১
বিদআতের পরিচয়
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩
১ম পর্ব : বিদআত সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ১. বিদআতের সংজ্ঞা কী?
শাব্দিক অর্থ :
‘বিদআত’ শব্দটি আরবি মূল অক্ষর ب ‐ د ‐ ع থেকে এসেছে। এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে, নব উদ্ভাবিত বস্তু বা নতুন কিছু আবিষ্কার করা। কুরআন মাজীদে ব্যবহৃত بَدِيعُ শব্দটি এই মূল অক্ষরসমূহ হতেই গঠিত। যেমন- বলা হয়েছে, بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ তিনি আকাশ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন।
(সূরা বাকারা : ২/১১৭)
অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা بَدِيعُ শব্দটি এজন্যই ব্যবহার করেছেন যে, আল্লাহ তা‘আলা আকাশ ও জমিন পূর্বের কোনো নমুনা ছাড়াই সম্পূর্ণ নতুনভাবে সৃষ্টি করেছেন।
অতএব بِدْعَةٌ (বিদআত) বলা হয় ঐসব নব উদ্ভাবনকে, যার কোন নমুনা ইতিপূর্বে পৃথিবীতে বিদ্যমান ছিল না।
পারিভাষিক অর্থ :
শরীয়তের পরিভাষায় ‘বিদআত’ এর সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞাটি হলো :
كُلُّ مَا اَحْدَثَ فِي الدِّيْنِ مَا لَا اَصْلَ لَهُ فِي الشَّرْعِ
প্রত্যেক ঐ কর্মকে বিদআত বলা হয়, যা দ্বীনের মধ্যে নতুন আবিষ্কৃত হয়েছে; অথচ শরীয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই।
এ সংজ্ঞাটির সমর্থনে কুরআন মাজীদের আয়াতটি হলো :
﴿أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوْا لَهُمْ مِّنَ الدِّيْنِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللهُ﴾
তাদের কি এমন কতক শরীক আছে, যারা তাদের জন্য বিধান দিয়েছে এমন দ্বীনের, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি? (সূরা শূরা : ৪২/২১)
হাদীসে এসেছে,
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هٰذَا مَا لَيْسَ فِيْهِ فَهُوَ رَدٌّ
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনে নতুন কিছু সংযোজন করবে, যা মূলত তাতে নেই- সেটি পরিত্যাজ্য। [সহীহ বুখারী হা/২৬৯৭; সহীহ মুসলিম হা/৪৫৭৯; সুনানে আবু দাউদ হা/৪৬০৭।]
অপর একটি সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে,
اَلْبِدْعَةُ شَرْعًا ضَابِطُهَا اَلتَّعَبُّدُ لِلّٰهِ بِمَا لَمْ يَشْرَعُهُ اللهُ، وَإِنْ شِئْتَ فَقُلْ : اَلتَّعَبُّدُ لِلّٰهِ تَعَالٰى بِمَا لَيْسَ عَلَيْهِ النَّبِيِّ وَلَا خُلَفَاؤُهُ الرَّاشِدُوْنَ
অর্থাৎ শরীয়তের পরিভাষায় বিদআতের অর্থ হলো- এমন জিনিসের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদাত করা, যা তিনি অনুমোদন করেননি। আর যদি তুমি চাও, তাহলে বলতে পার যে, এমন জিনিসের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদাত করা, যার মাধ্যমে আল্লাহর রাসূল ﷺ ও তাঁর খলীফাগণ ইবাদাত করেন নাই।
এ সংজ্ঞাটির সমর্থনে হাদীস হলো :
فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِىْ وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الْمَهْدِيِّيْنَ الرَّاشِدِيْنَ تَمَسَّكُوْا بِهَا وَعَضُّوْا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُوْرِ
তোমাদের জন্য আবশ্যক হলো আমার সুন্নাত (তরিকা) ও আমার খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত (তরিকা) ধারণ করা। তোমরা ওটাকে শক্তভাবে ধারণ করো- এমনকি মাড়ির দাঁত দিয়ে হলেও। সাবধান! নবোদ্ভাবিত আমলসমূহ থেকে বিরত থাকো। [সহীহ মুসলিম হা/৪৬০৯; সুনানে ইবনে মাজাহ হা/৪২; মুসনাদে আহমদ হা/১৭১৪৫।]
ইমাম শাতেবী (রহ.) বলেন,
اَلْبِدْعَةُ طَرِيْقَةٌ فِي الدِّيْنِ مُخْتَرَعَةٌ تَضَاهِيْ الشَّرْعِيَّةِ يَقْصُدُ بِالسُّلُوْكِ عَلَيْهَامَا يَقْصُدُ بِالطَّرِيْقَةِ الشَّرِيْعَةِ
‘বিদআত’ হচ্ছে ইসলামের ভিতরে নব উদ্ভাবিত এমন সব ইবাদাত, যা শরীয়তে স্বীকৃত ইবাদাতের মতই সওয়াবের উদ্দেশ্যে পালন করা হয়। [ইমাম শাতেবী, আল-ইতিসাম, ১/৩৭ পৃঃ।]
‘বিদআত’ শব্দটি আরবি মূল অক্ষর ب ‐ د ‐ ع থেকে এসেছে। এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে, নব উদ্ভাবিত বস্তু বা নতুন কিছু আবিষ্কার করা। কুরআন মাজীদে ব্যবহৃত بَدِيعُ শব্দটি এই মূল অক্ষরসমূহ হতেই গঠিত। যেমন- বলা হয়েছে, بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ তিনি আকাশ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন।
(সূরা বাকারা : ২/১১৭)
অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা بَدِيعُ শব্দটি এজন্যই ব্যবহার করেছেন যে, আল্লাহ তা‘আলা আকাশ ও জমিন পূর্বের কোনো নমুনা ছাড়াই সম্পূর্ণ নতুনভাবে সৃষ্টি করেছেন।
অতএব بِدْعَةٌ (বিদআত) বলা হয় ঐসব নব উদ্ভাবনকে, যার কোন নমুনা ইতিপূর্বে পৃথিবীতে বিদ্যমান ছিল না।
পারিভাষিক অর্থ :
শরীয়তের পরিভাষায় ‘বিদআত’ এর সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞাটি হলো :
كُلُّ مَا اَحْدَثَ فِي الدِّيْنِ مَا لَا اَصْلَ لَهُ فِي الشَّرْعِ
প্রত্যেক ঐ কর্মকে বিদআত বলা হয়, যা দ্বীনের মধ্যে নতুন আবিষ্কৃত হয়েছে; অথচ শরীয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই।
এ সংজ্ঞাটির সমর্থনে কুরআন মাজীদের আয়াতটি হলো :
﴿أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوْا لَهُمْ مِّنَ الدِّيْنِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللهُ﴾
তাদের কি এমন কতক শরীক আছে, যারা তাদের জন্য বিধান দিয়েছে এমন দ্বীনের, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি? (সূরা শূরা : ৪২/২১)
হাদীসে এসেছে,
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هٰذَا مَا لَيْسَ فِيْهِ فَهُوَ رَدٌّ
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনে নতুন কিছু সংযোজন করবে, যা মূলত তাতে নেই- সেটি পরিত্যাজ্য। [সহীহ বুখারী হা/২৬৯৭; সহীহ মুসলিম হা/৪৫৭৯; সুনানে আবু দাউদ হা/৪৬০৭।]
অপর একটি সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে,
اَلْبِدْعَةُ شَرْعًا ضَابِطُهَا اَلتَّعَبُّدُ لِلّٰهِ بِمَا لَمْ يَشْرَعُهُ اللهُ، وَإِنْ شِئْتَ فَقُلْ : اَلتَّعَبُّدُ لِلّٰهِ تَعَالٰى بِمَا لَيْسَ عَلَيْهِ النَّبِيِّ وَلَا خُلَفَاؤُهُ الرَّاشِدُوْنَ
অর্থাৎ শরীয়তের পরিভাষায় বিদআতের অর্থ হলো- এমন জিনিসের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদাত করা, যা তিনি অনুমোদন করেননি। আর যদি তুমি চাও, তাহলে বলতে পার যে, এমন জিনিসের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদাত করা, যার মাধ্যমে আল্লাহর রাসূল ﷺ ও তাঁর খলীফাগণ ইবাদাত করেন নাই।
এ সংজ্ঞাটির সমর্থনে হাদীস হলো :
فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِىْ وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الْمَهْدِيِّيْنَ الرَّاشِدِيْنَ تَمَسَّكُوْا بِهَا وَعَضُّوْا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُوْرِ
তোমাদের জন্য আবশ্যক হলো আমার সুন্নাত (তরিকা) ও আমার খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত (তরিকা) ধারণ করা। তোমরা ওটাকে শক্তভাবে ধারণ করো- এমনকি মাড়ির দাঁত দিয়ে হলেও। সাবধান! নবোদ্ভাবিত আমলসমূহ থেকে বিরত থাকো। [সহীহ মুসলিম হা/৪৬০৯; সুনানে ইবনে মাজাহ হা/৪২; মুসনাদে আহমদ হা/১৭১৪৫।]
ইমাম শাতেবী (রহ.) বলেন,
اَلْبِدْعَةُ طَرِيْقَةٌ فِي الدِّيْنِ مُخْتَرَعَةٌ تَضَاهِيْ الشَّرْعِيَّةِ يَقْصُدُ بِالسُّلُوْكِ عَلَيْهَامَا يَقْصُدُ بِالطَّرِيْقَةِ الشَّرِيْعَةِ
‘বিদআত’ হচ্ছে ইসলামের ভিতরে নব উদ্ভাবিত এমন সব ইবাদাত, যা শরীয়তে স্বীকৃত ইবাদাতের মতই সওয়াবের উদ্দেশ্যে পালন করা হয়। [ইমাম শাতেবী, আল-ইতিসাম, ১/৩৭ পৃঃ।]