মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
৫৪. সৃষ্টির সূচনা
مختصر صحيح البخاري
৫৪/১ পরিচ্ছেদঃ
আল্লাহর বাণীঃ তিনিই তো আল্লাহ, যিনি সৃষ্টির সূচনা করেন। অতঃপর তিনিই তা পুনরুজ্জীবিত করবেন। এটি তাঁর পক্ষে অতি সহজ
১৩৪৮
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا ، قَالَ : جَاءَ نَفَرٌ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ إِلَى النَّبِيِّ (ﷺ) فَقَالَ: (يَا بَنِي تَمِيم أَبْشِرُوا ) . قالُوا : بَشَرْتَنَا فَأَعْطِنَا، فَتَغَيَّرَ وَجْهُهُ، فَجَاءَهُ أَهْلُ الْيَمَنِ، فَقَالَ: (يَا أَهْلَ الْيَمَنِ، أَقْبَلُوا الْبُشْرَى إِذْ لَمْ يَقْبَلْهَا بَنُو تَمِيمٍ). قالُوا : قَبِلْنَا ، فَأَخَذَ النَّبِيُّ (ﷺ) يُحَدِّثُ بَدْءَ الخَلْقِ وَالْعَرْشِ، فَجَاءَ رَجُلٌ فَقَالَ : يَا عِمْرَانُ رَاحِلَتُكَ تَفَلَّتَتْ، لَيْتَنِي لَمْ أَقُمْ .
ইমরান বিন হুসাইন (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ বনী তামীম গোত্রের কিছু লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আগমণ করলে তিনি বললেনঃ হে বনী তামীম! তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। তারা বললঃ আপনি তো আমাদেরকে সুসংবাদ দিলেন এখন কিছু দান করুন। একথায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে গেল। অতঃপর ইয়ামানের কিছু লোক তাঁর নিকট আসল। তিনি বললেনঃ হে ইয়ামানবাসী বনী তামীম তো সুসংবাদ গ্রহণ করল না। সুতরাং তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। তারা বললঃ আমরা সুসংবাদ গ্রহণ করলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সৃষ্টির সূচনা ও আরশ সম্পর্কে আলোচনা শুরু করলেন। এমন সময় এক লোক এসে বলতে লাগলঃ হে ইমরান! তোমার উটনী পালিয়ে গেছে। (ইমরান বলেন) হায় আমি যদি একথায় উঠে না যেতাম! (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১৩১৯)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ ইমরান বিন হুসাইন থেকে অপর বর্ণনায় এসেছে, নবী (ﷺ) বলেনঃ আদিতে একমাত্র আল্লাহ-ই ছিলেন। তিনি ছাড়া আর কিছুই ছিলনা। তাঁর আরশ ছিল পানির উপর। তারপর তিনি প্রত্যেক জিনিষ লাওহে মাহফুযে লিপিবদ্ধ করলেন এবং তিনি আসমান ও যমিন সৃষ্টি করলেন। এ সময় এক ব্যক্তি হাঁক ছাড়লঃ হে ইবনে হুসাইন! তোমার উটনী চলে গেছে। তাই আমি চলে গেলাম। দেখলাম উটনীটি মরীচিকাময় প্রান্তর পিছনে ফেলে আরও সামনে অগ্রসর হচ্ছে। আল্লাহর শপথ! আমার ইচ্ছা ছিল, আমি যদি উটনীটিকে একেবারেই পরিত্যাগ করতাম!
১৩৪৯
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীوَعَنْهُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - في رواية قالَ: قالَ رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ): (كَانَ اللَّهُ وَلَمْ يَكُنْ شَيْءٌ غَيْرُهُ، وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى المَاءِ، وَكَتَبَ فِي الذِّكْرِ كُلَّ شَيْءٍ، وَخَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ فَنَادَى مُنَادٍ : ذَهَبَتْ نَاقَتُكَ يَا ابْنَ الحُصَيْنِ، فَانْطَلَقْتُ فَإِذَا هِيَ يَقْطَعُ دُونَهَا السَّرَابُ، فَوَاللَّهِ لَوَدِدْتُ أَنِّي كُنْتُ تَرَكْتُهَا .
ইমরান বিন হুসাইন (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বললেন, একমাত্র আল্লাহই ছিলেন, আর তিনি ছাড়া আর কোন কিছুই ছিল না। তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে। অতঃপর তিনি লাওহে মাহফুজে সব কিছু লিপিবদ্ধ করলেন এবং আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করলেন। এ সময় একজন ঘোষণাকারি ঘোষণা করল, হে ইব্নু হুসাইন! আপনার উটনী পালিয়ে গেছে। তখন আমি এর খোঁজে চলে গেলাম। দেখলাম তা এত দূরে চলে গেছে যে, তার এবং আমার মধ্যে মরীচিকাময় ময়দান দূরত্ব হয়ে পড়েছে। আল্লাহ্র কসম! আমি তখন উটনীটিকে একেবারে ছেড়ে দেয়ার ইচ্ছা করলাম। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১৩১৯)
১৩৫০
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ الله عَنْهُ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ (ﷺ) : (قَالَ اللهُ تعالى : يَشْتِمُنِي ابْنُ آدَمَ، وَمَا يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَشْتِمَنِي، وَيُكَذِّبُنِي، وَمَا يَنْبَغِي لَهُ. أَمَّا شَتْمُهُ فَقَوْلُهُ : إِنَّ لِي وَلَدًا، وَأَمَّا تَكْذِيبُهُ فَقَوْلُهُ : لَيْسَ يُعِيدُنِي كَمَا بَدَأَنِي).
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ আদম সন্তান আমাকে গালি দেয়। অথচ আমাকে গালি দেয়া তার শোভা পায়না। আর আদম সন্তান আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। অথচ আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা তার অনুচিত। আমাকে গালি দেয়ার অর্থ হচ্ছে, সে বলে আমার সন্তান আছে। (নাউযুবিল্লাহ) আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার অর্থ হচ্ছে, সে বলে তিনি আমাকে যেভাবে সৃষ্টি করেছেন, সেভাবে পুনঃসৃষ্টি করবেন না। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১৩২০)
১৩৫১
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীوعَنْهُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ (ﷺ): (لَمَّا قَضَى اللَّهُ الخَلْقَ كَتَبَ في كِتَابِهِ، فَهُوَ عِنْدَهُ فَوْقَ الْعَرْشِ : إِنَّ رَحْمَتِي غَلَبَتْ غَضَبِي) .
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ্ তাআলা যখন সৃষ্টিকর্ম সমাধা করলেন তখন লাওহে মাহফুযে লিখে রাখলেন যে, আমার রহমত আমার ক্রোধের উপর জয়লাভ করেছে। আর এ কিতাবটি আল্লাহর নিকট আরশের উপর বিদ্যমান। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১৩২১)
৫৪/২ পরিচ্ছেদঃ
সাত যমীনের ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে
১৩৫২
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي بَكْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ) قَالَ: (الزَّمَانُ قَدِ اسْتَدَارَ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ خَلَقَ اللهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ ، السَّنَةُ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا، مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ، ثَلَاثَةٌ مُتَوَالِيَاتٌ : ذُو الْقَعْدَةِ وَذُو الْحِجَّةِ وَالْمُحَرَّمُ، وَرَجَبُ مُضَرَ، الَّذِي بَيْنَ جُمَادَى وَشَعْبَانَ).
আবু বাকরা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ তাআলা আসমান-যমীন সৃষ্টি করার সময় যামানা যে রকম ছিল ঘুরে ফিরে আজও সে অবস্থায় অবিচল রয়েছে। বার মাসে এক বছর। তা থেকে চারটি হচ্ছে সম্মানিত মাস। তা থেকে তিনটি আসে পরপর। যুল-কাদ, যুল-হজ্জ ও মুহাররাম। আর বাকী মাসটি হচ্ছে মুযার গোত্রের রজব মাস। তা হচ্ছে, জুমাদাস্ সানী ও শাবানের মাঝখানে অবস্থিত। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১৩২২)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ রজব মাসকে মুযার গোত্রের মাস বলার কারণ এই যে, মুযার গোত্র এমাসকে অধিক সম্মান করত৷
৫৪/৩ পরিচ্ছেদঃ
আল্লাহর বাণীঃ সূর্য ও চন্দ্র একটি নির্দিষ্ট হিসাবের অনুগামী
১৩৫৩
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي ذَرِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قالَ: قالَ النَّبِيُّ (ﷺ) لِابِي ذَرِّ حِينَ غَرَبَتِ الشَّمْسُ : (تَدْرِي أَيْنَ تَذْهَبُ؟) قُلْتُ : اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: (فَإِنَّهَا تَذْهَبُ حَتَّى تَسْجُدَ تَحْتَ الْعَرْشِ، فَتَسْتَأْذِنَ فَيُؤْذَنُ لَهَا ، وَيُوشِكُ أَنْ تَسْجُدَ فَلَا يُقْبَلَ مِنْهَا ، وَتَسْتَأْذِنَ فَلاَ يُؤْذَنُ لَهَا ، يُقَالَ لَهَا : ارْجِعِي مِنْ حَيْثُ جِنْتِ، فَتَطْلُعُ مِنْ مَغْرِبِهَا ، فَذلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى : وَالشَّمْسُ تَجِرْي لِمُسْتَقَرٌّ لَهَا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيم).
আবু যার (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ একদা সূর্যাস্তের সময় নবী (ﷺ) আমাকে বললেনঃ হে আবু যাহ্! তুমি কি জান সূর্য কোথায় যায়? আমি বললামঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জানেন। তিনি বললেনঃ তা যেতে যেতে আরশের নীচে সিজদাবনত হয়ে আল্লাহর নিকট পুনরায় উদিত হওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করে। তাকে অনুমতি দেয়া হয়। এমন এক সময় আসবে যখন সিজদাহ করবে, কিন্তু তার সেই সিজদাহ গ্রহণ করা হবে না, সে অনুমতি চাইবে। কিন্তু তাকে অনুমতি দেয়া হবে না। তাকে বলা হবে যেখান থেকে এসেছ সেখানে ফেরত যাও। অতঃপর সে পশ্চিম দিকে উদিত হবে। এটাই হল আল্লাহ তা'আলার বাণীর মর্মার্থঃ সূর্য তার নির্ধারিত ঠিকানার উদ্দেশ্যে চলমান। ওটিই সর্বশক্তিমান মহাজ্ঞানী আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। (সূরা ইয়াসীনঃ ৩৮) (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১৩২৩)
১৩৫৪
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ) قَالَ: (الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ مُكَوَّرَانِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ)
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ কিয়ামতের দিন সূর্য ও চন্দ্রকে গুটিয়ে নেয়া হবে। অর্থাৎ জ্যোতিহীন ও আলোহীন করে দেয়া হবে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১৩২৪)