hadith book logo

তাওহীদের কিশতী

লেখকঃ ডঃ মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান আল উরাইফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩১

৫) শেষ দিবসের প্রতি ঈমান:

মৃত্যুর পর যা ঘটবে সে সম্পর্কে আল্লাহ্‌ তাহআলা কুরআনে যা উল্লেখ করেছেন বা তাঁর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদীছে যা বলেছেন তার সবকিছু বিশ্বাস করা। প্রথমে আমরা বিশ্বাস করব কবরের শাস্তি ও শান্তি সম্পর্কে। কবরের শাস্তি বা শান্তি কুরআন ও সুন্নাহ্‌র দলীল দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ্‌ বলেন,

وَحَاقَ بِآلِ فِرْعَوْنَ سُوءُ الْعَذَابِ النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ

দুআআর ফেরাউন গোত্রকে শোচনীয় আযাব গ্রাস করল, সকালে ও সন্ধায় তাদেরকে আগুনের সামনে পেশ করা হয় এবং যেদিন ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন আদেশ করা হবে, ফেরাউন গোত্রকে কঠিনতর আযাবে দাখিল কর । (সূরা মু‘মিন- ৪৫- ৪৬)

আল্লাহ্‌ মুনাফেকদের সম্পর্কে বলেন:

سَنُعَذِّبُهُمْ مَرَّتَيْنِ ثُمَّ يُرَدُّونَ إِلَى عَذَابٍ عَظِيمٍ

দুআতাদেরকে দুহবার শাস্তি দিব, তারপর তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে ভীষণ আযাবের দিকে । (সূরা তাওবা- ১০১) আবদুল্লাহ্‌ বিন মাসঊদ (রা:) এবং অন্যরা বলেন, প্রথম আযাব হল দুনিয়াতে, দ্বিতীয়টি হল কবরের আযাব, এরপর ক্বিয়ামত দিবসে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের ভীষণ শাস্তির দিকে।

কবরের শাস্তি ও শান্তি সম্পর্কে বহু হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। ইবনুল ক্বাইয়েম (র:) বলেন এ সম্পর্কে হাদীছ সমূহ মুতাওয়াতের পর্যায়ের। (তথা সন্দেহাতীত সনদে প্রমাণিত।) এ সম্পর্কে পঞ্চাশোর্ধ হাদীছ রয়েছে। তম্মধ্যে একটি:

( أن النبي مَرَّ بِقَبْرَيْنِ فَقاَلَ : " إنَّهُماَ ليُعَذَّباَنِ وَماَ يُعَذَّباَنِ فِيْ كَبِيْرٍ أماَّ أحَدُهُماَ فَكاَنَ لاَ يَسْتَـتِـرُ مِنَ الْبَوْلِ وَأماَّ الآخَرُ فَكاَنَ يَمْشِيْ بِالنَّمِيْمَةِ )

নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা দুহটি কবরের নিকট দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, দুআকবর দুহটির অধিবাসীদেরকে আযাব দেয়া হচ্ছে। আযাবের কারণ খুব বড় নয়। হ্যাঁ উহা বড় পাপই তো। তাদের একজন চুগলখোর (যে ব্যক্তি একজনের কথা অন্যকে বলে বেড়ায়- উভয়ের মাঝে সম্পর্ক নষ্ট করার উদ্দেশ্যে) ছিল। আর অপরজন নিজেকে পেশাব থেকে পবিত্র রাখত না । (বুখারী ও মুসলিম)

আর একটি হাদীছ: রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুআ করতেন: ( اللهُمَّ إنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عّذاَبِ الْقَبْرِ ) দুআহে আল্লাহ্‌ নিশ্চয় আমি তোমার কাছে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি । (বুখারী ও মুসলিম)

কবরের শাস্তি বা শান্তি বিষয়টি গায়েবী তথা অদৃশ্যের বিষয়। বিবেক দিয়ে তা বিচার করা সম্ভব নয়।

শেষ দিবসের প্রতি ঈমানের অন্তর্গত হল:

পূনরুত্থান তথা শিংগায় ফুৎকারের সময় মৃতদের পূণরায় জীবিত হওয়ার প্রতি বিশ্বাস রাখা। সে সময় সকলেই উলঙ্গ, নগ্নপদ ও খাতনা বিহীন অবস্থায় উত্থিত হবে। আল্লাহ্‌ বলেন,

ثُمَّ إِنَّكُمْ بَعْدَ ذَلِكَ لَمَيِّتُونَ ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تُبْعَثُونَ

দুআএরপর তোমরা অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবে। অত:পর কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে । (সূরা মু’মিনূন- ১৫-১৬)

হিসাব-নিকাশ এবং প্রতিদানের প্রতি ঈমান রাখা। আল্লাহ্‌ বলেন,

إِنَّ إِلَيْنَا إِيَابَهُم ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا حِسَابَهُمْ

দুআনিশ্চয় তাদের প্রত্যাবর্তন আমারই নিকট। তারপর আমার উপরই তাদের হিসাব-নিকাশ (গ্রহণের ভার) । (সূরা গাশিয়া ২৫-২৬)

জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতি ঈমান রাখা। জান্নাত আল্লাহ্‌ ভীরুদের আবাসস্থল। এর মধ্যে এমন বস্তু রয়েছে যা কোন চক্ষু অবলোকন করেনি, সে সম্পর্কে কোন কান শোনে নি, আর না কোন মানুষের হৃদয় তা কল্পনা করতে পারে। জাহান্নাম শাস্তির স্থান। কাফের মুনাফেকদের জন্য সেখানে যে শাস্তি রয়েছে যা কল্পনাতীত।

এমনিভাবে ক্বিয়ামতের পূর্বে ছোট-বড় সবধরণের আলামত সম্পর্কে ঈমান রাখতে হবে। যেমন- দাজ্জাল বের হওয়া। আসমান থেকে ঈসা (আ:)এর অবতরণ। পশ্চিম দিক থেকে সূর্যদয়। মাটির ভিতর থেকে একটি প্রাণী বের হওয়া... ইত্যাদি।

শাফাআহত, হাউযে কাঊছার, দাঁড়ি-পাল্লা, জান্নাতের মধ্যে আল্লাহ্‌র দর্শন... ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কেও ঈমান রাখতে হবে।