১
বিদআতের পরিচয়
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭
৫. বিদআতের প্রকারভেদ সম্পর্কে ভুল ধারণা কী?
বর্তমান সমাজের অনেক আলেম বিদআতকে দুটি ভাগে বিভক্ত করে থাকেন। তা হলো-
(১) اَلْبِدْعَةُ الْحَسَنَةُ তথা উত্তম বিদআত :
এগুলো এমন বিদআত, যা শরীয়তের কোনো সুন্নাতকে বিলুপ্ত করে না; বরং তার দ্বারা শরীয়ত পালনের মাত্রা বৃদ্ধি করে দেয়।
(২) اَلْبِدْعَةُ السَّيِّئَةُ তথা খারাপ বিদআত :
এগুলো হচ্ছে এমন বিদআত, যা শরীয়তের কোনো সুন্নাতকে বিলুপ্ত করে দেয়। সুতরাং এগুলো সম্পূর্ণরূপে হারাম।
পর্যালোচনা :
বিদআত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সতর্কবাণী রয়েছে। হাদীসে এসেছে,
عَنْ عِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ... وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُوْرِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ
ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমাদের উপর আবশ্যক হচ্ছে প্রত্যেক নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ হতে বেঁচে থাকা। কেননা প্রত্যেক নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহই হচ্ছে বিদআত। আর প্রত্যেক বিদআতই হচ্ছে গোমরাহী। [মুসনাদে আহমদ হা/১৭১৪৪; সুনানে ইবনে মাজাহ হা/৪২।]
অত্র হাদীসে দ্বীনের মধ্যে যে কোনো প্রকার সংযোজন করাকেই বিদআত বলা হয়েছে। এখানে বিদআতকে ভালো অথবা মন্দ- এরূপ কোনো ভাগে বিভক্ত করা হয়নি। এমনকি অন্য কোনো সহীহ হাদীসেও এর স্বপক্ষে কোনো দলীল পাওয়া যায় না।
এরপরও অনেকে এর স্বপক্ষে দলীল পেশ করে থাকেন। যেমন-
১. রমাযানের রাতে লোকেরা পৃথক পৃথকভাবে একা একা সালাত আদায় করতো। তখন উমর (রাঃ) তাদেরকে উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)-এর পিছনে জামাআতবন্দী করে দিলেন এবং বললেন, نِعْمَ الْبِدْعَةُ هٰذِه এটি কতই না উত্তম ‘বিদ‘আত’ বা সুন্দর ব্যবস্থা। [সহীহ বুখারী হা/২০১০; বায়হাকী হা/৪৩৭৯।]
অত্র হাদীসে উমর (রাঃ) এর কথা نِعْمَ الْبِدْعَةُ هٰذِه (এটি কতই না সুন্দর বিদআত) এর মধ্যে ব্যবহৃত اَلْبِدْعَةُ শব্দটির দ্বারা আভিধানিক অর্থ উদ্দেশ্য করা হয়েছে; শারঈ অর্থ নয়।
২. মুনযির ইবনে জারির (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি নবী ﷺ থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
مَنْ سَنَّ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةً حَسَنَةً كَانَ لَهُ أَجْرُهَا وَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ بَعْدِهٖ مِنْ غَيْرِ أَنْ يُّنْتَقَصَ مِنْ أُجُوْرِهِمْ شَيْءٌ
যে ব্যক্তি ইসলামে একটি ভালো সুন্নাত চালু করলো, সে ওটার সওয়াব পাবে এবং পরবর্তীতে যারা তার উপর আমল করবে সে তাদের সওয়াবও পাবে; আর এতে আমলকারীদের নেকী হতে কোনোরূপ কমতি করা হবে না। [সহীহ মুসলিম হা/২৩৯৮; সুনানে নাসায়ী হা/২৫৫৩; সুনানে ইবনে মাজাহ হা/২০৩; মুসনাদে আহমদ হা/১৯১৫৬।]
অত্র হাদীসটিতে বিদআতে হাসানা চালু করার কথা বলা হয়নি; বরং সুন্নাতে হাসানা চালু করার কথা বলা হয়েছে। কেননা হাদীসটিতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ ﷺ এর উদ্ধৃতিটি ছিল এমন একটি সুন্নাত কর্মের জন্য, যা প্রকৃতপক্ষে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রদর্শিত সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত।
ঘটনাটি হচ্ছে, একদা একদল সাহাবী ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে এলে তিনি তাদেরকে সাদাকা করার জন্য সাহাবীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। তখন প্রথমে একজন সাহাবী তাকে কিছু সাহায্য করলেন। অতঃপর অন্যান্য সাহাবীও সাহায্য করলেন। অবশেষে দেখা গেল যে, সাহায্যের বস্তুগুলো একটি বড় স্তুপে পরিণত হয়েছে। এতে রাসূলুল্লাহ ﷺ খুশি হয়ে উপরোক্ত উদ্ধৃতিটি করেছিলেন। [সহীহ মুসলিম হা/১০১৭; মুসনাদে আহমাদ হা/১৯১৯৭।]
যেখানে রাসূলুল্লাহ ﷺ সকল বিদআতকে গোমরাহী হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, সেখানে বিদআতকে বিদআতে হাসানা ও বিদআতে সাইয়েআহ হিসেবে দুই ভাগে বিভক্ত করা উচিত নয়।
(১) اَلْبِدْعَةُ الْحَسَنَةُ তথা উত্তম বিদআত :
এগুলো এমন বিদআত, যা শরীয়তের কোনো সুন্নাতকে বিলুপ্ত করে না; বরং তার দ্বারা শরীয়ত পালনের মাত্রা বৃদ্ধি করে দেয়।
(২) اَلْبِدْعَةُ السَّيِّئَةُ তথা খারাপ বিদআত :
এগুলো হচ্ছে এমন বিদআত, যা শরীয়তের কোনো সুন্নাতকে বিলুপ্ত করে দেয়। সুতরাং এগুলো সম্পূর্ণরূপে হারাম।
পর্যালোচনা :
বিদআত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সতর্কবাণী রয়েছে। হাদীসে এসেছে,
عَنْ عِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ... وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُوْرِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ
ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমাদের উপর আবশ্যক হচ্ছে প্রত্যেক নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ হতে বেঁচে থাকা। কেননা প্রত্যেক নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহই হচ্ছে বিদআত। আর প্রত্যেক বিদআতই হচ্ছে গোমরাহী। [মুসনাদে আহমদ হা/১৭১৪৪; সুনানে ইবনে মাজাহ হা/৪২।]
অত্র হাদীসে দ্বীনের মধ্যে যে কোনো প্রকার সংযোজন করাকেই বিদআত বলা হয়েছে। এখানে বিদআতকে ভালো অথবা মন্দ- এরূপ কোনো ভাগে বিভক্ত করা হয়নি। এমনকি অন্য কোনো সহীহ হাদীসেও এর স্বপক্ষে কোনো দলীল পাওয়া যায় না।
এরপরও অনেকে এর স্বপক্ষে দলীল পেশ করে থাকেন। যেমন-
১. রমাযানের রাতে লোকেরা পৃথক পৃথকভাবে একা একা সালাত আদায় করতো। তখন উমর (রাঃ) তাদেরকে উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)-এর পিছনে জামাআতবন্দী করে দিলেন এবং বললেন, نِعْمَ الْبِدْعَةُ هٰذِه এটি কতই না উত্তম ‘বিদ‘আত’ বা সুন্দর ব্যবস্থা। [সহীহ বুখারী হা/২০১০; বায়হাকী হা/৪৩৭৯।]
অত্র হাদীসে উমর (রাঃ) এর কথা نِعْمَ الْبِدْعَةُ هٰذِه (এটি কতই না সুন্দর বিদআত) এর মধ্যে ব্যবহৃত اَلْبِدْعَةُ শব্দটির দ্বারা আভিধানিক অর্থ উদ্দেশ্য করা হয়েছে; শারঈ অর্থ নয়।
২. মুনযির ইবনে জারির (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি নবী ﷺ থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
مَنْ سَنَّ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةً حَسَنَةً كَانَ لَهُ أَجْرُهَا وَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ بَعْدِهٖ مِنْ غَيْرِ أَنْ يُّنْتَقَصَ مِنْ أُجُوْرِهِمْ شَيْءٌ
যে ব্যক্তি ইসলামে একটি ভালো সুন্নাত চালু করলো, সে ওটার সওয়াব পাবে এবং পরবর্তীতে যারা তার উপর আমল করবে সে তাদের সওয়াবও পাবে; আর এতে আমলকারীদের নেকী হতে কোনোরূপ কমতি করা হবে না। [সহীহ মুসলিম হা/২৩৯৮; সুনানে নাসায়ী হা/২৫৫৩; সুনানে ইবনে মাজাহ হা/২০৩; মুসনাদে আহমদ হা/১৯১৫৬।]
অত্র হাদীসটিতে বিদআতে হাসানা চালু করার কথা বলা হয়নি; বরং সুন্নাতে হাসানা চালু করার কথা বলা হয়েছে। কেননা হাদীসটিতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ ﷺ এর উদ্ধৃতিটি ছিল এমন একটি সুন্নাত কর্মের জন্য, যা প্রকৃতপক্ষে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রদর্শিত সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত।
ঘটনাটি হচ্ছে, একদা একদল সাহাবী ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে এলে তিনি তাদেরকে সাদাকা করার জন্য সাহাবীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। তখন প্রথমে একজন সাহাবী তাকে কিছু সাহায্য করলেন। অতঃপর অন্যান্য সাহাবীও সাহায্য করলেন। অবশেষে দেখা গেল যে, সাহায্যের বস্তুগুলো একটি বড় স্তুপে পরিণত হয়েছে। এতে রাসূলুল্লাহ ﷺ খুশি হয়ে উপরোক্ত উদ্ধৃতিটি করেছিলেন। [সহীহ মুসলিম হা/১০১৭; মুসনাদে আহমাদ হা/১৯১৯৭।]
যেখানে রাসূলুল্লাহ ﷺ সকল বিদআতকে গোমরাহী হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, সেখানে বিদআতকে বিদআতে হাসানা ও বিদআতে সাইয়েআহ হিসেবে দুই ভাগে বিভক্ত করা উচিত নয়।