hadith book logo

বিদআতের পরিচয়

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯৩

৫০. কালেমার মর্মার্থ না বুঝে ঈমানদার দাবি করা ঠিক নয়

কালেমা তথা لَاۤ إِلٰهَ إِلَّا اللهُ (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) এর অর্থ না জেনেই শুধু মুখে উচ্চারণ করে নিজেকে ঈমানদার দাবি করা ঠিক নয়। বরং কালিমার দাবি হচ্ছে, এর অর্থ অনুধাবন করেই তা পাঠ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

فَاعْلَمْ أَنَّهٗ لَاۤ إِلٰهَ إِلَّا اللهُ

জেনে রেখো! আল্লাহ ছাড়া কোন উপাসা্য নেই। (সূরা মুহাম্মাদ ৪৭ঃ১৯)

সুতরাং ঈমানের প্রথম বাক্য ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর অর্থ আল্লাহ তাআলাই একমাত্র মাবুদ বা উপাস্য। তিনিই সকলের সৃষ্টিকর্তা, তিনিই সকলের রিযিকদাতা, তিনিই মানুষের জীবন যাপনের জন্য আইন ও বিধানদাতা। তিনিই সকল ক্ষমতার উৎস, তিনিই সকলের জীবন-মৃত্যুর মালিক, তিনিই প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সবকিছু জানার অধিকারী। তিনি সবকিছু শুনেন এবং সবকিছু দেখেন, তিনিই সবকিছু করতে পারেন। সৃষ্টিকুলের মধ্যে যা কিছু হয় সব তাঁর হুকুমেই হয়। এ ক্ষেত্রে তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই। কালেমার এ প্রথমাংশই হলো তাওহীদের মূল ভিত্তি।

আর ঈমানের দ্বিতীয় বাক্য ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ এর অর্থ মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহর রাসূল। তিনিই মানুষকে সত্য ও শান্তির পথে আহবানকারী এবং মানুষের প্রকৃত নেতা। তিনিই মানুষের ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি যা বলেছেন, যা করেছেন এবং যা সমর্থন করেছেন তাই হলো দীনের একমাত্র আমল কিংবা ইবাদাত। তিনি ব্যতীত অন্য কারো কোন কথা বা কাজ- ইবাদাত নয়। কালেমার মর্মার্থ যদি এভাবেই মানা না হয়, তাহলে ঈমান আনার পরও মানুষ শিরকে লিপ্ত হওয়া সম্ভব। এ কারণেই আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَمَا يُؤْمِنُ اَ كْثَرُهُمْ بِاللهِ اِلَّا وَهُمْ مُّشْرِكُوْنَ﴾

তাদের অধিকাংশ আল্লাহকে বিশ্বাস করে, কিন্তু তারা তাঁর সাথে শরীক স্থাপন করে। (সূরা ইউসুফ- ১০৬)