hadith book logo

বিদআতের পরিচয়

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

৭. বিদআতীদের আচরণ কেমন হয়?

১. অনুমানভিত্তিক কথা বলা :

অধিকাংশ বিদআতীরা কুরআন-হাদীসের সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে নিজের অনুমানের ভিত্তিতে কথা বলে থাকে। আল্লাহ তা‘আলা এদের ব্যাপারে বলেন,

﴿فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرٰى عَلَى اللّٰهِ كَذِبًا أَوْ كَذَّبَ بِاٰيَاتِه ﴾

আর যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে কিংবা তাঁর নিদর্শনসমূহকে প্রত্যাখ্যান করে তার চেয়ে বড় অত্যাচারী আর কে হতে পারে? (সূরা আরাফ ৭:৩৭)

আর হাদীসে এসেছে,

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ - -- مَنْ كَذَبَ عَلَىَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهٗ مِنَ النَّارِ

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যারোপ করে, সে যেন নিজের ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নেয়। [সহীহ মুসলিম হা/৪; আবু দাউদ হা/৩৬৫৩।]

২. কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করা :

বিদআতীরা সর্বদা নিজেদের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে থাকে। ফলে তারা ভালোকে মন্দ এবং মন্দকে ভালো হিসেবে দেখে থাকে। এমতাবস্থায় সুন্নাত ও বিদআত সম্বন্ধে তাদের কোনো জ্ঞান থাকে না।

৩. ফিতনা সৃষ্টি করে বেড়ানো :

কখনো কখনো দেখা যায় যে, তারা তুচ্ছ একটি বিষয়কে অত্যধিক গুরুত্বারোপ করে। এমনকি তারা এ নিয়ে অনেক সময় ঝগড়া-বিবাদ ও মারামারি-হানাহানিতেও জড়িয়ে পড়ে। আবার কখনো কখনো ইসলামের ফরয বিষয়কে তারা তুচ্ছজ্ঞান করে।

৪. হক ও বাতিলকে মিশ্রিত করে ফেলা :

বিদআতীরা হক ও বাতিলকে মিলিয়ে ফেলার ব্যর্থ অপচেষ্টা চালায়। অথচ ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে এটা নিষেধ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَلَا تَلْبِسُوا الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُوا الْحَقَّ وَاَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ﴾

তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে বুঝে সত্যকে গোপন করো না। (সূরা বাক্বারা ২:৪২)

৫. সত্য গোপন করা :

বিদআতীরা নিজেদের মিথ্যা উক্তিকে সত্যে পরিণত করার জন্য নানা ধরনের ছল-চাতুরী ও মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করে থাকে। আবার কখনো কখনো নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে না জানার ভান করে। এটা বড় ধরনের পাপ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿إِنَّ الَّذِيْنَ يَكْتُمُوْنَ مَاۤ أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدٰى مِنْۢ بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولٰٓئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللّٰهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَّاعِنُوْنَ ﴾

আমি যেসব স্পষ্ট নিদর্শন ও পথনির্দেশ অবতীর্ণ করেছি, মানুষের জন্য স্পষ্টভাবে কিতাবে ব্যক্ত করার পরও যারা তা গোপন রাখে, আল্লাহ তাদেরকে লানত করেন এবং লানতকারীরাও তাদেরকে অভিশাপ দেয়।

(সূরা বাকারা ২:১৫৯)

৬. যাদু ও শয়তানী কর্মকান্ডকে কারামত মনে করা :

দ্বীনের সঠিক জ্ঞান না থাকা এবং নিজেদের ঈমানী দুর্বলতার কারণে বিদআতীরা আল্লাহর কার্যাবলি এবং শয়তানের কার্যাবলির মধ্যে যথাযথভাবে পার্থক্য নির্ণয় করতে পারে না। ফলে তারা অনেক সময় যাদুমন্ত্র ও শয়তানী কর্মকান্ডকে আল্লাহর পক্ষ হতে আগত কারামত মনে করে থাকে। অতঃপর এর ভিত্তিতে তারা অনেক বিদআতী কর্মের সূচনা করে থাকে।

৭. উপদেশ গ্রহণ না করা :

বিদআতীরা অপর কারো উপদেশ গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত থাকে না। কেননা তারা সর্বদা নিজেদেরকেই সঠিক জ্ঞান করে থাকে। এজন্যই যখন তাদেরকে বিদআত পরিত্যাগ করার জন্য কোনো উপদেশ দেয়া হয়, তখন তারা তা প্রত্যাখ্যান করে। এমনকি কোনো কোনো সময় তারা উপদেশদাতাকে নানাভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে এবং তার বিরুদ্ধে চক্রান্তেও জড়িয়ে পড়ে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿فَمَا لَهُمْ عَنِ التَّذْكِرَةِ مُعْرِضِيْنَ ‐ - كَاَنَّهُمْ حُمُرٌ مُّسْتَنْفِرَةٌ ‐ - فَرَّتْ مِنْ قَسْوَرَةٍ﴾

তাদের কী হলো যে, তারা উপদেশবাণী (কুরআন) হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়? তারা যেন পলায়নপর গাধা, যা সিংহের সম্মুখ হতে পলায়ন করে। (সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৪৯-৫১)

৮. বিদআতকে বৈধতা দান করা :

বিদআতীরা তাদের বিদআতী কার্যক্রমকে বৈধতা প্রদানের জন্য, কুরআন ও হাদীসের বিকৃত ব্যাখ্যা প্রদান করে থাকে। তারা বিদআতকে উত্তম বিদআত এবং মন্দ বিদআত হিসেবে দুটি ভাগে বিভক্ত করে থাকে। অথচ কুরআন ও হাদীসের দৃষ্টিতে এরূপ বিভক্তি করার কোনো সুযোগ নেই।