hadith book logo

কাদের রোযা কবুল হয়

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৮

কাদের রোযা কবুল হয়

এ পর্যমত্ম রোযার বিভিন্ন দিক নিয়ে অনেক আলোচনা হল, এবার বইয়ের নামের সাথে সঙ্গতি রেখে এ প্রবন্ধটি লিখছি। এবারের বিষয়বসত্মু খুবই গুরম্নত্বপূর্ণ। রোযা আমরা অনেকেই রাখি; কিন্তু আমরা সবাই কি রোযার যাবতীয় নিয়ম রক্ষা করে চলি? রোযার উদ্দেশ্য কি আমাদের মাঝে প্রতিফলিত হয়? আমাদের রোযা কতটুকু আলস্নাহর কাছে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করছে? এ বিষয়গুলো নিয়েও কিছুটা চিমত্মা-ভাবনা করা দরকার। নতুবা সারাদিন শুধু উপবাস থেকে তেমন কোন ফলাফল আসবে না। নবী সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নাম বলেছেন-

كَمْ مِّنْ صَائِمٍ لَيْسَ لَه مِنْ صِيَامِه إِلَّا الظَّمَأُ وَكَمْ مِّنْ قَائِمٍ لَيْسَ لَه مِنْ قِيَامِه إِلَّا السَّهَرُ

এমন অনেক রোযাদার আছে কেবল ক্ষুধা আর পিপাসা ছাড়া তাদের ভাগ্যে আর কিছু জোটে না। আবার রাত্রিতে ইবাদাতকারী অনেক রয়েছে, রাত্রি জাগরণের কষ্ট ছাড়া তারা আর কিছুই লাভ করতে পারে না। (মুসনাদে আহমাদ, হা/৯৬৮৩; সুনানে দারেমী, হা/২৭২০)

এ হাদীস থেকে এটা পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে যে, শুধু উপবাস থাকলেই রোযার পরিপূর্ণ হক আদায় হয়ে যায় না; বরং রোযাকে ফলপ্রসূ ও সার্থক করতে হলে রোযাকে ত্রম্নটিযুক্ত করে এমনসব কার্যাবলী থেকে দূরে থাকতে হবে। অনুরূপভাবে আলস্নাহর সমত্মুষ্টির উদ্দেশ্যে নামাযের নিয়ম-কানুন রক্ষা করে নামায পড়তে হবে। এটা না করে অন্য কোন উদ্দেশ্যে নামায পড়লে বা রাতে নফল পড়ার কারণে ফজরের জামা‘আত ছেড়ে দিলে এই নামায তেমন ফলপ্রসূ হবে না। আবার পরিবারের হক আদায় না করে শুধু রাত্রি জাগরণ করাও ঠিক নয়।

রোযার একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল হচ্ছে রোযা মানুষের জন্য ঢালের কাজ দেয়। নবী সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নাম বলেছেন : اَلصِّيَامُ جُنَّةٌ ‘‘ রোযা হচ্ছে ঢাল।’’ যুদ্ধের সময় বা যে কোন ক্ষেত্রে ঢাল শত্রম্নর আক্রমণকে প্রতিহত করে। অনুরূপভাবে রোযা মানুষকে শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচার ক্ষেত্রে, পাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে এবং জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে ঢালের কাজ দেয়। বান্দা নিজেকে রক্ষা করতে পারে। তাই রোযাদারকে রোযা নামক ঢালটিকে কাজে লাগাতে হবে। এজন্য এ কথাটির পরেই নবী সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়াসালস্নাম উম্মতকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন-

وَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلَا يَرْفُثْ وَلَا يَصْخَبْ فَإِنْ سَابَّه أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَه فَلْيَقُلْ إِنِّي امْرُؤٌ صَائِمٌ

‘‘তোমাদের মধ্যে কেউ যখন রোযা থাকবে তখন সে যেন অশস্নীল কাজ ও ঝগড়া-বিবাদ না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সাথে মারামারিতে লিপ্ত হয় তবে সে যেন পরিষ্কার বলে দেয় যে, আমি রোযাদার মানুষ।’’ (সহীহ বুখারী, হা/১৯০৪; সহীহ মুসলিম, হা/২৭৬২)

রোযাদার তো আগে বেড়ে কোন খারাপ কাজ করবেই না; তবুও কেউ যদি তাকে গালি দিয়ে বসে অথবা তার সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত হয় তবে সে এসবের জবাব না দিয়ে সাফ বলে দেবে যে, ভাই! তোমার গালির জবাব দেয়ার ক্ষমতা আমার থাকলেও আমি তা করব না। আমি রোযা রেখেছি, আমার রোযা এসব পছন্দ করে না, তাই তোমার মুকাবেলা করা আমার পক্ষে শোভনীয় নয়। সুতরাং রোযাদারকে কেউ গালি দিলে তার বিনিময়ে গালিদাতাকে আমি রোযা রেখেছি বলা সুন্নাত। এই জবাবে রয়েছে দু’টি উপকার; একটিতে রয়েছে নিজের জন্য সতর্কতা এবং অপরটিতে রয়েছে তার বিরোধীপক্ষের জন্য সতর্কতা।

সুতরাং আমরা যখন না খেয়ে রোযা রাখব, তখন আমাদের শরীরের অন্যান্য অঙ্গ যেমন : মুখ, চোখ, কান, হাত, পা ও অমত্মর এগুলোকেও রোযা রাখাতে হবে। অর্থাৎ এগুলো আলস্নাহর নাফরমানী ও গোনাহের কাজে ব্যবহার না করে তাঁর আনুগত্য ও সমত্মুষ্টি অর্জনের কাজে ব্যবহার করতে হবে। তাহলেই আমাদের রোযা ফলপ্রসূ হবে।