hadith book logo

বিদআতের পরিচয়

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৫

১. ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা

ইসলামী শরীয়তে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ঘোষিত ঈদ হলো দু’টি- ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। তৃতীয় কোনো ঈদের কথা আল্লাহর রাসূল ﷺ এর পক্ষ হতে বর্ণিত হয়নি এবং ঐ দিন উদযাপন করার কোনো কথাও রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেননি। রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ নির্দিষ্ট করে উক্ত তারিখে প্রচলিত মিলাদ মাহফিলের ব্যবস্থা করা, জশনে জুলুস করা, ঐ দিনকে নির্দিষ্ট করে ফকির-মিসকীন এবং মানুষ একত্রিত করে খাওয়া-দাওয়া ইত্যাদির ব্যবস্থা করার কোনো রেওয়াজ নবী ﷺ ও সাহাবায়ে কেরাম থেকে প্রমাণিত নয়।

নবুওয়াত প্রাপ্তির পর নবী ﷺ দীর্ঘ ২৩ বছর জীবিত ছিলেন। তারপর খুলাফায়ে রাশিদীনের সময়কাল ছিল ৩০ বছর। তারপর ১০০ বছর ছিল সাহাবায়ে কেরামের যুগ। আর কম বেশি ২২০ বছর পর্যন্ত ছিল তাবেয়ীগণের যুগ। আর তাদের মধ্যে নবী ﷺ এর পরিপূর্ণ ভালোবাসা ছিল; কিন্তু তাদের সময় মিলাদের কোনো অস্তিত্ব বিদ্যমান ছিল না।

মিলাদের সূচনা :

সর্বপ্রথম এ দিনটি উদযাপন করা হয় মিসরের কায়রোতে। ফাতেমী খলীফারা চতুর্থ শতাব্দীতে এর প্রচলন করে। তারা ছয়টি মীলাদ বা জন্ম উৎসব প্রবর্তন করে। আর তা হলো মিলাদুন্নবী, মিলাদে আলী, মিলাদে ফাতেমাতুজ জোহরা, মিলাদে হাসান, মিলাদে হুসাইন এবং তখনকার খলিফার মিলাদ। সপ্তম শতাব্দীতে ইরবিল শহরে সর্বপ্রথম এ মিলাদ আরম্ভ করে বাদশাহ আবু সাঈদ। সেই থেকে আজ পর্যন্ত তা চলে আসছে এবং তাতে আরো বৃদ্ধি ও সংযোজন ঘটেছে। তারা এতে তাদের প্রবৃত্তির চাহিদা অনুযায়ী সবকিছু যোগ করেছে। [আল-ইবাদা ফি মাদাররিল ইবতেদা, পৃ: ২৫১।]

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেছেন, কতক লোক মিলাদুন্নবী আবিষ্কার করে তারা হয়তো নাসারাদের অনুকরণ করেছে। যেমন তারা ঈসা (আঃ) এর জন্মানুষ্ঠান পালন করে। বস্তুত রাসূলুল্লাহ ﷺ এর পরিপূর্ণ মুহাববত ও সম্মানের পরিচয় হচ্ছে, তাঁর আনুগত্য ও অনুসরণ করা, তাঁর নির্দেশ পালন করা এবং প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে তাঁর সুন্নাত জীবিত করা, তাঁর আনিত দ্বীন প্রচার করা এবং এজন্য অন্তর, হাত ও মুখ দ্বারা জিহাদ করা। কারণ এটাই আমাদের পূর্বসূরি মুহাজির, আনসার ও তাদের যথাযথ অনুসারীদের নীতি ও আদর্শ ছিল। [ইকতেদাউস সিরাত : পৃ: ২৯৪-২৯৫।]