hadith book logo

তাওহীদের কিশতী

লেখকঃ ডঃ মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান আল উরাইফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

একটি শিক্ষনীয় ঘটনা

কিছু লোক আছে যারা ভীত হয়, চিন্তিত-দুঃখিত হয়- যখন তারা দেখে সমাজের কিছু মানুষ সুদ, ঘুষ, ব্যভিচার, মদ্যপান... প্রভৃতি পাপাচরে লিপ্ত হয়। অথচ তাদের মধ্যে কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় না এমন লোকদের আধিক্য দেখে- যারা কবরের চৌকাঠ স্পর্শ করে বরকত চায়, সেখানে গিয়ে কান্নাকাটি করে, কবর-মাজারকে কেন্দ্র করে নানারকম ইবাদত বন্দেগী (শির্ক) করে, শির্কের চর্চা করে। অথচ ব্যভিচার, মদ্যপান প্রভৃতি কাবীরা গুনাহ্‌; কিন্তু এর মাধ্যমে ব্যক্তি ইসলাম থেকে বের হয়ে কাফের হয়ে যায় না। অন্যদিকে ইবাদতের সামান্যতম অংশ গাইরুল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে করার নাম হল শির্ক। যা নিয়ে মানুষ মৃত্যু বরণ করলে কাফের বা মুশরিক অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। একারণে আলেমগণ আক্বীদা সম্পর্কিত বিষয় সমূহের শিক্ষা দানকে মৌলিক বিষয় মনে করতেন এবং তার প্রতি সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করতেন।

জনৈক শায়খ তাওহীদের গুরুত্ব নামে একটি পুস্তক রচনা করেন এবং ছাত্রদের সামনে তা ব্যাখ্যা করতে শুরু করেন। খুঁটি-নাটি মাসআলাগুলো বারবার আলোচনা পর্যালোচনা করতে থাকেন।

একদিন ছাত্ররা তাঁকে বলল, শায়খ! আমরা চাই বিষয় পরিবর্তন করে অন্যান্য বিষয়ে আমাদেরকে শিক্ষা দিন। যেমন- ইতিহাস, কিচ্ছা-কাহিনী, সীরাত... ইত্যাদি।

শায়খ বললেন, আল্লাহ্‌ চাহে তো এ ব্যাপারে আমি চিন্তা করব। পরদিন শায়খ ক্লাশে এলেন। কিন্তু তাঁকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি খুব চিন্তিত ও দুঃখিত। ছাত্ররা কারণ জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেন, শুনলাম পার্শ্ববর্তী গ্রামে জনৈক ব্যক্তি একটি নতুন ঘর তৈরী করেছে। কিন্তু বাড়ীতে জ্বিনের উপদ্রবের সে ভয় করছে। তাই জ্বিনকে খুশি করার জন্য নতুন ঘরের দরজার সামনে একটি মোরগ যবেহ্‌ করেছে। এখবরের সত্যতা যাচাই করার জন্য আমি একজন লোক পাঠিয়েছি। ঘটনাটি শুনে ছাত্রদের মধ্যে তেমন কোন প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না। তারা বলল লোকটিকে আল্লাহ্‌ হেদায়াত করুন। আর কোন কথা বলল না।

পরদিন শায়খ ক্লাশে এলেন। বললেন, গতকালের খবর যাচাই করে আমরা যা পেয়েছি তা সম্পূর্ণ উল্টা সংবাদ। উক্ত লোকটি জ্বিনের সন্তুষ্টির জন্য মোরগ যবেহ্‌ করেনি; বরং সে নিজ মায়ের সাথে ব্যভিচার করেছে। একথা শুনে ছাত্ররা চিৎকার করে উঠল এবং লোকটিকে গালি-গালাজ করতে লাগল। তারা বলল, অবশ্যই এর প্রতিবাদ করতে হবে, তাকে যথাযথ শাস্তি দিতে হবে, তাকে তওবা করাতে হবে। এনিয়ে তারা খুবই লম্ফ-ঝম্ফ করতে লাগল।

শায়খ বললেন, কি আশ্চর্যের বিষয়! একজন মানুষ একটি কাবীরা গুনাহে লিপ্ত হয়েছে। আর তোমরা তার ব্যাপারে এত কঠোরভাবে প্রতিবাদ করছ; সে তো এর মাধ্যমে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায় নি। আর তেমন কোন প্রতিবাদ তোমাদের যবান থেকে বের হচ্ছে না এমন ব্যক্তির বিরূদ্ধে যে কিনা আল্লাহ্‌র সাথে শির্ক করেছে? আল্লাহ্‌র অধিকারে অংশী স্থাপন করেছে? গাইরুল্লাহ্‌র জন্য যবেহ্‌ করেছে? গাইরুল্লাহ্‌র ইবাদত করেছে?

একথা শুনে ছাত্ররা নিশ্চুপ হয়ে গেল। শায়খ তখন জনৈক ছাত্রকে আদেশ করলেন ওকিতাবুত্‌ তাওহীদহ নিয়ে এস, নতুনভাবে আবার তাওহীদের দরস শুরু হবে।