১
বিদআতের পরিচয়
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০৩
৬০. কারো অন্ধ অনুসরণ করা শুদ্ধ নয়
কোন আলেমের কথা শুনে কিংবা শুধু তাদেরকে আমল করতে দেখে নিজে কোন আমল বা ইবাদাত করা সঠিক নয়। কারণ সব আলেম হকের উপর থাকবেন কিংবা সহীহ আমল করবেন এমনটি মনে করা যাবে না। তাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো ইসলামের ব্যাপারে সঠিক তথ্য নাও পেতে পারেন। আবার অনেকেই বৈষয়িক স্বার্থে ইসলামকে ব্যবহার করতে পারেন, কিংবা অভাব-অনটনের কারণেও কেউ ইসলামের বিপরীত আমল করতে পারেন।
তাই যারা সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত তাদের উচিত কোন আমল বা ইবাদাত করার সময় কুরআন কিংবা সহীহ হাদীসের সাথে তা মিল আছে কিনা যাচাই করে দেখা। যদি বলা হয়, সাধারণ মানুষের সেই সময়-সুযোগ কোথায়? তারা জবাব হলো, দুনিয়ার কাজের ব্যাপারে কোন মানুষ সহজে ঠকতে চায় না। তাহলে আখিরাতের ব্যাপারে সে ঠকবে কেন? আমলের জন্য সঠিক ইলমের প্রয়োজন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলকে প্রথম কাজ দিয়েছেন পড়া অর্থাৎ ইলম অর্জন করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿اِقْرَاْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِيْ خَلَقَ﴾ -
পড়ো, তোমার পালনকর্তার নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। (সূরা আলাক্ব, ১-৫)
অনুরূপভাবে দ্বীনের কোন বিষয়ে মুরববীদের কথা অন্ধভাবে মানা সঠিক নয়। কারণ কোন ব্যক্তি মুফতী, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফকীহ হয়ে থাকলেই যে তিনি সবকিছু সঠিকভাবে জানবেন এমনটি নয়। আলেমগণ সম্মানের পাত্র ঠিক। তবে তাদের করো কোন কথা বা আমল কুরআন কিংবা সহীহ হাদীসের সাথে যদি না মিলে তাহলে শুধু সম্মানের খাতিরে তাদের ঐ কথা মানা যাবে না। এ ক্ষেত্রে এমন কথা সম্পূর্ণ জাহেলী বা মূর্খতা ছাড়া আর কিছু নয় যে, আমাদের বুযুর্গ, মুরববী ও বাপদাদারা কি কম বুঝেছেন? আমরা তাদের বাইরে যাবো কেন? এসব কথা কাফের মুশরিকদের। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَاِذَا قِيْلَ لَهُمُ اتَّبِعُوْا مَاۤ اَنْزَلَ اللهُ قَالُوْا بَلْ نَتَّبِعُ مَاۤ اَلْفَيْنَا عَلَيْهِ اٰبَآءَنَا ؕ اَوَلَوْ كَانَ اٰبَآؤُهُمْ لَا يَعْقِلُوْنَ شَيْئًا وَّلَا يَهْتَدُوْنَ
যখন তাদেরকে বলা হয় যে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার অনুসরণ করো তখন তারা বলে, বরং আমরা তাঁরই অনুসরণ করব যার উপর আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি। যদিও তাদের পিতৃপুরুষদের কোন জ্ঞান ছিল না এবং তারা হেদায়াতপ্রাপ্তও ছিল না (তবুওকি তারা তাদের অনুসরণ করবে)।
(সূরা বাক্বারা- ১৭০)
আমরা হানাফী মাজহাবের অনুসারী, অনুরূপভাবে আমরা হাম্বলী কিংবা মালেকী অথবা শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী বলাও শুদ্ধ নয়। শুদ্ধ হলো আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর অনুসারী বলা। যে কোন মুসলিমকে হতে হবে একমাত্র আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ ﷺ এর অনুসারী। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
قُلْ اِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللهَ فَاتَّبِعُوْنِيْ يُحْبِبْكُمُ اللهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْؕ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
তাদেরকে বলে দাও, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও তবে আমার (নবীর) অনুসরণ করো। (যদি কর) তাহলে আল্লাহও তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা আলে ইমরান- ৩১)
وَمَاۤ اٰتَاكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوْهُۗ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوْاۚ وَاتَّقُوا اللهَؕ اِنَّ اللهَ شَدِيْدُ الْعِقَابِ
রাসূল তোমাদেরকে যা দেয় তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা হতে তোমাদেরকে নিষেধ করে তা হতে বিরত থাকো। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি দানে খুবই কঠোর। (সূরা হাশর- ৭)
ইলমের দিক দিয়ে মানুষ তিন ধরনের-
প্রথম শ্রেণি : প্রকৃত আলেম- যাকে আল্লাহ ইলম ও উপলব্ধি দুটোই দান করেছেন। এ প্রকার ব্যক্তি শরয়ী বিষয় নিয়ে গবেষণা করতে পারেন এবং মত পেশ করতে পারেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿لَعَلِمَهُ الَّذِيْنَ يَسْتَنْۢبِطُوْنَهٗ مِنْهُمْ﴾
যারা অনুসন্ধান করে তারা জানতে পারে। (সূরা নিসা- ৮৩)
মূলত এ শ্রেণির আলেমগণই কুরআন ও সুন্নাহ থেকে হুকুম-আহকাম উদঘাটনের অধিকারী।
দ্বিতীয় শ্রেণি : জ্ঞান পিপাসু- যাকে আল্লাহ তা‘আলা জ্ঞান দিয়েছেন, কিন্তু তিনি প্রথম শ্রেণি পর্যন্ত পৌঁছতে পারেননি। যদি তিনি সাধারণ বিষয়গুলো এবং তার কাছে যে জ্ঞানটুকু পৌঁছেছে তার অনুসরণ করেন, তার জন্য কোন দোষ নেই। তবে তিনি তার চেয়ে বড় আলেমকে জিজ্ঞেস করার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করবেন না।
তৃতীয় শ্রেণি : যার কোন ইলম নেই। তার জন্য আলেমগণকে জিজ্ঞেস করা আবশ্যক। যেসব সাধারণ মানুষ পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখে না তাদের দায়িত্ব হলো, তাদের যতটুকু জ্ঞান আছে সে অনুযায়ী আমল করা, সত্যকে মেনে নেয়ার জন্য নিজেদের মন উন্মুক্ত রাখা এবং যতদূর সম্ভব নির্ভরযোগ্য আলেমদের কাছে দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞেস করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿فَاسْأَلُوْاۤ أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ ﴾
অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমাদের জানা না থাকে।
(সূরা নাহল- ৪৩, ৪৪)
মাসআলা কার কাছে জিজ্ঞেস করবে :
যারা ইসলাম সম্পর্কে বেশি জ্ঞান রাখে না, তারা এ সম্পর্কে যারা জানে তাদের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করে নেবে। কিন্তু আলেম তো অনেক আছেন- তাদের মধ্যে কাকে জিজ্ঞেস করবে?
সাধারণ ব্যক্তির উপর তার কাছে সবচেয়ে বিশ্বস্ত আলেমকে জিজ্ঞেস করা আবশ্যক। কেননা মানুষের শারীরিক অসুস্থতার কারণে যেমন সে সবচেয়ে ভালো ডাক্তার খুঁজে। তেমনি এ ক্ষেত্রেও তাই করবে। কারণ জ্ঞান হলো অজ্ঞতার ঔষধ। মানুষের শারীরিক অসুস্থতার জন্য যেমন ভালো ডাক্তার নির্ণয় করতে হয়, তেমনি অজ্ঞতার অসুস্থতার জন্য ভালো আলেম নির্ণয় করতে হবে।
তবে অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি জ্ঞানী ব্যক্তি নির্দিষ্ট কোন মাসআলায় ভুল করতে পারেন এবং তুলনামূলক কম জ্ঞানী ব্যক্তি সঠিক ফতওয়া দিতে পারেন। সুতরাং জ্ঞান, আল্লাহভীতি ও দ্বীনদারিতায় অধিকতর সঠিকতার নিকটবর্তী ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করা উচিত।
যে আলেম নির্দিষ্ট কোন দল বা মাযহাবের অনুসরণ করেন, কোনভাবেই মাযহাব কর্তৃক গ্রহণীয় মতামতের বাইরে যেতে রাজি নন, তাদের কাছে মাসআলা জিজ্ঞেস করা হলে অনেক সময় সঠিক উত্তর পাওয়া যাবে না। কারণ, মূলনীতি হচ্ছে, যদি কোন মাসআলায় মতভেদ দেখা দেয় তবে অধিকতর সহীহ দলীলের ভিত্তিতে গৃহীত মতটি গ্রহণ করতে হবে।
মানুষ কি কোন ইমামের এমন অনুসরণ করবে যে, তার কথার বাইরে যাবে না, যদিও হক অন্যের সাথে থাকে? নাকি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দলীলের অনুসরণ করবে, যদিও তা তার অনুসারী ইমামের মতের বিরোধী হয়?
দ্বিতীয়টিই এর সঠিক জবাব। সেজন্য যিনি দলীল জানতে পারবেন তার উপর সেই দলীলের অনুসরণ করা আবশ্যক- যদিও তা ইমামের বিরোধী হয়। যে ব্যক্তি বিশ্বাস করবে, রাসূলুল্লাহ ﷺ ব্যতীত অন্য কারো কথা সর্বাবস্থায় এবং সব সময় অবশ্য পালনীয়, সে মূলত অন্য কারো জন্য রিসালাতের বৈশিষ্ট্য প্রমাণ করল। অথচ রাসূলুল্লাহ ﷺ ব্যতীত অন্য কারো কথা সর্বদা অনুসরণীয় হতে পারে না।
এজন্য সকল মুজতাহিদ ইমামের কথাগুলো পর্যালোচনা করে যার কথা অধিক শুদ্ধ হবে এবং সহীহ দলীলের কাছাকাছি হবে তার কথা মেনে নেয়ার মানসিকতা যাদের রয়েছে তারাই কেবল সঠিক উত্তর দিতে পারবেন।
তাই যারা সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত তাদের উচিত কোন আমল বা ইবাদাত করার সময় কুরআন কিংবা সহীহ হাদীসের সাথে তা মিল আছে কিনা যাচাই করে দেখা। যদি বলা হয়, সাধারণ মানুষের সেই সময়-সুযোগ কোথায়? তারা জবাব হলো, দুনিয়ার কাজের ব্যাপারে কোন মানুষ সহজে ঠকতে চায় না। তাহলে আখিরাতের ব্যাপারে সে ঠকবে কেন? আমলের জন্য সঠিক ইলমের প্রয়োজন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলকে প্রথম কাজ দিয়েছেন পড়া অর্থাৎ ইলম অর্জন করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿اِقْرَاْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِيْ خَلَقَ﴾ -
পড়ো, তোমার পালনকর্তার নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। (সূরা আলাক্ব, ১-৫)
অনুরূপভাবে দ্বীনের কোন বিষয়ে মুরববীদের কথা অন্ধভাবে মানা সঠিক নয়। কারণ কোন ব্যক্তি মুফতী, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফকীহ হয়ে থাকলেই যে তিনি সবকিছু সঠিকভাবে জানবেন এমনটি নয়। আলেমগণ সম্মানের পাত্র ঠিক। তবে তাদের করো কোন কথা বা আমল কুরআন কিংবা সহীহ হাদীসের সাথে যদি না মিলে তাহলে শুধু সম্মানের খাতিরে তাদের ঐ কথা মানা যাবে না। এ ক্ষেত্রে এমন কথা সম্পূর্ণ জাহেলী বা মূর্খতা ছাড়া আর কিছু নয় যে, আমাদের বুযুর্গ, মুরববী ও বাপদাদারা কি কম বুঝেছেন? আমরা তাদের বাইরে যাবো কেন? এসব কথা কাফের মুশরিকদের। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَاِذَا قِيْلَ لَهُمُ اتَّبِعُوْا مَاۤ اَنْزَلَ اللهُ قَالُوْا بَلْ نَتَّبِعُ مَاۤ اَلْفَيْنَا عَلَيْهِ اٰبَآءَنَا ؕ اَوَلَوْ كَانَ اٰبَآؤُهُمْ لَا يَعْقِلُوْنَ شَيْئًا وَّلَا يَهْتَدُوْنَ
যখন তাদেরকে বলা হয় যে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার অনুসরণ করো তখন তারা বলে, বরং আমরা তাঁরই অনুসরণ করব যার উপর আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি। যদিও তাদের পিতৃপুরুষদের কোন জ্ঞান ছিল না এবং তারা হেদায়াতপ্রাপ্তও ছিল না (তবুওকি তারা তাদের অনুসরণ করবে)।
(সূরা বাক্বারা- ১৭০)
আমরা হানাফী মাজহাবের অনুসারী, অনুরূপভাবে আমরা হাম্বলী কিংবা মালেকী অথবা শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী বলাও শুদ্ধ নয়। শুদ্ধ হলো আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর অনুসারী বলা। যে কোন মুসলিমকে হতে হবে একমাত্র আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ ﷺ এর অনুসারী। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
قُلْ اِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللهَ فَاتَّبِعُوْنِيْ يُحْبِبْكُمُ اللهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْؕ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
তাদেরকে বলে দাও, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও তবে আমার (নবীর) অনুসরণ করো। (যদি কর) তাহলে আল্লাহও তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা আলে ইমরান- ৩১)
وَمَاۤ اٰتَاكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوْهُۗ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوْاۚ وَاتَّقُوا اللهَؕ اِنَّ اللهَ شَدِيْدُ الْعِقَابِ
রাসূল তোমাদেরকে যা দেয় তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা হতে তোমাদেরকে নিষেধ করে তা হতে বিরত থাকো। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি দানে খুবই কঠোর। (সূরা হাশর- ৭)
ইলমের দিক দিয়ে মানুষ তিন ধরনের-
প্রথম শ্রেণি : প্রকৃত আলেম- যাকে আল্লাহ ইলম ও উপলব্ধি দুটোই দান করেছেন। এ প্রকার ব্যক্তি শরয়ী বিষয় নিয়ে গবেষণা করতে পারেন এবং মত পেশ করতে পারেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿لَعَلِمَهُ الَّذِيْنَ يَسْتَنْۢبِطُوْنَهٗ مِنْهُمْ﴾
যারা অনুসন্ধান করে তারা জানতে পারে। (সূরা নিসা- ৮৩)
মূলত এ শ্রেণির আলেমগণই কুরআন ও সুন্নাহ থেকে হুকুম-আহকাম উদঘাটনের অধিকারী।
দ্বিতীয় শ্রেণি : জ্ঞান পিপাসু- যাকে আল্লাহ তা‘আলা জ্ঞান দিয়েছেন, কিন্তু তিনি প্রথম শ্রেণি পর্যন্ত পৌঁছতে পারেননি। যদি তিনি সাধারণ বিষয়গুলো এবং তার কাছে যে জ্ঞানটুকু পৌঁছেছে তার অনুসরণ করেন, তার জন্য কোন দোষ নেই। তবে তিনি তার চেয়ে বড় আলেমকে জিজ্ঞেস করার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করবেন না।
তৃতীয় শ্রেণি : যার কোন ইলম নেই। তার জন্য আলেমগণকে জিজ্ঞেস করা আবশ্যক। যেসব সাধারণ মানুষ পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখে না তাদের দায়িত্ব হলো, তাদের যতটুকু জ্ঞান আছে সে অনুযায়ী আমল করা, সত্যকে মেনে নেয়ার জন্য নিজেদের মন উন্মুক্ত রাখা এবং যতদূর সম্ভব নির্ভরযোগ্য আলেমদের কাছে দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞেস করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿فَاسْأَلُوْاۤ أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ ﴾
অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমাদের জানা না থাকে।
(সূরা নাহল- ৪৩, ৪৪)
মাসআলা কার কাছে জিজ্ঞেস করবে :
যারা ইসলাম সম্পর্কে বেশি জ্ঞান রাখে না, তারা এ সম্পর্কে যারা জানে তাদের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করে নেবে। কিন্তু আলেম তো অনেক আছেন- তাদের মধ্যে কাকে জিজ্ঞেস করবে?
সাধারণ ব্যক্তির উপর তার কাছে সবচেয়ে বিশ্বস্ত আলেমকে জিজ্ঞেস করা আবশ্যক। কেননা মানুষের শারীরিক অসুস্থতার কারণে যেমন সে সবচেয়ে ভালো ডাক্তার খুঁজে। তেমনি এ ক্ষেত্রেও তাই করবে। কারণ জ্ঞান হলো অজ্ঞতার ঔষধ। মানুষের শারীরিক অসুস্থতার জন্য যেমন ভালো ডাক্তার নির্ণয় করতে হয়, তেমনি অজ্ঞতার অসুস্থতার জন্য ভালো আলেম নির্ণয় করতে হবে।
তবে অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি জ্ঞানী ব্যক্তি নির্দিষ্ট কোন মাসআলায় ভুল করতে পারেন এবং তুলনামূলক কম জ্ঞানী ব্যক্তি সঠিক ফতওয়া দিতে পারেন। সুতরাং জ্ঞান, আল্লাহভীতি ও দ্বীনদারিতায় অধিকতর সঠিকতার নিকটবর্তী ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করা উচিত।
যে আলেম নির্দিষ্ট কোন দল বা মাযহাবের অনুসরণ করেন, কোনভাবেই মাযহাব কর্তৃক গ্রহণীয় মতামতের বাইরে যেতে রাজি নন, তাদের কাছে মাসআলা জিজ্ঞেস করা হলে অনেক সময় সঠিক উত্তর পাওয়া যাবে না। কারণ, মূলনীতি হচ্ছে, যদি কোন মাসআলায় মতভেদ দেখা দেয় তবে অধিকতর সহীহ দলীলের ভিত্তিতে গৃহীত মতটি গ্রহণ করতে হবে।
মানুষ কি কোন ইমামের এমন অনুসরণ করবে যে, তার কথার বাইরে যাবে না, যদিও হক অন্যের সাথে থাকে? নাকি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দলীলের অনুসরণ করবে, যদিও তা তার অনুসারী ইমামের মতের বিরোধী হয়?
দ্বিতীয়টিই এর সঠিক জবাব। সেজন্য যিনি দলীল জানতে পারবেন তার উপর সেই দলীলের অনুসরণ করা আবশ্যক- যদিও তা ইমামের বিরোধী হয়। যে ব্যক্তি বিশ্বাস করবে, রাসূলুল্লাহ ﷺ ব্যতীত অন্য কারো কথা সর্বাবস্থায় এবং সব সময় অবশ্য পালনীয়, সে মূলত অন্য কারো জন্য রিসালাতের বৈশিষ্ট্য প্রমাণ করল। অথচ রাসূলুল্লাহ ﷺ ব্যতীত অন্য কারো কথা সর্বদা অনুসরণীয় হতে পারে না।
এজন্য সকল মুজতাহিদ ইমামের কথাগুলো পর্যালোচনা করে যার কথা অধিক শুদ্ধ হবে এবং সহীহ দলীলের কাছাকাছি হবে তার কথা মেনে নেয়ার মানসিকতা যাদের রয়েছে তারাই কেবল সঠিক উত্তর দিতে পারবেন।