hadith book logo

বিদআতের পরিচয়

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮

৪. খতমে কুরআনের অনুষ্ঠান করা

বসবাসের জন্য কোনো নতুন বাসা-বাড়িতে ওঠার সময় অথবা অন্য যে কোনো সময় অনিষ্ট হতে বাঁচার নিয়তে অথবা দোকান, অফিস ইত্যাদি উদ্বোধন উপলক্ষে অথবা ব্যবসা-বাণিজ্যে বরকত লাভের উদ্দেশ্যে, বিপদাপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে, কোনো রোগ থেকে মুক্তি লাভের উদ্দেশ্যে, মৃত ব্যক্তির জন্য ইসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে, কারো মৃত্যুবার্ষিকী কেন্দ্র করে কুলখানি, পরিবহণ কিংবা গাড়ি চালু করার শুরুতে কিংবা শহীদ দিবস, জাতীয় দিবস ইত্যাদি পালন করা উপলক্ষে কুরআন পড়ার প্রচলিত রীতি জায়েয নয়। অনুরূপভাবে শবীনা খতমের নামে কুরআনের কোনো হাফেয দ্বারা সারা রাত জেগে অথবা দিনে মাইক দিয়ে কুরআন পড়াও বিদআত।

খতমে কুরআন একটি উত্তম ইবাদাত। এ ইবাদাত দৈহিকভাবে করা হয় বিধায় তা কারো জন্য বিনিময় করা যায় না।

কুরআন খতম করার নিয়ম হচ্ছে, এটি সর্বনিম্ন তিন দিনে পাঠ করে শেষ করা। হাদীসে এসেছে,

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ لِىْ رَسُوْلُ اللهِ - - اِقْرَإِ الْقُرْاٰنَ فِى شَهْرٍ . قَالَ إِنَّ بِىْ قُوَّةً . قَالَ : اِقْرَأْهُ فِى ثَلاَثٍ

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তুমি এক মাসে কুরআন খতম করবে। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বললেন, আমি এর চেয়েও দ্রুত খতম করতে সক্ষম। তিনি বললেন, তাহলে তুমি তিন দিনে কুরআন খতম করবে। [আবু দাউদ হা/১৩৯৩।]

রাসূলুল্লাহ ﷺ এর যুগে তিনি নিজে একাকীই কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং প্রায় সময়ই সাহাবীগণ তা শুনতে পেতেন। আর সাহাবীগণও রাসূলুল্লাহ ﷺ এর হুবহু অনুসরণ করতেন। কিন্তু বর্তমানে প্রচলিত কুরআন খতমের মতো করে তারা কখনো একই বৈঠকে এক বা একাধিক জন মিলে খতম করেছেন বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। সুতরাং এরূপ করাটা বিদআতের অন্তর্ভুক্ত।

যেহেতু কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য হচ্ছে, এর উপর আমল করা। আর এর উপর আমল করতে গেলে প্রয়োজন এর ভাষ্যসমূহ ভালোভাবে অনুধাবন করা, যা কুরআন মাজীদ অর্থসহ তিলাওয়াত করা ছাড়া সম্ভব নয়। সুতরাং উচিত হবে, যথাসম্ভব অর্থসহ ধীরে ধীরে তিলাওয়াত করা, যাতে করে এর ভাষ্যসমূহ যথাযথভাবে অনুধাবন করে আমল করা যায়।