hadith book logo

তাওহীদের কিশতী

লেখকঃ ডঃ মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান আল উরাইফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৫

৩) কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব বা মুমীনদের সাথে শত্রুতা:

একথায় কোন সন্দেহ নেই যে, প্রতিটি মুসলিমের উপর ওয়াজিব হল- ইহুদী, খৃষ্টান, হিন্দু তথা সমস্ত কাফেরের সাথে শত্রুতা রাখা এবং তাদের সাথে বন্ধুত্ব করা থেকে সতর্ক থাকা। যেমনটি আল্লাহ্‌ এরশাদ করেন:

يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ تُلْقُونَ إِلَيْهِمْ بِالْمَوَدَّةِ وَقَدْ كَفَرُوا بِمَا جَاءَكُمْ مِنْ الْحَقِّ

দুআহে ঈমানদারগণ! আমার শত্রু এবং তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না; তোমরা কি তাদের সাথে বন্ধুত্ব করছো, অথচ তারা তোমাদের নিকট যে সত্য এসেছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে?চ (সূরা মুমতহিনাহ্- ১) বরং আল্লাহ্‌ তাহআলা পিতা, ভাই বা আত্মীয় স্বজনের কেউ যদি কাফের থাকে, তাদেরকেও ভালবাসতে নিষেধ করেছেন। তিনি ঘোষণা করেন,

لَا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ

দুআতুমি পাবে না আল্লাহ্‌ ও আখেরাতে বিশ্বাসী এমন কোন সমপ্রদায়, যারা ভালবাসে আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচারীদেরকে, হোক না তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা অথবা তাদের জ্ঞাতি-গোত্র । (সূরা মুজাদালা- ২২) এ অর্থের আরো অনেক আয়াত রয়েছে। সবগুলো থেকে প্রমাণ হয়, কাফেরদেরকে ঘৃণা করা এবং তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করা ওয়াজিব। কেননা তারা আল্লাহ্‌কে অবিশ্বাস করে, তাঁর দ্বীনের সাথে শত্রুতা পোষণ করে। এদ্বীনের অনুসারীদের সাথে বৈরীতা রাখে; সর্বোপরি ইসলাম এবং মুসলমনাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। যেমনটি আল্লাহ্‌ বলেন,

قَدْ بَدَتْ الْبَغْضَاءُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ وَمَا تُخْفِي صُدُورُهُمْ أَكْبَرُ قَدْ بَيَّنَّا لَكُمْ الْآيَاتِ إِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُون، هَاأَنْتُمْ أُوْلَاءِ تُحِبُّونَهُمْ وَلَا يُحِبُّونَكُمْ وَتُؤْمِنُونَ بِالْكِتَابِ كُلِّهِ وَإِذَا لَقُوكُمْ قَالُوا آمَنَّا وَإِذَا خَلَوْا عَضُّوا عَلَيْكُمْ الْأَنَامِلَ مِنْ الغَيْظِ قُلْ مُوتُوا بِغَيْظِكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ،إِنْ تَمْسَسْكُمْ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْ وَإِنْ تُصِبْكُمْ سَيِّئَةٌ يَفْرَحُوا بِهَا وَإِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا إِنَّ اللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطٌ . 

দুআতাদের মুখ হতে শত্রুতা প্রকাশ হয়, আর তাদের অন্তর যা গোপন করে তা আরো গুরুতর; নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য নির্দেশাবলী ব্যক্ত করেছি, যেন তোমরা বুঝতে পার। সাবধান হও! তোমরাই তাদেরকে ভালবাস, অথচ তারা তোমাদেরকে ভালবাসে না এবং তোমরা সমস্ত গ্রন্থই বিশ্বাস কর। তারা যখন তোমাদের সাথে মিলিত হয় তখন বলে, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি এবং যখন তোমাদের থেকে পৃথক হয়ে যায়, তখন তোমাদের প্রতি আক্রোশে অঙ্গুলিসমূহ দংশন করতে থাকে। তুমি বল, তোমরা নিজেদের আক্রোশে মরে যাও! নিশ্চয় আল্লাহ্‌ অন্তরের কথা পরিজ্ঞাত আছেন। যদি তোমাদেরকে কল্যাণ স্পর্শ করে তবে তারা অসন্তুষ্ট হয়; আর যদি তোমাদের অমঙ্গল উপস্থিত হয়, তারা আনন্দিত হয়ে থাকে। যদি তোমরা ধৈর্যধারণ কর ও আল্লাহ্‌কে ভয় কর, তবে তাদের চক্রান্ত তোমাদের কোনই ক্ষতি করতে পারবে না; তারা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তা পরিবেষ্টনকারী । (সূরা আল্ ইমরান- ১১৮- ১২০)

বর্তমান যুগেও ইসলামের বিরুদ্ধে ইহুদী-খৃষ্টান চক্রের তৎপরতা কারো কাছে গোপন নয়। কিভাবে তারা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, মুসলমানদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত। ইসলামের রাস্তাকে বন্ধ করার জন্য বিশাল আকারের অর্থ ব্যয় করছে। নানাভাবে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধ কুৎসা রটনা ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানকালে কাফেরদের সাথে কতিপয় মুসলমানের বন্ধুত্বের দৃষ্টান্ত হচ্ছে: দাহওয়াতী উদ্দেশ্য ছাড়া কাফেরদের সাথে মেলামেশা, তাদের দেশে বসবাস করা, বিশেষ কোন কারণ ছাড়াই তাদের দেশে ভ্রমণে যাওয়া, জীবনের বিভিন্ন দিকে তাদের সাদৃশ্যাবলম্বন করা। যেমন, তাদের ষ্টাইলে পোষাক-পরিচ্ছেদ পরিধাণ করা.. ইত্যাদি।