hadith book logo

তাওহীদ ও আকাইদ

লেখকঃ সানাউল্লাহ নজির আহমদ, কামালুদ্দিন মোল্লা, ইকবাল হোসাইন মাসুম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৫

محمد رسول الله এর সাক্ষ্য প্রদানের অর্থ :

محمد رسول الله এর সাক্ষ্য প্রদানের অর্থ: মৌখিক ভাবে স্বীকৃতির সাথে সাথে অন্তরে অবিচল, অটল ও অগাধ বিশ্বাস রাখা যে, তাদের নিকট আল্লাহর রেসালত বা বাণী পৌঁছানোর জন্য মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ দায়িত্ব প্রাপ্ত, রসূল। এরশাদ হচ্ছে-

قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا . ( سورة الأعراف :১৫৮)

‘বলে দাও, হে সকল মানব মন্ডলী! আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহর প্রেরিত রসূল।’ [সূরা : আরাফ-১৫৮] অন্যত্র এরশাদ হচ্ছে-

مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ ﴿ سورة محمد : 29﴾

‘মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল।’ [সূরা : মুহাম্মদ:২৯।] অন্যত্র এরশাদ হচ্ছে-

تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا ﴿1﴾. ( سورة الفرقان :১)

‘পরম করুনাময় তিনি, যিনি তার বান্দার প্রতি ফয়সালার গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন। যাতে সে বিশ্বজগতের জন্যে সতর্ককারী হয়।’ [সূরা : আল ফুরকান-১]

‘আল্লাহ তাআলা তাকে শিরকসহ সমস্ত অপসন্দ-পরিত্যাজ্য কার্যকলাপ হতে ভীতি প্রর্দশনকারী, নির্ভেজাল তাওহিদসহ সমস্ত পছন্দনীয়-গ্রহণীয় কার্যকলাপের দিকে আহবানকারী রূপে প্রেরণ করেছেন।’ এরশাদ হচ্ছে-

قُمْ فَأَنْذِرْ ﴿2﴾ وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ ﴿3﴾. ( سورة المدثر :২-৩)

‘উঠুন সতর্ক করুন, আপন পালনকর্তার মহত্ব ঘোষণা করুন।’ [সূরা : আল মুদ্দাসি্সর-২-৩]

অর্থাৎ তাদেরকে শিরক হতে এবং মূর্তি পূজা হতে ও আল্লাহ কর্তৃক সমস্ত অস্বীকৃতির জিনিস হতে ভীতি প্রর্দশন করুন। তাওহিদ ও আল্লাহর অনুমোদিত বিধান মতে তার বড়ত্ব বর্ণনা করুন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا . ( الفاطر :২৪)

‘আমি আপনাকে সত্য ধর্মসহ পাঠিয়েছি সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারী রূপে।’ [সূরা : ফাতের-২৪]

অর্থাৎ আমি তাকে তওহীদ, আনুগত্য ও অধিক সওয়াবের সুসংবাদ দানকারী হিসেবে প্রেরণ করেছি সাথে সাথে শিরক, গুণাহ ও কঠিন শাস্তির ভীতি প্রদর্শকও করেছি। অধিকন্তু আল্লাহ তাআলা তাকে শুধু পৌঁছিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং এখানেই যথেষ্ট করতে বলেছেন। এর পর কে মানলো আর কে মানলো না এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাবাদ করা হবে না। এরশাদ হচ্ছে-

يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ . ( سورة المائدة :৬৭)

‘হে রসূল, পৌঁছে দিন আপনার প্রতিপালকের পক্ষ হতে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে। আর যদি আপনি এরূপ না করেন, তবে আপনি তার পয়গাম কিছুই পৌঁছালেন না।’ [সূরা : আল মায়েদা- ৬৭] অন্যত্র এরশাদ হচ্ছে-

مَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ . ( سورة المائدة : ৯৯)

‘রসূলের দায়িত্ব শুধু পৌঁছিয়ে দেয়া।’ [সূরা : আল মায়েদা-৯৯]

তিনি আমৃত্যু তার উপর প্রেরিত ওহী সংযোজন-বিয়োজন ব্যতীত হুবহু আমাদের পর্যন্ত পৌছে দিয়েছেন। যার আদিষ্ট হয়েছেন তা পঙ্খানুপুঙ্খু আদায় করেছেন। উম্মতের কল্যাণ কামনার সর্বশেষ উদাহরণটুকু পেশ করেছেন। এ জন্য আয়েশা রা. বলেছেন-

من حدثك أن محمدا صلى الله عليه وسلم كتم شيئا مما أنزل الله فقد كذب . ولوكان كاتما شيئا لكتم عبس وتولى . ليس لك من الأمر شيئ .

‘যদি কেউ তোমাকে বলে, মুহাম্মদ ওহীর কিয়দাংশ গোপন করেছেন, সে মিথ্যুক। কারণ যদি রসূল সা. কোন জিনিস গোপন করতেন, তাহলে অবশ্যই অত্র আয়াত দু’টি গোপন করতেন :

(১) عَبَسَ وَتَوَلَّى ( عبس : ১) ‘তিনি ভ্রু কুঞ্চিত করলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন।’ [সূরা : আবাসা-১]

(২) لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ ( سورة آل عمران : ১২৮) ‘এ ব্যাপারে আপনার কোন করণীয় নেই।’ [সূরা : ইমরান-১২৮]

রসূল সা. আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে যা পৌঁছিয়েছেন তাই সর্ম্পূণ দ্বীন। কোনো ধরনের কমতি রাখেননি, যেখানে সংযোজন প্রয়োজন হবে। কোন ধরণের জটিলতা রাখেননি, যা দূরভীত করতে হবে। আবার এমনো সংক্ষিপ্ত সাড় করেননি, যেখানে ব্যাখ্যার প্রয়োজন হবে। এরশাদ হচ্ছে-

الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا . ( سورة المائدة : ৩)

অর্থ: আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম। [সূরা : আল মায়েদা-৩] অন্যত্র এরশাদ হচ্ছে-

وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ . ( سورة النحل :৮৯)

‘আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি সেটি এমন যে, তা প্রত্যেক বস্ত্তর সুস্পষ্ট বর্ণনা।’ [সূরা : আন নাহল-৮৯]

অতএব যে কোন ব্যক্তির এতে সংযোজন বিয়োজন বা পরিবর্তনের সুযোগ নেই। এ ঘোষণা শুনার পর যদি কেউ তাতে কোন রকম পরিবর্তন করে, তবে পরিবর্তনকারীর উপর এর পাপ বর্তাবে। আল্লাহ তাকে সময় মত পাকড়াও করবেন।