hadith book logo

ইসলামের সৌন্দর্য

লেখকঃ আল্লামা শাইখ আব্দুর রহমান বিন নসের সাদী রহ. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪

লেখকের ভূমিকা

إنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلا هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ أمَّا بَعْدُ

সকল প্রশংসা আল্লাহর। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য ও ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আল্লাহর নিকট নিজেদের মনের ও কর্মের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে সুপথ দেখায় তাকে কেউ বিপথে নিতে পারে না। আর যাকে তিনি বিপথে নিয়ে যান তাকে কেউ সুপথে আনতে পারে না।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নাই। তিনি একক। তাঁর কোন অংশীদার নাই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর দাস ও প্রেরিত দূত। অত:পর-

বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দ্বীন নিয়ে আগমন করেছেন তা অন্য সকল ধর্ম ও মতবাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, উন্নত ও পরিপূর্ণ।

আর ইসলামে যে সৌন্দর্য, পূর্ণতা, দয়া, ন্যায়নীতি এবং প্রজ্ঞা সন্নিহিত রয়েছে তা মূলত: মহান আল্লাহর অসীম জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং সর্বাঙ্গীণ পূর্ণাঙ্গতার সাক্ষ্য দেয়। আরও সাক্ষ্য দেয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সত্য আল্লাহর রাসূল। যিনি ছিলেন পরম সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত। যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে অহী ব্যতিরেকে কথা বলেন না। আল্লাহ বলেন,

وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَىٰ إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَىٰ

“আর তিনি ইচ্ছামত কোনও কথা বলেন না। তা তো একটি ওহী বা ঐশী বার্তা যা (তার নিকট) অবতীর্ণ হয়।”(সূরা নাজম: ৩-৪)

সুতরাং দ্বীন-ইসলামটাই এ কথার স্পষ্ট প্রমাণ এবং সবচেয়ে বড় সাক্ষী যে, মহান আল্লাহ একক-অদ্বিতীয় এবং তিনি সর্বাঙ্গীণভাবে পরিপূর্ণ। তৎসঙ্গে এটিও প্রমাণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সত্যবাদী এবং তাঁর নবুয়তও সত্য।

আমার এই প্রবন্ধটি লেখার উদ্দেশ্য হল, এই মহান দ্বীনের মৌলিক সৌন্দর্য বিষয়ে আমি যতটুকু বুঝেছি বা জেনেছি ততটুকু তুলে ধরা। অন্যথায় দ্বীনের মধ্যে যে পূর্ণাঙ্গতা, সৌন্দর্য ও মহিমা সন্নিহিত রয়েছে তা সবিস্তর আলোচনা করা তো দূরের কথা সংক্ষেপে তা যথার্থভাবে ফুটিয়ে তোলা আমার দ্বারা সম্ভব নয়। কারণ, আমার জ্ঞান খুবই কম আর ভাষাও দুর্বল। কিন্তু মানব জ্ঞানের অক্ষমতা দরুন কোন বিষয়ে সম্পূর্ণ জ্ঞানার্জন না করা গেলেও যতটুকু সম্ভব ততটুকু পরিত্যাগ করা তো সমীচীন নয়। কেননা, আল্লাহ সাধ্যের বাইরে কারও উপর কোন দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না। আল্লাহ বলেন:

فَاتَّقُوا اللَّـهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ

“অতএব, তোমরা সাধ্যানুযায়ী আল্লাহকে ভয় কর।” (সূরা তাগাবুন: ১৬)