hadith book logo

কাদের রোযা কবুল হয়

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬

সাহারী প্রসঙ্গ

রোযা রাখার নিয়তে ভোররাতে যে খাবার খাওয়া হয় তাকে সাহারী বলে। এখানে এ শব্দটির উচ্চারণ ‘সেহ্রী’ বা ‘সাহ্রী’ সঠিক নয়। কারণ আরবী ভাষায় ‘সেহ্রম্নন’ শব্দের অর্থ যাদু করা। যেমন : يُعَلِّمُوْنَ النَّاسَ السِّحْرَ ‘‘তারা মানুষকে যাদু শিখাত।’’ (সুরা বাকারা- ১২০) আবার سَحْرٌ সাহ্রম্নন শব্দের অর্থ হল বুকের উপরিভাগ। আরবী ভাষায় রাতের শেষ ভাগ বুঝাতে سَحَر ‘সাহার’ শব্দ ব্যবহৃত হয়। যেমন نَجَّيْنهُمْ بِسَحَرِ ‘‘আমি লূতের পরিবারকে রাতের শেষ ভাগে মুক্তি দিয়েছি’’ (সুরা কামার- ৩৪)। তাই এর উচ্চারণে ‘সেহ্রী’ বা ‘সাহ্রী’ না বলে ‘‘সাহারী’’ বলাই শুদ্ধ। কিছু বইয়ে সেহ্রী লেখা থাকলেও বর্তমানে লেখকরা সাহারী ব্যবহার করছেন।

সাহারী খাওয়ার গুরম্নত্ব :

عَنْ أَنَسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - تَسَحَّرُوْا فَإِنَّ فِى السُّحُوْرِ بَرَكَةً

আনাস (রাঃ) বলেন, নবী সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নাম বলেছেন, ইয়াহূদী ও নাসারাদের রোযা আর আমাদের রোযার মধ্যে পার্থক্য এই যে, আমরা সাহারী খেয়ে রোযা রাখি আর তারা সাহারী খায় না। (সহীহ মুসলিম, হা/২৬০৪; আবু দাউদ, হা/২৩৪৫)

সাহারী হল বরকতের খানা :

আনাস বিন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূল সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নাম বলেছেন, সাহারী সম্পূর্ণটাই বরকতময়। অতএব তোমরা এটা ছেড়ে দিও না, যদি তোমাদের কেউ এক ঢোক পানি পান করার সুযোগ পায় তবে যেন তা পান করে। কেননা আলস্নাহ তা‘আলা সাহারী ভক্ষণকারীদের উপর রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁর ফেরেশতারা তাদের জন্য মাগফিরাতের দু‘আ করতে থাকেন। (মুসনাদে আহমাদ, হা/১১৪১৪; জামেউস সগীর, হা/৫৯৯৬)

সাহারী দেরীতে খাওয়া উত্তম :

বুখারী ও মুসলিমের হাদীস থেকে জানা যায় যে, রাসূলের যুগে সাহারী খাওয়া ও ফজরের আযানের মধ্যখানে ৫০টি আয়াত পড়ার সমপরিমাণ সময় থাকত। ৫০টি আয়াত পড়তে প্রায় ১৫-২০ মিনিট সময় লাগতে পারে। এ থেকে বুঝা যায় যে, সাহাবীরা খুব আগে সাহারী খেতেন না। আযানের কিছু সময় আগে খাওয়াা শেষ করতেন।