hadith book logo

ইসলামের সৌন্দর্য

লেখকঃ আল্লামা শাইখ আব্দুর রহমান বিন নসের সাদী রহ. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৯

২০তম উদাহরণ: বাধার প্রাচীর মাড়িয়ে ইসলামের বিজয় অভিযাত্রা

মুসলমানদের অবিশ্বাস্য দিগন্ত প্রসারী বিজয় অভিযাত্রা, শত্রুদের কঠিন প্রতিরোধ ও সম্মিলিত আক্রমণের মুখেও মহা পরাক্রমে মর্যাদার জৌলুশ নিয়ে টিকে থাকা এবং শত্রুদের ব্যাপারে তাদের ইতিহাস খ্যাত ভূমিকা ও আচরণ বিধি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত দৃষ্টিপাত।

ইসলামের ঊষালগ্নের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করলে বুঝা যায়, কিভাবে ইসলাম শত্রুতা ও বিদ্বেষপূর্ণ শতধা ছিন্ন আরব উপদ্বীপকে সংঘবদ্ধ করেছিল। হিংসা ও শত্রুতার বিষ বাষ্প বিদূরিত করে সেখানে ছড়িয়ে দিয়েছিল ঈমানী ভ্রাতৃত্ব ও ভালবাসার স্নিগ্ধ পরশ।

তারপর তারা ধাবিত হল বিশ্বজয়ের দিকে। একটার পর একটা দেশ জয় করে সামনে এগিয়ে চলল আলোর মিছিল। বিশ্বজয়ের সূচনাতেই সামনে পড়ল রোম ও পারস্য জাতি। শক্তি-সামর্থ্য, শৌর্য-বীর্য, রসদ-সামগ্রী, লোক-জনবল সবদিক দিয়েই এরা ছিল তৎকালীন পৃথিবীর সেরা জাতি। কিন্তু দ্বীন ইসলামের সৌজন্যে, ঈমানের বলে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ সাহায্যের ফলে তারা এ দুটি জাতিকে পদানত করল। এভাবে এক পর্যায়ে ইসলাম পৌঁছে গেল প্রাচ্য ও পশ্চাত্যের সর্বত্র।

এ সকল বিজয় মহান আল্লাহ পাকের নিদর্শন এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মুজিযার স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।

এভাবে মানব জাতি দলে দলে-চাপ বা শক্তি প্রয়োগে নয়; নির্বিঘ্নে প্রশান্ত চিত্তে, জেনে বুঝে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করে ধন্য হল।

এ বিষয় গুলোর উপর কেউ সাধারণভাবে দৃষ্টি ফেরালে তার সামনে প্রতিভাত হবে যে, একমাত্র দ্বীন ইসলামই সত্য। বাতিল শক্তির প্রভাব ও প্রতিপত্তি যত বৃহৎ ও ব্যাপকই হোক না কেন সত্যের সামনে তা আদৌ স্থির থাকতে সক্ষম নয়। এ বিষয়টি সাধারণ জ্ঞান দ্বারাও উপলব্ধি করা যায়। কোন ইনসাফদার মানুষ তাতে সন্দেহ করতে পারে না। বরং এটি অতি বাস্তব ও অপরিহার্য সত্য কথা।

তবে সমকালীন কতিপয় লেখকের কথা ভিন্ন। যারা চিন্তা চেতনায় ইসলামের শত্রুদের অপপ্রচার ও প্রোপাগান্ডার সামনে পরাভূত হয়েছে। এদের ধারণা, ইসলামের এই বিস্তৃতি ও অলৌকিক বিজয় সম্ভব হয়েছিল কেবল বৈষয়িক শক্তির উপর ভিত্তি করে! এরা নিজেদের কপোল-কল্পিত ভ্রান্ত ধারাণানুসারে এ সব বিজয়ের অপব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেছে!

এ সব বিশ্লেষণের মূল বক্তব্য হল, তৎকালীন রোম ও পারস্য রাষ্ট্রদ্বয় আরবদের রসদ সামগ্রী ও সামরিক শক্তির তুলনায় দুর্বল ছিল। বিধায় তাদের উপর আরব মুসলমানদের বিজয় সম্ভব হয়েছিল!

কিন্তু একটু চিন্তা করলেই তাদের এ ভ্রান্ত ধারণা বালুর বাঁধের মতই ভেঙ্গে তছনছ হয়ে যাবে। সে সময় আরবদের এমন কি বা শক্তি ছিল যাতে তারা একটা বৃহৎ রাষ্ট্র তো দুরে থাক সামান্য একটা ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের মোকাবেলা করতে পারত? তৎকালীন সময়ের অস্ত্র জনবলে সমৃদ্ধ সর্বাধিক ক্ষমতাধর একই সাথে একাধিক রাষ্ট্রের প্রতিরোধ করা তো অনেক দূরের কথা। কিন্তু দেখা গেছে, মুসলিমরা এসব কিছু ছিন্নভিন্ন করে, প্রতাপশালী রাজা-বাদশাহদের স্বেচ্ছাচার শাসনের স্থলে ইসলাম ও আল কুরআনের ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যে শাসন ব্যবস্থাকে মনে প্রাণে মেনে নিয়েছিল প্রতিটি ন্যায়বান সত্য অনুসন্ধিৎসু মানুষ।

সুতরাং, কেবল জাগতিক শক্তি সামর্থ্যের উপর ভিত্তি করে এসব বিশ্বখ্যাত, দিগ্বিজয়ের ব্যাখ্যা প্রদান কি করে সম্ভব? এসব কথা তো কেবল তারাই বলতে পারে যারা ইসলামী জীবন ব্যবস্থার মধ্যে আঘাত হানতে চায় কিংবা মূল রহস্য না জেনে শত্রুর পাতানো ফাঁদে পা রেখেছে।

তাছাড়া শত ঝড়-ঝঞ্ঝা, আঘাত-প্রতিঘাত, শত্রুদের সম্মিলিত আক্রমণ সব কিছুর মুখে ইসলামের অদ্যাবধি টিকে থাকাও ইসলামের সত্যতার অন্যতম একটি প্রমাণ।

শত্রুদের অত্যাচার ও বাড়াবাড়ি প্রতিরোধ করার শক্তি যদি মুসলিমদের থাকত তবে ধরা পৃষ্ঠে ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের নাম ও নিশানা টিকে থাকত না এবং সমগ্র মানবকুল নির্ঝঞ্ঝাটে বিনা শক্তি প্রয়োগে ইসলাম গ্রহণের সুযোগ পেত। কেননা ইসলাম সত্যের ধর্ম। প্রকৃতির ধর্ম। শুদ্ধি ও সংস্কারের ধর্ম। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, কাল পরিক্রমায় মুসলমানদের অলসতা, দুর্বলতা, অনৈক্য এবং শত্রুদের চক্রান্ত ও চাপের মুখে ইসলামের অগ্রযাত্রা অনেকাংশে স্তব্ধ হয়ে গেছে!

লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।