১
তাওহীদের কিশতী
লেখকঃ ডঃ মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান আল উরাইফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫
নাজাতের কিশতী
আল্লাহ্র তাওহীদ বা একত্ববাদকে না বুঝার কারণে তা বাস্তবায়ন না করার করণে, কত লোকই না ধ্বংস হয়ে গেছে! কত মানুষই না ক্বিয়ামত পর্যন্ত অভিশপ্ত হয়েছে!
আল্লাহ্ই একক রব মালিক। তিনি ছাড়া কারো প্রতি বান্দা ভরসা করবে না। তিনি ছাড়া কারো মুখাপেক্ষী হবে না। তাঁকে ছাড়া কাউকে ভয় করবে না। তাঁর নাম ছাড়া কারো নামে শপথ করবে না। নযর-মানত তাঁর নামেই করবে। একমাত্র তাঁর কাছেই তওবা করবে। এটাই হল তাওহীদের বাস্তবায়ন। ওলাইলাহা ইল্লাহ্রহ সাক্ষ্য দানের যথার্থতা। একারণেই আল্লাহ্ তাওআলা জাহান্নাম হারাম করেছেন এমন ব্যক্তির উপর যে সঠিকভাবে এ সাক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করেছে।
দেখুন! মুহআয বিন জাবাল (রা:) যখন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পিছনে পিছনে চলছিলেন, হঠাৎ নবীজি তার দিকে মুখ ফিরিয়ে প্রশ্ন করলেন, হে মুহআয! তুমি কি জান বান্দার উপর আল্লাহ্র হক (দাবী) কি আর আল্লাহ্র উপর বান্দার দাবী কি? তিনি বললেন, আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলই সর্বাধিক পরিজ্ঞাত। রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন,
( حَقَّ اللَّهِ عَلَى الْعِبَادِ أَنْ يَعْبُدُوهُ وَلَا يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَحَقَّ الْعِبَادِ عَلَى اللَّهِ أَنْ لَا يُعَذِّبَ مَنْ لَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا )
দুআবান্দার উপর আল্লাহ্র দাবী হল- তারা তাঁর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোন কিছুকে অংশী স্থাপন করবে না। আর আল্লাহ্র উপর বান্দার দাবী হল- যে ব্যক্তি তাঁর সাথে কাউকে অংশী নির্ধারণ করবে না তিনি তাকে শাস্তি দিবেন না । (বুখারী ও মুসলিম)
( عَنْ عَبْدِاللَّهِ بن مسعودٍ رضي الله عنه قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهم عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الذَّنْبِ أَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ قَالَ أَنْ تَجْعَلَ لِلَّهِ نِدًّا وَهُوَ خَلَقَكَ )
আবদুল্লাহ্ বিন মাসঊদ (রা:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)কে প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আল্লাহ্র নিকট সবচেয়ে বড় পাপ কোনটি? তিনি বললেন, তুমি আল্লাহ্র জন্য কোন শরীক নির্ধারণ করবে। অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন । (বুখারী ও মুসলিম)
হ্যাঁ, তাওহীদই তো হল এমন বিষয়, যা বাস্তবায়ন ও প্রচার-প্রসার করার জন্যই আল্লাহ্ তাওআলা নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ্ বলেন,
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنْ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ
দুআআর প্রত্যেক জতির কাছে আমি রাসূল প্রেরণ করেছি এই আদেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহ্র ইবাদত করবে এবং তাগূত থেকে দূরে থাকবে । (সূরা নাহাল- ৩৬) তাগূত হল প্রত্যেক এমন বস্তু, আল্লাহ্ ছাড়া যার দাসত্ব করা হয়- মূর্তী বা পাথর বা কবর বা গাছ... ইত্যাদি। তাওহীদের দাহওয়াতই হল নবী-রাসূলদের প্রথম দায়িত্ব। আল্লাহ্ বলেন,
وَاسْأَلْ مَنْ أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رُسُلِنَا أَجَعَلْنَا مِنْ دُونِ الرَّحْمَنِ آلِهَةً يُعْبَدُونَ
দুআআপনার পূর্বে যে সমস্ত রাসূল প্রেরণ করেছি তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন, আমি কি রহমান ছাড়া অন্য কাউকে তাদের জন্য মাওবূদ নির্ধারণ করেছি- যার তারা ইবাদত করবে?চ (সূরা যুখরদুআফ- ৪৫)
বরং জগত তো শুধু এজন্যই সৃষ্টি হয়েছে যে, তারা আল্লাহ্র তাওহীদকে বাস্তবায়ন করবে। আল্লাহ্ বলেন,
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
দুআআমি জিন ও মানুষকে শুধু এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে তারা আমার ইবাদত করবে । (সূরা যারিয়াত- ৫৬)
প্রত্যেকটি ইবাদত গৃহীত হওয়া তাওহীদের উপরই নির্ভরশীল। আল্লাহ্ বলেন,
وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
দুআতারা যদি শির্ক করে, তবে তাদের আমল সমূহ ধ্বংস হয়ে যাবে । (আন’আম-৮৮)
সুতরাং যে ব্যক্তি তাওহীদের বাস্তবায়ন করবে সেই মুক্তি পাবে। যেমন হাদীছে কুদসীতে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহ্ তাওআলা বলেন,
( وَمَنْ لَقِيَنِي بِقُرَابِ الْأَرْضِ خَطِيئَةً لَا يُشْرِكُ بِي شَيْئًا لَقِيتُهُ بِمِثْلِهَا مَغْفِرَةً )
দুআযে ব্যক্তি আমার কাছে হাজির হবে পৃথিবী পূর্ণ পাপরাশি নিয়ে- এমতাবস্থায় যে, সে আমার সাথে কাউকে শরীক করেনি, তবে পৃথিবী পূর্ণ মাগফিরাত নিয়ে আমি তার সামনে উপস্থিত হব । (মুসলিম, তিরমিযী হা/ ৩৪৬৩)
তাওহীদের গুরুত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের দিক বিবেচনা করে নবীগণও সে সম্পর্কে ভীত-সন্ত্রস্ত থাকতেন। দেখুন না! তাওহীদের পিতা, মূর্তী চূর্ণকারী, কাবা শরীফের নির্মাণকারী ইবরাহীম (আ:) কত বিনয়ের সাথে দুওআ করেছেন মহান মালিকের দরবারে, وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَنْ نَعْبُدَ الْأَصْنَامَ দুআ(হে আল্লাহ্) আমাকে এবং আমার সন্তানকে মূর্তীর ইবাদত থেকে দূরে রাখ । (সূরা ইবারহীম- ৩৫) সুতরাং ইবরাহীম (আ:)এর পর কে এমন আছে যে ঐ ব্যাপারে নিরাপদে থাকবে?
আল্লাহ্ই একক রব মালিক। তিনি ছাড়া কারো প্রতি বান্দা ভরসা করবে না। তিনি ছাড়া কারো মুখাপেক্ষী হবে না। তাঁকে ছাড়া কাউকে ভয় করবে না। তাঁর নাম ছাড়া কারো নামে শপথ করবে না। নযর-মানত তাঁর নামেই করবে। একমাত্র তাঁর কাছেই তওবা করবে। এটাই হল তাওহীদের বাস্তবায়ন। ওলাইলাহা ইল্লাহ্রহ সাক্ষ্য দানের যথার্থতা। একারণেই আল্লাহ্ তাওআলা জাহান্নাম হারাম করেছেন এমন ব্যক্তির উপর যে সঠিকভাবে এ সাক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করেছে।
দেখুন! মুহআয বিন জাবাল (রা:) যখন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পিছনে পিছনে চলছিলেন, হঠাৎ নবীজি তার দিকে মুখ ফিরিয়ে প্রশ্ন করলেন, হে মুহআয! তুমি কি জান বান্দার উপর আল্লাহ্র হক (দাবী) কি আর আল্লাহ্র উপর বান্দার দাবী কি? তিনি বললেন, আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলই সর্বাধিক পরিজ্ঞাত। রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন,
( حَقَّ اللَّهِ عَلَى الْعِبَادِ أَنْ يَعْبُدُوهُ وَلَا يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَحَقَّ الْعِبَادِ عَلَى اللَّهِ أَنْ لَا يُعَذِّبَ مَنْ لَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا )
দুআবান্দার উপর আল্লাহ্র দাবী হল- তারা তাঁর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোন কিছুকে অংশী স্থাপন করবে না। আর আল্লাহ্র উপর বান্দার দাবী হল- যে ব্যক্তি তাঁর সাথে কাউকে অংশী নির্ধারণ করবে না তিনি তাকে শাস্তি দিবেন না । (বুখারী ও মুসলিম)
( عَنْ عَبْدِاللَّهِ بن مسعودٍ رضي الله عنه قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهم عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الذَّنْبِ أَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ قَالَ أَنْ تَجْعَلَ لِلَّهِ نِدًّا وَهُوَ خَلَقَكَ )
আবদুল্লাহ্ বিন মাসঊদ (রা:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)কে প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আল্লাহ্র নিকট সবচেয়ে বড় পাপ কোনটি? তিনি বললেন, তুমি আল্লাহ্র জন্য কোন শরীক নির্ধারণ করবে। অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন । (বুখারী ও মুসলিম)
হ্যাঁ, তাওহীদই তো হল এমন বিষয়, যা বাস্তবায়ন ও প্রচার-প্রসার করার জন্যই আল্লাহ্ তাওআলা নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ্ বলেন,
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنْ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ
দুআআর প্রত্যেক জতির কাছে আমি রাসূল প্রেরণ করেছি এই আদেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহ্র ইবাদত করবে এবং তাগূত থেকে দূরে থাকবে । (সূরা নাহাল- ৩৬) তাগূত হল প্রত্যেক এমন বস্তু, আল্লাহ্ ছাড়া যার দাসত্ব করা হয়- মূর্তী বা পাথর বা কবর বা গাছ... ইত্যাদি। তাওহীদের দাহওয়াতই হল নবী-রাসূলদের প্রথম দায়িত্ব। আল্লাহ্ বলেন,
وَاسْأَلْ مَنْ أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رُسُلِنَا أَجَعَلْنَا مِنْ دُونِ الرَّحْمَنِ آلِهَةً يُعْبَدُونَ
দুআআপনার পূর্বে যে সমস্ত রাসূল প্রেরণ করেছি তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন, আমি কি রহমান ছাড়া অন্য কাউকে তাদের জন্য মাওবূদ নির্ধারণ করেছি- যার তারা ইবাদত করবে?চ (সূরা যুখরদুআফ- ৪৫)
বরং জগত তো শুধু এজন্যই সৃষ্টি হয়েছে যে, তারা আল্লাহ্র তাওহীদকে বাস্তবায়ন করবে। আল্লাহ্ বলেন,
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
দুআআমি জিন ও মানুষকে শুধু এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে তারা আমার ইবাদত করবে । (সূরা যারিয়াত- ৫৬)
প্রত্যেকটি ইবাদত গৃহীত হওয়া তাওহীদের উপরই নির্ভরশীল। আল্লাহ্ বলেন,
وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
দুআতারা যদি শির্ক করে, তবে তাদের আমল সমূহ ধ্বংস হয়ে যাবে । (আন’আম-৮৮)
সুতরাং যে ব্যক্তি তাওহীদের বাস্তবায়ন করবে সেই মুক্তি পাবে। যেমন হাদীছে কুদসীতে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহ্ তাওআলা বলেন,
( وَمَنْ لَقِيَنِي بِقُرَابِ الْأَرْضِ خَطِيئَةً لَا يُشْرِكُ بِي شَيْئًا لَقِيتُهُ بِمِثْلِهَا مَغْفِرَةً )
দুআযে ব্যক্তি আমার কাছে হাজির হবে পৃথিবী পূর্ণ পাপরাশি নিয়ে- এমতাবস্থায় যে, সে আমার সাথে কাউকে শরীক করেনি, তবে পৃথিবী পূর্ণ মাগফিরাত নিয়ে আমি তার সামনে উপস্থিত হব । (মুসলিম, তিরমিযী হা/ ৩৪৬৩)
তাওহীদের গুরুত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের দিক বিবেচনা করে নবীগণও সে সম্পর্কে ভীত-সন্ত্রস্ত থাকতেন। দেখুন না! তাওহীদের পিতা, মূর্তী চূর্ণকারী, কাবা শরীফের নির্মাণকারী ইবরাহীম (আ:) কত বিনয়ের সাথে দুওআ করেছেন মহান মালিকের দরবারে, وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَنْ نَعْبُدَ الْأَصْنَامَ দুআ(হে আল্লাহ্) আমাকে এবং আমার সন্তানকে মূর্তীর ইবাদত থেকে দূরে রাখ । (সূরা ইবারহীম- ৩৫) সুতরাং ইবরাহীম (আ:)এর পর কে এমন আছে যে ঐ ব্যাপারে নিরাপদে থাকবে?