১
তাওহীদের কিশতী
লেখকঃ ডঃ মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান আল উরাইফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৬
ওদের হৃদয় নষ্ট
এ সমস্ত কবর বা মাজারের অধিবাসীগণ অন্যের উপকার তো দূরের কথা নিজেদের সাহায্য বা উপকার করারই কোন ক্ষমতা রাখে না। কিন্তু এদের দরবারে যারা ধর্ণা দেয় তাদের হৃদয়ে তাদের প্রতি সম্মান ও ভয়-ভীতি বিরাজমান। তাদের শানের খেলাপ বা বেয়াদবী মূলক কোন কথা মুখে উচ্চারণ করাও বিপদের কারণ মনে করে।
তাদের অবস্থা আর জাহেলী যুগের ছাক্বীফ গোত্রের লোকদের অবস্থার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই- যারা ইসলাম গ্রহণ করার পরও তাদের মূর্তীকে ভয় করছিল- যদিও উক্ত মূর্তীর মধ্যে উপকার-অপকারের কোন ক্ষমতা ছিল না।
ঐতিহাসিক মূসা বিন উক্ববা (রহ:) উল্লেখ করেন। ইসলাম যখন মানুষের মাঝে বিজয় লাভ করল। তখন বিভিন্ন ক্ববীলা থেকে দলে দলে মানুষ ইসলাম গ্রহণ করার জন্য নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নিকট আগমণ করল। ছাক্বীফ গোত্রের দশোর্ধ লোক নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)এর নিকট আগমণ করল, তিনি তাদেরকে মসজিদে নববীতে বসার নির্দেশ দিলেন যাতে করে তারা কুরআন শুনতে পায়।
যখন তারা ইসলাম গ্রহণ করার ইচ্ছা করল, তখন একে অপরের দিকে তাকিয়ে যে মূর্তীর উপাসনা করত তার কথা স্মরণ করল। মূর্তীটির নাম ছিল রাব্বাহ্হ। তারা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)কে সুদ, ব্যভিচার, মদ্যপান .. প্রভৃতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি এগুলো হারাম ঘোষণা করলেন। তারা তা মেনে নিল। তারপর জিজ্ঞেস করল রাব্বাহ্ সম্পর্কে, তার কি হবে? তিনি বললেন, ওটা ভেঙ্গে ফেল। তারা বলল, অসম্ভব! রাব্বাহ যদি জানে যে আপনি তা ভেঙ্গে ফেলার আদেশ দিয়েছেন, তবে সে গ্রামবাসী এবং আশেপাশের সবাইকে মেরে ফেলবে। তখন ওমর বিন খাত্তাব (রা:) বললেন, তোমরা ধ্বংস হও! কত মূর্খ তোমরা! রাব্বাহ্ তো একটি পাথর। তারা বলল, আমরা আপনার কাছে আসি নাই হে খাত্তাবের ছেলে। তারা বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! ওটা ভাঙ্গার দায়িত্ব আপনিই গ্রহণ করুন। আমরা কখনই তা ভাঙ্গতে পারব না। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ঠিক আছে আমি এমন কাউকে পাঠাব যে তা ভেঙ্গে ফেলার জন্য যথেষ্ট হবে। ওরা অনুমতি নিয়ে কওমের মাঝে ফিরে গেল। মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিল। সবাই মুসলমান হয়ে গেল। কিছু দিন তারা সেভাবেই রইল। কিন্তু মূর্তীর ভয় তাদের অন্তরে রয়েই গেল। রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের কাছে একদল ছাহাবী প্রেরণ করলেন। তাদের মধ্যে খালিদ বিন ওয়ালিদ ও মুগীরা বিন শোহবা (রা:) ছিলেন। ছাহাবীগণ মূর্তী ভাঙ্গার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন। আর তা দেখার জন্য ক্ববীলার নারী-পুরুষ শিশু সবাইকে একত্রিত করা হল। সবাই তারা ভয়ে কাঁপছে। তাদের বিশ্বাস এ মূর্তী কেউ কখনো ভাঙ্গতে পারবে না। যে-ই তাকে অন্যায় স্পর্শ করবে তার মৃত্যু হবে।
মুগীরা বিন শোহবা (রা:) অগ্রসর হলেন। হাতে কুড়াল। তিনি সাথীদের বললেন, আমি ছক্বীফের লোকদের নিয়ে তোমাদেরকে একটু হাঁসাবো। তারপর তিনি কুড়াল দিয়ে মূর্তীর উপর একটি আঘাত করে পা খুঁড়িয়ে পড়ে গেলেন। মানুষ চিৎকার করে উঠল। তাদের ধারণা মূর্তী তাকে মেরে ফেলেছে। তারপর তারা খালেদ বিন ওয়ালিদ ও তাঁর সাথীদেরকে লক্ষ্য করে বলল এবার তোমরা যাও!
মুগীরা বিন শোহবা যখন দেখলেন মূর্তীর বিজয়ে তারা আনন্দিত হয়েছে, তখন তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে ছাক্বীফ গোত্রের লোকেরা! এটি একটি মূর্তী পাথর মাটি দিয়ে তৈরী। তোমরা আল্লাহ্র ক্ষমা গ্রহণ কর তাঁর ইবাদত কর। অতঃপর তিনি কুড়াল দিয়ে মূর্তীকে আঘাত করলেন এবং ভেঙ্গে দিলেন। তারপর ছাহাবীগণ মূর্তীর উপর চড়ে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে দিলেন।
প্রিয় পাঠক! আজ.. সমস্ত মাজার ও কবরের অবস্থা এবং এগুলোর তাওযীমকারীদের অবস্থা এরূপই। আল্লাহ্র নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)র নির্দেশ অনুযায়ী ছাহাবায়ে কেরামের আদর্শ বাস্তবায়নার্থে যদি কেউ এসমস্ত মাজার ও দরবার ভাঙ্গার কথা বলে, তবে লোকেরা তাদের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগে। ওলীর শানে বেয়াদবী হয়েছে তাই ভয়ে কম্পমান থাকে। কি জানি কি ঘটে যায়...। অথচ কোন তাওহীদবাদী যদি শির্কের ঘাঁটি এ সমস্ত মাজার ভেঙ্গে ফেলে তবে ঐ সমস্ত ওলী ও পীরদের প্রতিশোধ নেয়ার কোন ক্ষমতা নেই। অবশ্য তাঁরা যদি প্রকৃত ওলী হয়ে থাকেন, তবে একাজে আরো খুশি হবেন। এটাই স্বাভাবিক। কারণ যারা আল্লাহ্র প্রকৃত ওলী-আওলিয়া তাঁরা শির্ককে আদৌ সমর্থন করেন না। কবর পাকা করতে.. বাঁধাই করতে.. গম্বুজ উঠাতে.. নিষেধ করবেন। [. হে আল্লাহ্! আমাদের মাঝে এমন একদল তাওহীদবাদী লোক দাও, যারা শির্কের আখড়া এসমস্ত মাজার ও দরবার ভেঙ্গে আল্লাহ্র যমীনে আল্লাহ্র অধিকার খালেছ তাওহীদকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে। আমীন\]
তাদের অবস্থা আর জাহেলী যুগের ছাক্বীফ গোত্রের লোকদের অবস্থার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই- যারা ইসলাম গ্রহণ করার পরও তাদের মূর্তীকে ভয় করছিল- যদিও উক্ত মূর্তীর মধ্যে উপকার-অপকারের কোন ক্ষমতা ছিল না।
ঐতিহাসিক মূসা বিন উক্ববা (রহ:) উল্লেখ করেন। ইসলাম যখন মানুষের মাঝে বিজয় লাভ করল। তখন বিভিন্ন ক্ববীলা থেকে দলে দলে মানুষ ইসলাম গ্রহণ করার জন্য নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নিকট আগমণ করল। ছাক্বীফ গোত্রের দশোর্ধ লোক নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)এর নিকট আগমণ করল, তিনি তাদেরকে মসজিদে নববীতে বসার নির্দেশ দিলেন যাতে করে তারা কুরআন শুনতে পায়।
যখন তারা ইসলাম গ্রহণ করার ইচ্ছা করল, তখন একে অপরের দিকে তাকিয়ে যে মূর্তীর উপাসনা করত তার কথা স্মরণ করল। মূর্তীটির নাম ছিল রাব্বাহ্হ। তারা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)কে সুদ, ব্যভিচার, মদ্যপান .. প্রভৃতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি এগুলো হারাম ঘোষণা করলেন। তারা তা মেনে নিল। তারপর জিজ্ঞেস করল রাব্বাহ্ সম্পর্কে, তার কি হবে? তিনি বললেন, ওটা ভেঙ্গে ফেল। তারা বলল, অসম্ভব! রাব্বাহ যদি জানে যে আপনি তা ভেঙ্গে ফেলার আদেশ দিয়েছেন, তবে সে গ্রামবাসী এবং আশেপাশের সবাইকে মেরে ফেলবে। তখন ওমর বিন খাত্তাব (রা:) বললেন, তোমরা ধ্বংস হও! কত মূর্খ তোমরা! রাব্বাহ্ তো একটি পাথর। তারা বলল, আমরা আপনার কাছে আসি নাই হে খাত্তাবের ছেলে। তারা বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! ওটা ভাঙ্গার দায়িত্ব আপনিই গ্রহণ করুন। আমরা কখনই তা ভাঙ্গতে পারব না। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ঠিক আছে আমি এমন কাউকে পাঠাব যে তা ভেঙ্গে ফেলার জন্য যথেষ্ট হবে। ওরা অনুমতি নিয়ে কওমের মাঝে ফিরে গেল। মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিল। সবাই মুসলমান হয়ে গেল। কিছু দিন তারা সেভাবেই রইল। কিন্তু মূর্তীর ভয় তাদের অন্তরে রয়েই গেল। রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের কাছে একদল ছাহাবী প্রেরণ করলেন। তাদের মধ্যে খালিদ বিন ওয়ালিদ ও মুগীরা বিন শোহবা (রা:) ছিলেন। ছাহাবীগণ মূর্তী ভাঙ্গার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন। আর তা দেখার জন্য ক্ববীলার নারী-পুরুষ শিশু সবাইকে একত্রিত করা হল। সবাই তারা ভয়ে কাঁপছে। তাদের বিশ্বাস এ মূর্তী কেউ কখনো ভাঙ্গতে পারবে না। যে-ই তাকে অন্যায় স্পর্শ করবে তার মৃত্যু হবে।
মুগীরা বিন শোহবা (রা:) অগ্রসর হলেন। হাতে কুড়াল। তিনি সাথীদের বললেন, আমি ছক্বীফের লোকদের নিয়ে তোমাদেরকে একটু হাঁসাবো। তারপর তিনি কুড়াল দিয়ে মূর্তীর উপর একটি আঘাত করে পা খুঁড়িয়ে পড়ে গেলেন। মানুষ চিৎকার করে উঠল। তাদের ধারণা মূর্তী তাকে মেরে ফেলেছে। তারপর তারা খালেদ বিন ওয়ালিদ ও তাঁর সাথীদেরকে লক্ষ্য করে বলল এবার তোমরা যাও!
মুগীরা বিন শোহবা যখন দেখলেন মূর্তীর বিজয়ে তারা আনন্দিত হয়েছে, তখন তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে ছাক্বীফ গোত্রের লোকেরা! এটি একটি মূর্তী পাথর মাটি দিয়ে তৈরী। তোমরা আল্লাহ্র ক্ষমা গ্রহণ কর তাঁর ইবাদত কর। অতঃপর তিনি কুড়াল দিয়ে মূর্তীকে আঘাত করলেন এবং ভেঙ্গে দিলেন। তারপর ছাহাবীগণ মূর্তীর উপর চড়ে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে দিলেন।
প্রিয় পাঠক! আজ.. সমস্ত মাজার ও কবরের অবস্থা এবং এগুলোর তাওযীমকারীদের অবস্থা এরূপই। আল্লাহ্র নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)র নির্দেশ অনুযায়ী ছাহাবায়ে কেরামের আদর্শ বাস্তবায়নার্থে যদি কেউ এসমস্ত মাজার ও দরবার ভাঙ্গার কথা বলে, তবে লোকেরা তাদের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগে। ওলীর শানে বেয়াদবী হয়েছে তাই ভয়ে কম্পমান থাকে। কি জানি কি ঘটে যায়...। অথচ কোন তাওহীদবাদী যদি শির্কের ঘাঁটি এ সমস্ত মাজার ভেঙ্গে ফেলে তবে ঐ সমস্ত ওলী ও পীরদের প্রতিশোধ নেয়ার কোন ক্ষমতা নেই। অবশ্য তাঁরা যদি প্রকৃত ওলী হয়ে থাকেন, তবে একাজে আরো খুশি হবেন। এটাই স্বাভাবিক। কারণ যারা আল্লাহ্র প্রকৃত ওলী-আওলিয়া তাঁরা শির্ককে আদৌ সমর্থন করেন না। কবর পাকা করতে.. বাঁধাই করতে.. গম্বুজ উঠাতে.. নিষেধ করবেন। [. হে আল্লাহ্! আমাদের মাঝে এমন একদল তাওহীদবাদী লোক দাও, যারা শির্কের আখড়া এসমস্ত মাজার ও দরবার ভেঙ্গে আল্লাহ্র যমীনে আল্লাহ্র অধিকার খালেছ তাওহীদকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে। আমীন\]