hadith book logo

কুরআনের আলোকে মূসা আলাইহিস সালামের ব্যক্তিত্ব ও দা‘ওয়াহ কার্যক্রম

লেখকঃ মো: আবদুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২

(খ) দা‘ওয়াতের কাজে সহযোগী নির্ধারণ

ইসলামী দা‘ওয়াহ’র পথ পুষ্প বিছানো শয্যার মত নয়। এটি অত্যন্ত কঠিন ও কাঁটা যুক্ত পথ। এতে একাকী পথ চলা দুর্গম ও দুর্বোধ্য। তাছাড়া এটি মূলতঃ একটি সামষ্টিক কাজ। ব্যক্তির পাশাপাশি সামষ্টিক সংশোধনের জন্য এ দা‘ওয়াহ। অতএব, এক ব্যক্তির পক্ষে আঞ্জাম দেয়া খুবই দুরূহ ব্যাপার। ফলে একাজে সহযোগীর গুরুত্ব অত্যাধিক। তাই মূসা আলাইহিস সালাম তার দাওয়াতী কাজে সহযোগিতা করার জন্য একান্ত আপনজনকে সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দেয়ার জন্য আল্লাহ তা‘আলার দরবারে প্রার্থনা করেন। তিনিই একমাত্র রাসূল যিনি রিসালাতের দায়িত্ব আঞ্জাম দেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম সাহায্যকারী চেয়েছেন। [আব্দুল্রাহ আল-আলূসী, তারিখুত দা‘ওয়াহ ইলাল্রাহি বাইনাল আমছি ওয়াল ইয়াওম, (কায়রো: মাকতাবা ওয়াহবা, তা. বি), ৬০।] পবিত্র কুরআনে এসেছে, ‘‘আমার জন্য আপনজন হতে আমার ভাই হারূনকে সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও। তার মাধ্যমে আমার হাত শক্তিশালী কর এবং তাকে আমার কাজে শরীক করে দাও, যাতে আমরা খুব বেশী করে তোমাকে স্মরণ করতে পারি। নিঃসন্দেহে আপনি আমাদের সবকিছু পর্যবেক্ষণ করেন।” [আল-কুরআন, সূরা ত্ব-হা : ২৯-৩৫।] অত্র আয়াতের মাধ্যমে মূসা আলাইহিস সালাম নবুওয়তের মহান দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করার জন্য স্বীয় ভাইয়ের নবুওয়ত প্রার্থনা করেছিলেন। এ ছাড়া দা‘ওয়াতের এক্ষেত্রে একজনের বক্তব্যের চেয়ে দু‘জনের বক্তব্য অধিক শক্তিশালী ও জোরালো হয়ে থাকে। ফলে সামষ্টিকভাবে দা‘ওয়াহকে সহজতর পন্থায় মানব সমাজের সামনে তুলে ধরার কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয়।