hadith book logo

বিদআতের পরিচয়

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬

২. কিয়াম করা

রাসূলুল্লাহ ﷺ এর উপর সালাত ও সালাম পেশ করা একটি ইবাদাত। কিন্তু সালাত ও সালাম পেশ করার সময় দাঁড়ানো এবং ব্যক্তি বিশেষের রচিত সালাত ও সালাম পেশ করা বিদআত। এর মধ্যে দাঁড়ানোর কারণ যদি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে আল্লাহ তা‘আলার মতো উপস্থিত বা হাযির-নাযির মনে করা হয়, তবে তা সুস্পষ্ট শিরক। আর যদি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে হাযির-নাযির মনে না করে দাঁড়ানো হয়, তাহলে তা হবে সম্পূর্ণ বিদআত।

কিয়ামের প্রচলন :

৭৫১ হিজরী সনে খাজা তকীউদ্দীন সুবকী এর দরবারে একজন কবি রিসালাতের মাহাত্ম্য বর্ণনায় কবিতা পাঠ করে। এ সময় খাজা সাহেব আত্মহারা হওয়ার কারণে প্রভাবান্বিত হয়ে দাঁড়িয়ে যান এবং তার সম্মান রক্ষার্থে উপস্থিত সকলেই তার অনুসরণ করে। জানা আবশ্যক যে, যার থেকে মিলাদের প্রচলন হয়েছে তার থেকে কিয়াম প্রচলনের প্রমাণ পাওয়া যায় না। সুতরাং এ দুটিই সম্পূর্ণ নতুন আবিষ্কার।

নবী ﷺ তাঁর সম্মানার্থে দাঁড়িয়ে থাকা পছন্দ করতেন না :

عَنْ اَنَسٍ قَالَ مَا كَانَ شَخْصٌ اَحَبَّ إِلَيْهِمْ مِنْ رَسُوْلِ وَكَانُوْا اِذَا رَأَوْهُ لَمْ يَقُوْمُوْا لِمَا يَعْلَمُوْا مِنْ كَرَاهِيَتِه لِذٰلِكَ

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবায়ে কেরামের চেয়ে অধিক ভালোবাসা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর জন্য আর কারো ছিল না। তারপরও যখন তারা নবী ﷺ-কে দেখতেন, তখন দাঁড়াতেন না। কারণ তারা জানতেন যে, নবী ﷺ এটা পছন্দ করতেন না। [তিরমিযী হা/২৭৫৪; মুসনাদে আহমাদ হা/১২৩৪৫।]

অপর হাদীসে এসেছে,

عَنْ اَبِيْ مِجْلَزٍ قَالَ : خَرَجَ مُعَاوِيَة فَقَامَ عَبْدُ الله بْنِ الزُّبَيْرِ وَابْنِ صَفْوَانَ حِيْنَ رَأَوْهُ فَقَالَ اِجْلِسَا , سَمِعْتُ رَسُوْلُ اللهِ يَقُوْلُ مَنْ سَرَّهٗ اَنْ يَّتَمَثَّلَ لَهُ الرِّجَالُ قِيَامًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهٗ مِنَ النَّارِ

আবু মিজলায (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা মু‘আবিয়া (রাঃ) বের হলেন। তখন আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের এবং আবু সুফইয়ান (রাঃ) দাঁড়িয়ে গেলেন। অতঃপর যখন তিনি তাদেরকে দেখলেন তখন বললেন, তোমরা বসে পড়ো। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি এতে আনন্দ লাভ করে যে, লোকেরা তার জন্য দাঁড়িয়ে থাকুক; সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে তৈরি করে নেয়। [তিরমিযী হা/২৭৫৫; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা হা/২৬০৯৫; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৮১৯; মিশকাত হা/৪২৯৯।]