hadith book logo

ইসলামের সৌন্দর্য

লেখকঃ আল্লামা শাইখ আব্দুর রহমান বিন নসের সাদী রহ. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫

ইসলামের সৌন্দর্য সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করার মর্যাদা:

ইসলামের সৌন্দর্য সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ কাজ। এতে যে সব উপকার লাভ হয় তন্মধ্যে:

ক. ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব ও সৌন্দর্য সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা সবচেয়ে মর্যাদা পূর্ণ বিষয়। এ বিষয়ে জ্ঞানার্জনে নিয়োজিত থাকা অন্যান্য নেক আমল থেকেও উত্তম।

অতএব, এ বিষয়ে জ্ঞানার্জন করা, চিন্তা-গবেষণা করা এবং যে পথ অবলম্বন করলে এ বিষয়ে জ্ঞানার্জন করা যায় সে পথ অবলম্বন করতে সময় ব্যয় করা মানব জীবনের সর্বোত্তম কাজ হিসেবে গণ্য হবে এবং এ জন্য আপনি যেটুকু সময় ব্যয় করবেন সেটুকুই আপনার উপকারে আসবে; ক্ষতি হবে না।

খ. আল্লাহর নেয়ামত সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি তা নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নির্দেশ দিয়েছেন। আর সে কারণে এটি শ্রেষ্ঠ আমলের অন্তর্ভুক্ত।

অতএব এ কথায় কোন সন্দেহ নাই যে, ইসলামের সৌন্দর্য- মহিমা নিয়ে গবেষণা ও আলোচনা-পর্যালোচনা করার মানেই মহান আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামতের স্বীকৃতি দেয়া এবং এ সম্পর্কে গবেষণা, আলোচনা-পর্যালোচনা করা। কেননা, শ্রেষ্ঠতম এ নিয়ামতটির নাম হল, ইসলাম। যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোন মত ও পথ আল্লাহর দরবারে গৃহীত হবে না।

সুতরাং এ সম্পর্কে আলোচনা-পর্যালোচনা করলে এটি হবে আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের নামান্তর। এতে করে আল্লাহর পক্ষ থেকে আরও বেশী নিয়ামত পাওয়ার আশা করা যায়।

গ. ঈমানের পূর্ণতা-অপূর্ণতার ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে বিরাট ব্যবধান থাকে। তাই যে মানুষ দ্বীন সম্পর্কে যত বেশী জানবে, যার যত বেশী দ্বীনের প্রতি শ্রদ্ধা বোধ থাকবে, যত বেশী দ্বীনের প্রতি আগ্রহ ও সন্তোষ প্রকাশ পাবে তার ঈমান ততটাই পূর্ণতা অর্জন করবে, বিশ্বাস ততটাই দৃঢ় এবং বিশুদ্ধ হবে।

ঘ. ইসলামের সৌন্দর্যময় দিকগুলোর ব্যাখ্যা দেয়া বিরাট দাওয়াতী কাজ। কারণ বিবেকবান ও সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের নিকট এগুলো গ্রহণযোগ্য।

একদল দাঈ বা দ্বীন প্রচারক যদি ইসলামের তাৎপর্য ও কল্যাণকর দিকগুলো তুলে ধরে দ্বীনের দাওয়াতের ক্ষেত্রে উদ্যোগ গ্রহণ করে তবে মানুষকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্যে তাই যথেষ্ট হবে। কারণ, এর মাধ্যমে মানুষ দেখতে পাবে যে, ইসলামে দ্বীন-দুনিয়া উভয়টির সমন্বয় রয়েছে। রয়েছে মানুষের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় ক্ষেত্রে কল্যাণ সাধনের নির্দেশনা।

এ পদ্ধতিতে ইসলাম প্রচারের কাজ করলে বিরোধীদের অপবাদ-অভিযোগগুলোর জবাব দেয়ার কোন দরকার পড়বে না, কোন ধর্মের সমালোচনাও প্রয়োজন হবে না। বরং ইসলাম নিজেই তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সংশয় খণ্ডন করবে। কারণ তা এমন সুস্পষ্ট বক্তব্য ও সুদৃঢ় প্রমাণ নির্ভর সত্যের নাম যা সকল সংশয়-সন্দেহকে দূর করে সুদৃঢ় বিশ্বাস পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেয়।

যদি দ্বীন ইসলামের আসল সৌন্দর্য ও তাৎপর্য অল্প পরিমানেও যদি মানুষের সামনে ফুটিয়ে তোলা হয় তবে এটি হবে (অমুসলিমদের জন্য) ইসলাম কবুলের এবং অন্য সব কিছুর উপর ইসলামকে অগ্রাধিকার দেয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দাওয়াতের মাধ্যম।

জেনে রাখুন, ইসলামের সৌন্দর্যগুলো তার মূলনীতি, শাখা-প্রশাখা, দলীল-প্রমাণ, আইন-কানুন, বিধি-বিধান ইত্যাদি সর্ব ক্ষেত্রেই বিরাজমান। এমনকি সমাজ, রাষ্ট্র ও বৈশ্বিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও ইসলামের সৌন্দর্য বিকশিত। কিন্তু অত্র পুস্তিকায় এ সব কিছুর আলোচনা করা মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। কারণ এতে আলোচনা ব্যাপক হয়ে যাবে। উদ্দেশ্য হল এর কতিপয় উদাহরণ পেশ করা। যেন এ উদাহরণগুলোকে অন্যান্য ক্ষেত্রে দলীল হিসেবে পেশ করা যায় আর এ বিষয়ে কেউ উচ্চতর গবেষণা করতে চাইলে তার জন্য গবেষণার দ্বার উন্মোচিত হয়।

এ সকল উদাহরণ মূলত: ছড়িয়ে আছে ইসলামের মূলনীতি, শাখা-প্রশাখা, ইবাদত-বন্দেগী, সামাজিক আচার-আচরণ, লেনদেন ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ।

এ পর্যায়ে আল্লাহর নিকট সাহায্য কামনা করি, তিনি যেন আমাদের সঠিক পথের দিশা দেন, জ্ঞান দান করেন এবং আমাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেন তাঁর দয়া ও অনুকম্পার ভাণ্ডার। যার মাধ্যমে সুন্দর ও পরিমার্জিত হবে আমাদের সার্বিক অবস্থা, যাবতীয় কথা ও কর্ম-এই প্রত্যাশা বুকে ধারণ করে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছি ।