hadith book logo

আল আকসা মসজিদের ইতিকথা

লেখকঃ এ. এন. এম. সিরাজুল ইসলাম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫০

১. তাওরাতে হাইকাল

তাওরাতের ১ম অধ্যায়ে সৃষ্টি পর্যায়ে, আল্লাহর ওয়াদার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাতে ইবরাহীম (আঃ)-কে বলেছেন, ‘আমি তোমার বংশধরকে এই যমীন দান করবো’। অথচ ইহুদীরা ভুলে গেছে, ইবরাহীম (আঃ)-এর বংশের ইসমাঈল শাখাও রয়েছে। তাই বনি ইসমাঈল আল্লাহর ঐ ওয়াদার অংশীদার। মুসলমান হচ্ছে ইসমাঈল (আঃ)-এর বংশধর। তাওরাত ইয়াকুব (আঃ) সম্পর্কে বলছে, ‘তুমি বাইতে ইলে যাও এবং সেখান বাস কর। সেখানে তুমি তোমার রবের উদ্দেশ্যে একটি জবেহর স্থান তৈরি কর।’ বাইতে ইল বলতে বাইতুল মাকদিসকে বুঝানো হয়েছে।

ইউসুফ (আঃ) সম্পর্কে তাওরাতের বক্তব্য হল, ইউসুফ (আঃ)-এর হাড়গোড় মিসর থেকে জেরুসালেমে নিয়ে আসা হয়েছে। তাওরাত মূসা (আঃ) সম্পর্কে বলেঃ মূসা (আঃ) ফেরাউনকে বলেছেন, আমার জাতিকে ছেড়ে দাও। ফেরাউন বলেছে, আমি তাদেরকে ছাড়বো না। হযরত মূসা (আঃ)-এর উদ্দেশ্য ছিল, বনি ইসরাইল জেরুসালেমের পবিত্র স্থানে এসে ইবাদাত করবে।

তাওরাত মূসা (আঃ)-এর পরবর্তী নবী ইউশা’ বিন নূনের আলোচনা প্রসঙ্গে বলেছে, আল্লাহ তাঁকে জেরুসালেমের দেয়াল ডিঙ্গিয়ে ভিতরে প্রবেশের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তীহ ময়দানে অবস্থানরত ইহুদীদেরকে নিয়ে অভিযানের হুকুম দেন।

এইভাবে তাওরাত বনি ইসরাইলের নবীদের সাথে জেরুসালেম নগরীর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছে। তারপর হযরত দাউদ এবং সুলাইমান (আঃ) এর সোনালী যুগ নিয়েও আলোচনা করেছে। জেরুসালেমের পবিত্র স্থান সম্পর্কে ইহুদীরা তাওরাত থেকে যে রকম প্রেরণা পায়, ঠিক সে ধরনের প্রেরণা খৃস্টানদের মাঝেও রয়েছে। কেননা ইহুদীদের মত তাওরাত এবং ইঞ্জিল তাদেরও পবিত্র কিতাব।