hadith book logo

আল আকসা মসজিদের ইতিকথা

লেখকঃ এ. এন. এম. সিরাজুল ইসলাম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭৪

২. ফিলিস্তিনী ইন্তেফাদা বা গণ-আন্দোলনঃ

ফিলিস্তিনী মুসলমানগণ হানাদার ইহুদীদের বিরুদ্ধে জোর প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। তারা গোটা অধিকৃত ফিলিস্তিনে, ফিলিস্তিনী গণ-জাগরণ বা ইন্তেফাদা গড়ে তুলেছে। ইহুদীদের প্রতি পাথর নিক্ষেপ করা থেকে শুরু করে বোমা নিক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু শত্রুর কঠোর নির্যাতন ও প্রতিরোধের মুখে নিরস্ত্র ফিলিস্তিনী জনগণ সামরিক সাফল্য লাভ করতে পারছে না। উল্লেখ্য যে, ৫০ লাখ ফিলিস্তিনী মুসলিম নাগরিকের মধ্যে প্রায় ২০ লাখ হচ্ছে অধিকৃত ফিলিস্তিনে। আর অবশিষ্টরা ফিলিস্তিনের বাইরে বিভিন্ন শরণার্থী শিবির ও দেশে বাস করছে।

৩. জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইহুদীদের প্রভাবান্বিত। কেননা, এর সদস্যদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েট ইউনিয়ন বৃটেন এবং ফ্রান্স নির্লজ্জভাবে ও প্রকাশ্যে ইহুদীদের সকল অন্যায় কাজ অব্যাহত রাখার সুযোগ দিয়ে যাচ্ছে।

তবে সর্বাগ্রে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। সে ইসরাইলের অত্যাচার, নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে কোন নিন্দা প্রস্তাব পাশ হতে দেয় না। তাতে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে। নিরাপত্তা পরিষদের ২৪২ নং ও ৩৩৮ নং প্রস্তাবে, অধিকৃত ফিলিস্তিন থেকে ইসরাইলী জবরদখল প্রত্যাহারের লক্ষ্যে ইসরাইলী বাহিনী প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাব বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিরাপত্তা পরিষদের। নিরাপত্তা পরিষদ তা করছে না।

এমতাবস্থায় নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজস্ব শক্তি-সমন্বিত করে ইসলামের ভূমি উদ্ধারের জন্য অগ্রসর হওয়াই মুসলিমের কর্তব্য। মুসলমানদের আরো করণীয় হল, জেরুসালেম মুক্ত করার জন্য ইহুদীদের বিরুদ্ধে জেহাদের ডাক দেয়া। জেহাদ ছাড়া অন্য কোন উপায়ে মসজিদে আকসাকে মুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। গত ৪০ বছর যাবত বিভিন্ন উপায়ে বহু চেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু কোন ফলোদয় হয়নি। তাই আজ মুসলিম দেশ সমূহের সরকারগুলোর উচিত, ওলামায়ে কেরাম এবং ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে জেহাদের কর্মসূচী হাতে নেয়া।

এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর একটি ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে। তিনি বলেছেন, এমন একদিন আসবে যখন ইহুদীদেরকে পাইকারীভাবে হত্যা করা হবে। এমনকি গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ইহুদীকে গাছ দেখিয়ে দিয়ে বলবে, তাকে হত্যা কর।’

সমাপ্ত