় তা বাসি হয়ে যায়।
১৪০২
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَرْفَعُهُ : أَنَّ اللَّهَ يَقُولُ لِأَهْوَنِ أَهْلِ النَّارِ عَذَابًا : لَوْ أَنَّ لَكَ مَا فِي الْأَرْضِ مِنْ شَيْءٍ كُنْتَ تَفْتَدِي بِهِ؟ قَالَ : نَعَمْ، قَالَ : فَقَدْ سَأَلْتُكَ ما هُوَ أَهْوَنُ مِنْ هَذَا وَأَنْتَ في صُلْبِ آدَمَ : أَنْ لَا تُشْرِكَ بِي، فَأَبَيْتَإِلاَّ الشِّرْكَ ).
আনাস (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
আনাস (রাঃ) মারফু সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ্ দোযখবাসীদের সবচেয়ে কম আযাব ভোগকারীকে জিজ্ঞেস করবেনঃ দুনিয়ার সমস্ত সম্পদ যদি তোমাদের হাসিল হয়ে যায়, তবে এই আযাবের বিনিময়ে তুমি কি সব সম্পদ দিয়ে দিবে? সে বলবেঃ হ্যাঁ। আল্লাহ্ বলবেনঃ অথচ তুমি যখন আদমের পৃষ্ঠে ছিলে তখন আমি তোমার কাছে এর চেয়ে অতি সহজ একটি বিষয় কামনা করেছিলাম। তা হচ্ছে আমার সাথে কাউকে শরীক করোনা। কিন্তু তুমি তা মানতে অস্বীকার করলে এবং শির্কে লিপ্ত হলে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১৩৭১)
১৪০৩
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ) : (لَا تُقْتَلُ نَفْسٌ ظُلْمًا، إلا كانَ عَلَى ابْنِ آدَمَ الأَوَّلِ كِفْلٌ مِنْ دَمِهَا، لِأَنَّهُ أَوَّلُ مَنْ سَنَ الْقَتْلَ).
আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যখনই কোন ব্যক্তিকে নাহকভাবে হত্যা করা হয়, তখনই তার এ খুনের গুনাহ্ এর একটি অংশ আদমের বড় ছেলের (কাবীলের) উপর বর্তায়। কেননা সেই সর্বপ্রথম খুনের প্রচলন করে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১৩৭২)
৫৫/২ পরিচ্ছেদঃ
আল্লাহর বাণীঃ “তারা তোমাকে যুল-কারনাইন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে। তুমি বলঃ আমি অচিরেই তোমাদেরকে তাঁর কিছু অবস্থা জানাবো”।
১৪০৪
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ زَيْنَبَ ابْنَةِ جَحْشٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا : أَنَّ النَّبِيَّ (ﷺ) دَخَلَ عَلَيْهَا فَزِعًا يَقُولُ: (لاَ إِلَهَ إِلا اللَّهُ، وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٌ قَدِ اقْتَرَبَ، فُتِحَ الْيَوْمَ مِنْ رَدْمِ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مِثْلُ هَذِهِ) وَحَلَّقَ بِإِصْبَعِهِ الإِبْهَامِ وَالَّتِي تَلِيهَا، قَالَتْ زَيْنَبُ بِنْتُ جَحْشٍ : فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ ، أَنَهْلِكُ وَفِينَا الصَّالِحُونَ؟ قَالَ: (نَعَمْ، إِذَا كَثُرَ الخَبَثُ).
যায়নাব বিনতে জাশ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
“একদা নবী (ﷺ) তাঁর নিকট ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে প্রবেশ করলেন। তিনি বলছিলেনঃ لَا إِلَهَ إِلَا اللَّهُ। আরবদের জন্য ধ্বংস! একটি অকল্যাণ তাদের অতি নিকটবর্তী হয়েছে। আজ ইয়াজুয-মা'জুযের প্রাচীর এই পরিমাণ খুলে দেয়া হয়েছে। এ কথা বলে তিনি হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলী ও তার পার্শ্বের আঙ্গুল দিয়ে বৃত্ত তৈরী করে দেখালেন। যায়নাব বিনতে জাশ (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মাঝে সৎ লোক থাকতেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাবো? নবী (ﷺ) বললেনঃ হ্যাঁ, যখন পাপ কাজ বেড়ে যাবে”। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১৩৭৩)
১৪০৫
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ) قَالَ : (يَقُولُ اللهُ تَعَالَى: يَا آدَمُ، فَيَقُولُ: لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ، وَالْخَيْرُ في يَدَيْكَ، فَيَقُولُ : أَخْرِجْ بَعْثَ النَّارِ، قَالَ : وَمَا بَعْثُ النَّارِ؟ قالَ : مِنْ كُلِّ أَلْفِ تِسْعَمِائَةٍ وَتِسْعَةً وَتِسْعِينَ، فَعِنْدَهُ يَشِيبُ الصَّغِيرُ، وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا، وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَى وَمَا هُمْ بِسُكَارَى، وَلَكِنَّ عَذَابَ اللهِ شَدِيدٌ). قالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَأَيُّنَا ذلِكَ الْوَاحِدُ؟ قالَ : (أَبْشِرُوا ، فَإِنَّ مِنْكُمْ رَجُلًا وَمِنْ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ أَلْفًا. ثُمَّ قالَ : وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، إِنِّي أَرْجُو أَنْ تكُونُوا رُبعَ أَهْل الجَنَّةِ . فَكَبَّرْنَا ، فَقَالَ: أَرْجُو أَنْ تَكُونُوا ثُلُثَ أَهْلِ الجَنَّةِ). فَكَبَّرْنَا ، فَقَالَ : (أَرْجُو أَنْ تَكُونُوا نِصْفَ أَهْل الجَنَّةِ) فَكَبَّرْنَا، فَقَالَ: (مَا أَنْتُمْ في النَّاسِ إِلا كَالشَّعَرَةِ السَّوْدَاءِ فِي جِلْدِ ثَوْرِ أَبْيَضَ ، أَوْ كَشَعَرَةٍ بَيْضَاءَ فِي جِلْدِ ثَوْرِ أَسْوَدَ).
আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ্ তাআলা কিয়ামতের দিন আদমকে বলবেনঃ হে আদম! আদম বলবেনঃ আমি হাজির আছি, প্রস্তুত আছি। সব কল্যাণ আপনার হাতেই। আল্লাহ্ তাআলা নির্দেশ দিবেনঃ জাহান্নামী দলকে বের কর। আদম বলবেনঃ জাহান্নামী দলের সংখ্যা কত? আল্লাহ্ বলবেনঃ প্রতি হাজারে নয়শ নিরানব্বই জন। সে সময় (চরম ভয়াবহ অবস্থার কারণে) শিশুরা বৃদ্ধ হয়ে যাবে, প্রত্যেক গর্ভবতীর গর্ভপাত হয়ে যাবে। তুমি মানুষকে মাতালের মত দেখতে পাবে। অথচ তারা মাতাল নয়। কিন্তু আল্লাহর আযাব অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। সাহাবীগণ বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! সেই একজন আমাদের মধ্যে কে হবেন? তিনি বললেনঃ তোমরা আনন্দিত হও। তোমাদের মধ্যে থেকে হবে একজন এবং ইয়াজুজ-মাজুজ থেকে হবে বাকী নয়শত নিরানব্বই জন।
অতঃপর নবী (ﷺ) বললেনঃ যার হাতে আমার জীবন তাঁর শপথ! আমি আশা করি জান্নাতবাসীর চারভাগের একভাগ হবে তোমরা। একথা শুনে আমরা তাকবীর পাঠ করলাম। তারপর তিনি বললেনঃ আমার আশা, তোমরাই হবে জান্নাতবাসীর তিনভাগের একভাগ। একথা শুনে আমরা তাকবীর পাঠ করলাম। তারপর তিনি বললেনঃ আমার আশা, তোমরাই হবে জান্নাতবাসীর অর্ধেক। এবারও আমরা উঁচু আওয়াজে তাকবীর ধ্বনি দিলাম। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমরা তো অন্যান্য লোকদের তুলনায় একটি সাদা বলদের চামড়ায় একটি কালো লোমের ন্যায় অথবা একটি কালো বলদের চামড়ায় একটি সাদা লোমের ন্যায়। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১৩৭৪)
অতঃপর নবী (ﷺ) বললেনঃ যার হাতে আমার জীবন তাঁর শপথ! আমি আশা করি জান্নাতবাসীর চারভাগের একভাগ হবে তোমরা। একথা শুনে আমরা তাকবীর পাঠ করলাম। তারপর তিনি বললেনঃ আমার আশা, তোমরাই হবে জান্নাতবাসীর তিনভাগের একভাগ। একথা শুনে আমরা তাকবীর পাঠ করলাম। তারপর তিনি বললেনঃ আমার আশা, তোমরাই হবে জান্নাতবাসীর অর্ধেক। এবারও আমরা উঁচু আওয়াজে তাকবীর ধ্বনি দিলাম। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমরা তো অন্যান্য লোকদের তুলনায় একটি সাদা বলদের চামড়ায় একটি কালো লোমের ন্যায় অথবা একটি কালো বলদের চামড়ায় একটি সাদা লোমের ন্যায়। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১৩৭৪)
৫৫/৩ পরিচ্ছেদঃ