hadith book logo

বিদআতের পরিচয়

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩০

১৬. শবে বরাত উদযাপন করা

বর্তমানে শা‘বান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত তথা ‘নিসফু শা‘বান’ এর রাতকে ‘শবে বরাত’ নামক একটি বিশেষ রাত হিসেবে পালন করতে দেখা যায়। আর ঐ রাতকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের আয়োজন লক্ষ্য করা যায়। যেমন- মসজিদ আলোকসজ্জা করা, শবে বরাতের নিয়তে ১২ রাক‘আত বা ১০০ রাক‘আত সালাত পড়া, মাহফিল করা, বিশেষ মুনাজাতের অনুষ্ঠান করা, ঐ দিন গরু-ছাগল বা মুরগী জবেহ করা, হালুয়া-রুটি পাকানো, বেশি করে বাতি জ্বালানো, আতশবাজী করা ইত্যাদি। অথচ উক্ত রাতে কোনো ধরনের বিশেষ আমলের কথা হাদীসে উল্লেখ নেই।

তবে এ রাত্রিটির ব্যাপারে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হাদীসে এভাবে বর্ণিত হয়েছে যে,

عَنْ أَبِيْ مُوْسَى الْأَشْعَرِيِّ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ قَالَ إِنَّ اللهَ لَيَطَّلِعُ فِيْ لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيْعِ خَلْقِه إِلَّا لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ

আবু মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আললাহ তা‘আলা মধ্য শাবানের রাতে মনোনিবেশ করেন এবং তাঁর সমস্ত বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। তবে শিরককারী ও হিংসুককে ক্ষমা করেন না। [ইবনে মাজাহ, হা/১৩৯০; জামেউল আহাদীস, হা/৭০৮৫।]

عَنْ أَبِيْ ثَعْلَبَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ إِذَا كَانَ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ اِطَّلَعَ اللهُ إِلٰى خَلْقِه فَيَغْفِرُ لِلْمُؤْمِنِيْنَ وَ يُمْلِيْ لِلْكَافِرِيْنَ وَ يَدَعُ أَهْلَ الْحِقْدِ بِحِقْدِهِمْ حَتّٰى يَدَعُوْهُ

আবু সালাবা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যখন মধ্য শাবানের রাত এসে যায়, তখন আল্লাহ তা‘আলা তার সৃষ্টির দিকে মনোনিবেশ করেন। অতঃপর তিনি মুমিনদেরকে ক্ষমা করেন, কাফিরদের শাস্তি বাড়িয়ে দেন এবং হিংসুকদের অবকাশ দেন, যেন তারা হিংসা ছেড়ে দেয়। [শু‘আবুল ঈমান, হা/৩৮৩২; জামেউস সগীর, হা/৭৭১।]

উক্ত রাতটিকে কেন্দ্র করে যেসব হাদীস বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে এদুটি হাদীসই সবচেয়ে বিশুদ্ধ। এছাড়া যেসব হাদীস বর্ণিত হয়েছে, সবগুলোর সনদে অথবা মতনে কোনো না কোনো ত্রুটি রয়েছে। একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে যে, উক্ত হাদীস দুটিতে কেবল ফযীলতের কথা বলা হয়েছে, কোনো ধরনের আমলের কথা বলা হয়নি। সুতরাং কোনোরূপ গ্রহণযোগ্য দলীল ছাড়া উক্ত রাত্রিকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের আমল করা অবশ্যই বিদআতের অন্তর্ভুক্ত।

এক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম হচ্ছে, এ রাত্রিটি অন্যান্য রাতের ন্যায় আমল করা। যেমন- কারো প্রতিরাতে তাহাজ্জুদের অভ্যাস থাকলে সে তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করবে। [দিবস সংক্রান্ত যে কোনো বিধান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন আমাদের বই ‘‘আলোচিত রাত-দিন’’।]