hadith book logo

বিদআতের পরিচয়

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪

২. বিদআতের সূচনা কীভাবে হয়?

শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) এ সম্পর্কে বলেন, ‘‘ইলম ও ইবাদাত বিষয়ক সর্বপ্রকার বিদআত খুলাফায়ে রাশেদীনের খিলাফতকালের শেষের দিকেই প্রকাশ পায়। যেমনিভাবে এ বিষয়ে সতর্ক করে নবী ﷺ বলেছিলেন, ‘‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আমার পরে জীবিত থাকবে, অচিরেই সে অনেক মতানৈক্য দেখতে পাবে। সুতরাং তোমাদের জন্য আবশ্যক হচ্ছে, আমার ও আমার পর হেদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা।’’ [ফতোওয়ায়ে ইবনে তাইমিয়া ২/৩৭৮।]

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের বিদআত চালু হয়েছিল :

১. সর্বপ্রথম যে বিদআতটি চালু হয়েছিল, তা হলো কদর (ভাগ্য) সম্পর্কে অর্থাৎ এক দল লোক এরূপ বিশ্বাস করতে আরম্ভ করেছিল যে, তাকদীর বলতে কিছুই নেই। অথচ তাকদীর ঈমানের অন্যতম একটি বিষয়।

২. তারপর চালু হয়েছিল ইরজার বিদআত অর্থাৎ এ বিশ্বাস স্থাপন করা যে, আমল ঈমানের অন্তর্ভুক্ত নয়।

৩. তারপর চালু হয়েছিল তাশাইয়্যূর বিদআত অর্থাৎ এ ধারণা পোষণ করা যে, আলী (রাঃ) ছিলেন প্রথম খলিফা হওয়ার যোগ্য ও হকদার।

৪. তারপর চালু হয়েছিল খাওয়ারেজদের বিদআত, যারা ধারণা করত যে, কবীরা গুনাহকারী কাফির এবং চিরস্থায়ী জাহান্নামী।

৫. তারপর চালু হয় মুতাযিলা সম্প্রদায়ের বিদআত, যারা ধারণা করত যে, শরীয়ত বুঝতে হবে আকল বা জ্ঞান দ্বারা। এদের আবির্ভাব হওয়ার মধ্য দিয়ে ইসলামে নানা ধরনের বিভ্রান্তি ও ফিতনা সৃষ্টি হয়। মানুষ ধীরে ধীরে বিভিন্ন ধরনের মতানৈক্যে জড়িয়ে পড়ে; এমনকি কলহ-বিবাদ ও মারামারিতেও লিপ্ত হয়। তারপর যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের বিদআত চালু হতে থাকে।