hadith book logo

বিদআতের পরিচয়

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২৪

৯. মৃতব্যক্তি কেন্দ্রিক ভুলসমূহ

১. মৃত ব্যক্তির গোসল না দেয়া পর্যন্ত তার চারপাশে বসে কুরআন পাঠ করা।

২. মুমূর্ষ রোগীর সামনে কুরআন রেখে দেয়া।

৩. মুমূর্ষ রোগীর নিকট সূরা ইয়াসিন পাঠ করা।

৪. মুমূর্ষকে কিবলামুখী করা।

৫. মুমূর্ষ ব্যক্তির নিকট হতে ঋতুবতী, অপবিত্রা প্রসূতি ও অন্যান্য অপবিত্র মানুষদেরকে দূরে রাখা।

৬. মৃত ব্যক্তির পাশে রাত হতে সকাল পর্যন্ত বাতি রাখা।

৭. ধূপ-আগর ইত্যাদি দিয়ে সুগন্ধময় করে রাখা।

৮. দাফন না হওয়া পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির ঘরের কোন খাবার না খাওয়া।

৯. মৃত্যুর খবর প্রচারে বাড়াবাড়ি করা। তবে আশেপাশের লোককে মৃত্যুর খবর জানিয়ে জানাযার প্রস্তুতির কথা বলা দোষণীয় নয়।

১০. মৃত ব্যক্তির পবিত্রতার জন্য ব্যবহৃত খিরকা (বস্ত্রখন্ড) ইত্যাদি দূরে ফেলতে গিয়ে (কোন বিপদের আশঙ্কায়) সঙ্গে লোহা রাখা।

১১. মৃতব্যক্তিকে গোসল দেয়ার সময় প্রত্যেক অঙ্গে পানি ঢালতে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বা অন্যকিছু পাঠ করা।

১২. লাশ উঠানো ও নামানোর সময় এবং পথে নিয়ে যাওয়ার সময় উচ্চৈঃস্বরে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর যিকির করা।

১৩. মহিলার চুল ঝুটি না বেধে বুকের উপর খোলা ফেলে রাখা।

১৪. বরকতের আশায় বা আযাব মাফ হওয়ার আশায় কোন পীর বা ওলীর সুপারিশনামা বা শাজারানামা অথবা অন্য কিছু আয়াত বা দু‘আ কাফনের ভিতরে রাখা।

১৫. কোন ওলীর কবরের পাশে কবর দেয়ার জন্য দূর থেকে লাশ আনা।

১৬. কাফনের উপর কোন আয়াত বা দু‘আ লিখা।

১৭. জানাযার খাটকে ফুল বা অন্যকিছু দিয়ে সজ্জিত করা।

১৮. সৌন্দর্যখচিত কালিমা অথবা আয়াত লিখিত মখমলের চাদর দ্বারা লাশ ঢাকা।

১৯. লাশের উপর বা কবরের উপর ফুল দেয়া।

২০. পুষ্পস্তবক দ্বারা শ্রদ্ধাঞ্জলি দেয়া।

২১. জানাযার সাথে পতাকা বহন করা।

২২. কোন খাদ্যদ্রব্য বা পয়সা ছিটানো।

২৩. এই বিশ্বাস রাখা যে, মৃত ব্যক্তি নেক হলে তার লাশ হাল্কা হয়।

২৪. জানাযা বের হওয়ার সাথে সাথে সাদাকা করা।

২৫. চল্লিশ কদম মাত্র জানাযা বহন করে নির্দিষ্ট সওয়াবের আশা করা।

২৬. লাশের উপর ভিড় জমানো।

২৭. কোন বিশ্বাসে জানাযার নিকটবর্তী বা সম্মুখবর্তী না হওয়া।

২৮. কোন ওলীর কবর তাওয়াফ করা।

২৯. মৃতের উপর জানাযা পড়া হয়েছে তা জানা সত্ত্বেও পুনরায় গায়েবানা জানাযা পড়া।

৩০. জানাযার নামাযের কাতারে গোলাপ জল ছিটানো।

৩১. জুতায় ময়লা নেই জানা সত্ত্বেও জানাযার নামাযের জন্য জুতা খুলে ফেলা অথবা খুলে তার উপর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা।

৩২. সালাত শেষে হাত তুলে জামা‘আতী দু‘আ করা।

৩৩. দাফন করার সময় জোরে জোরে যিকির পড়া।

৩৪. মুর্দার জন্য কবরে বালিশ তৈরি করা।

৩৫. কবরকে সুগন্ধিময় করা।

৩৬. মাটি দেয়ার সময় ‘মিনহা খালাকনাকুম’ আয়াতটি পাঠ করা।

৩৭. কবরে যে লাশ রাখে সে ছাড়া সকলের ‘বিসমিল্লাহি ওয়া আলা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ’ দু‘আ পাঠ করা।

৩৮. লাশের বুকে মাটি রাখা।

৩৯. কবর অধিক উঁচু করা।

৪০. কবরের চার কোণে ও মাঝে খেজুরের ডাল গাঁড়া। [তবে কোন জন্তু-জানোয়ার নষ্ট করে ফেলবে এ আশঙ্কা থাকলে কবরকে রক্ষা করতে কাঁটা ইত্যাদি রাখা দোষণীয় নয়।]

৪১. মৃত ব্যক্তির মাথার দিকে সূরা ফাতিহা বা সূরা বাকারার প্রথমাংশ এবং পায়ের দিকে সূরা বাকারার শেষাংশ পাঠ করা।

৪২. দাফনের পর তালকীন দেয়া।

৪৩. অমাবশ্যার রাতে মৃত্যুবরণ করা খারাপ বা অশুভ মনে করা।

৪৪. দাফনকর্ম শেষ করে এসে হাত-মুখ না ধুয়ে বাড়িতে প্রবেশ করতে বা কাউকে স্পর্শ করতে হয় না বলে বিশ্বাস করা।

৪৫. কবরের পাশে কোন খাদ্য বিতরণ বা পশু যবেহ করা।

৪৬. মৃত ব্যক্তির বাড়িতে যিয়াফত গ্রহণ করা।

৪৭. মৃত ব্যক্তির ঘরে ভোজ করা।

৪৮. কেবল শোক পালনের উদ্দেশ্যে দাড়ি-গোঁফ লম্বা করা।

৪৯. মৃত ব্যক্তির স্ত্রী ব্যতীত অন্য কারো শোক পালনের উদ্দেশ্যে সৌন্দর্য ত্যাগ করা।

৫০. মৃত্যু অবধি বিধবার সৌন্দর্য ত্যাগ করা।

৫১. মৃতের নামে কুরআনখানি, ফাতেহাখানি ও চল্লিশার আয়োজন করা।

৫২. মুর্দার দম যাওয়ার স্থানে কয়েকদিন যাবত বাতি ও ধুপ জ্বালিয়ে রাখা।

৫৩. মৃত ব্যক্তির বাড়িতে রুহ আসে বলে মনে করা।

৫৪. মৃত ব্যক্তি যা খেতে ভালোবাসতো তা সাদকা করা।

৫৫. কারো মরার পূর্বেই কবর খনন করে রাখা।

৫৬. দাফনের পর কয়েকদিন সকাল সকাল কবর যিয়ারত করা।

৫৭. যিয়ারতের জন্য কোন দিন নির্ধারণ করা।

৫৮. কারো কবর যিয়ারতের মাধ্যমে বরকত লাভ হবে মনে করা।

৫৯. কবরের সামনে মুসল্লির মতো খাড়া হওয়া।

৬০. যিয়ারতকারীর মাধ্যমে সালাম পাঠানো।

৬১. লোক ডেকে এনে সালাত ও তিলাওয়াত ইত্যাদি দ্বারা ইসালে সওয়াব করা।

৬২. ইসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা।

৬৩. কবরস্থানের গাছপালাকে পবিত্র মনে করা এবং তা কাটা অনুচিত মনে করা।

৬৪. কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে দূর থেকে সফর করা এবং তাতে এত এত নেকী আছে বলে মনে করা।

৬৫. গোসলের পানি গরম করার জন্য পাক ঘরের চুলা বাদ দিয়ে বাইরে চুলা বানিয়ে পানি গরম করা।

৬৬. মৃত ব্যক্তিকে যেখানে গোসল দেয়া হয় সে স্থান ৪ দিন কিংবা ৪০ দিন পর্যন্ত বেড়া দিয়ে সংরক্ষণ করা এবং রাতের বেলায় সেখানে মোম, হারিকেন বা বৈদ্যুতিক বাতি দিয়ে আলোকিত করে রাখা।

৬৭. কাফন পরানোর সময় নির্ধারিত পরিমাণের চাউল, বিস্কুট ও ফলের ব্যবস্থা করা এবং সেগুলো কবরস্থানে আগত ফকিরদের মাঝে বিলি করা।

৬৮. জানাযা নিয়ে যাওয়ার সময় ‘আল্লাহু রাববী, মুহাম্মাদ নবী’ কিংবা ‘কালিমা শাহাদাত’ পাঠ করা।

৬৯. জানাযা নেয়ার সময় খাটিয়ার উপর আগরবাতি জ্বালানো।

৭০. জানাযা শেষে ‘‘লোকটি কেমন ছিল?’’ উপস্থিত সবাই ‘‘বেশ ভালো ছিল’’ এরকম প্রশ্নোত্তর করা।

৭১. জানাযা পড়ানোর সময় ইমাম একখন্ড সাদা কাপড় জায়নামায হিসেবে ব্যবহার করা, যা মূলত কাফনের কাপড়ের অংশ বিশেষ।

৭২. কোন কাপড়খন্ডের উপর কালিমা লিখে ঐ কাপড়খন্ড কবরের ভেতর মৃতের ডান পাশে মুখ বরাবর কবরের দেয়ালে টাঙ্গিয়ে দেয়া।

৭৩. মৃত ব্যক্তির বাড়িতে তিন দিন পর্যন্ত চুলা না জ্বালানো ও খানা পাক না করা।

৭৪. মৃত ব্যক্তির কাযা সালাত থাকলে কিংবা মৃত ব্যক্তি বেনামাযী হলে তার নামাযের আর্থিক কাফফারা হিসাব করে কাফফারা আদায় করা এবং মৃত ব্যক্তি গরীব হলে কাফফারার হিসেবে একটি কুরআন মাজীদ কাউকে হাদিয়া প্রদান করা।

৭৫. মৃতব্যক্তির আত্মার শান্তি কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা।

৭৬. কবরের উপর পুষ্পস্তবক অর্পণ করা।

৭৭. মৃত ব্যক্তির জন্য শোকসভা করা।

৭৮. দুই ঈদের দিন কবর যিয়ারত করাকে জরুরি মনে করা।

৭৯. নেককার মৃত ব্যক্তির কবর যিয়ারতের মাধ্যমে দু‘আ করা হলে দু‘আ কবুল হবে মনে করা।

৮০. মৃত ব্যক্তিকে তার কোন আত্মীয়স্বজন স্বপ্নে দেখলে তার জন্য যেকোন খতম পড়ানো বা কোন অনুষ্ঠান করা।

সওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে হোক কিংবা বরকত লাভের নিয়তে- এসব কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। কেননা কুরআন-হাদীস ও সালাফে সালেহীন থেকে এসব কাজের সমর্থন পাওয়া যায় না।